স্মরণ: ওস্তাদ ফুল মোহাম্মদ

শোবিজ ডেস্ক: মাত্র সাড়ে তিন বছর বয়সে সংগীতে হাতেখড়ি হয় বাবার কাছে। সংগীত অনুরাগী বাবা পুত্রকে রাগসংগীত শেখানোর সিদ্ধান্ত নেন। এরপর বাবার বন্ধু শিল্পী মেঘবাবুর কাছে তালিম নেন। দুই বছর পরে মেঘবাবু তাকে পাঠান ওস্তাদ কাদের বক্সের কাছে। পাঁচ বছর তার কাছে শিক্ষা নেন। ওস্তাদ কাদের বক্স অসুস্থ হয়ে পড়লে সেতার পণ্ডিত রামগোবিন্দ পাঠকের কাছে শিখতে থাকেন গান।

এভাবে চলতে চলতে ১৯৩৬ কিংবা ’৩৭ সালে অল ইন্ডিয়া রেডিওতে অডিশন দেন। উত্তীর্ণ হন। সংগীতের প্রতি নিবেদিত এ শিল্পী ওস্তাদ ফুল মোহাম্মদ।

১৯২১ সালে ভারতের মুর্শিদাবাদে জš§ তার। তার দাদা শেখ কালু মিয়া গজলশিল্পী ছিলেন। বাবা ছিলেন নামকরা গায়ক। মা মায়মুনা খাতুন সম্পর্কে তেমন কিছু জানা যায়নি।

কলকাতায় সেই অডিশন শেষে তাকে মেগাফোন কোম্পানির সংগীত প্রশিক্ষক ভীষ্মদেব চট্টোপাধ্যায়ের কাছে নিয়ে যান চাচা। গানে মুগ্ধ হয়ে তার কাছে গান শেখার পরামর্শ দেন ভীষ্মদেব।

১৯৩৭ ও ১৯৩৮ সালে অল বেঙ্গল মিউজিক কম্পিটিশনে ছয়টি বিষয়ে অংশ নেন। এর চারটিতে প্রথম ও দুটিতে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। ১৯৩৯ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে কলেজ মিউজিক কম্পিটিশনে রাগসংগীতে প্রথম ও গজলে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন।

সংগীত সূত্রে কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে তার পরিচয় হয়।  ফুল মোহাম্মদকে দিয়ে ‘ইয়া মোহাম্মদ বেহেশত হতে’ ও ‘আঁধার মনের মিনারে মোর’ এ গান দুটি রেকর্ড করান কাজী নজরুল ইসলাম। পরে ওস্তাদ মেহেদী হোসেন ফুল মোহাম্মদকে নিজের ছেলে হিসেবে পরিচয় দেন। প্রায় চার বছর তিনি ওস্তাদ মেহেদী হাসানের কাছে তালিম নেন। ১৯৪৭ সালের কিছু আগে সিভিল সাপ্লাই ডিপার্টমেন্টে চাকরি নেন ওস্তাদ ফুল মোহাম্মদ। একই সময়ে জরিনা বেগমকে বিয়ে করেন। দেশভাগের পর ঢাকায় এসে তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন।

একই সময় ঢাকা বেতারের সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি বেশ কিছুদিন রেডিও ও টেলিভিশনে উচ্চাঙ্গ সংগীতসহ নজরুল সঙ্গীতের পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। ১৯৬৫ সালে ছায়ানটে রাগসংগীতের ওপর শিক্ষকতা শুরু করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এখানে ছিলেন। ১৯৬৭ সালে নজরুল একাডেমি প্রতিষ্ঠার পর সেখানে উপাধ্যক্ষ হিসেবে কাজ করেন। এছাড়া শিল্পকলা একাডেমির উচ্চতর প্রশিক্ষণ কোর্সে প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন অনেকদিন। ১৯৭২ সালে অগ্নিবীণা সংগীত নিকেতনের অধ্যক্ষ হন। ১৯৮০ সালে ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইজর হিসেবে সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেন। ১৯৮৯ সালে আলতাফ মাহমুদ সংগীত বিদ্যালয়ে অধ্যক্ষ নির্বাচিত হন। ১৯৯৪ সালে নজরুল একাডেমির অধ্যক্ষ হন।

১৯৮২ সালে একুশে পদক অর্জন করেন। ২০০০ সালে আজকের দিনে ক্যান্সারের কারণে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন ওস্তাদ ফুল মোহাম্মদ।