সড়ক দখল করে মুন্সীগঞ্জে অবৈধ বালির ব্যবসা

শেখ মোহাম্মদ রতন, মুন্সীগঞ্জ: মুন্সীগঞ্জ শহরের উপকণ্ঠ পঞ্চসার ইউনিয়নের মালির পাথর ও ফিরিঙ্গিবাজার এলাকায় সড়ক দখল করে দীর্ঘদিন ধরে চলছে অবৈধ বালি ব্যবসা। এতে রাস্তাঘাট ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হলেও পরিবেশ অধিদফতরের ভ্রুক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরেজমিনে দেখা যায়, মুক্তারপুর ও মালির পাথর এলাকায় প্রায় ২০ স্থানে অবৈধভাবে বালি বিক্রি করা হচ্ছে। শুধু ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে চলছে এসব অবৈধ বালু ব্যবসা। এছাড়া নেই পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র এবং মানা হচ্ছে না নিষেধাজ্ঞা। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নাকের ডগায় বালির রমরমা অবৈধ ব্যবসা চললেও পরিবেশ অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো মাথাব্যথা নেই। এসব বালু ব্যবসায়ীর কারণে মুন্সীগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধের মালির পাথর এলাকার বিভিন্ন স্থান ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। বাঁধটির ওপর দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল করছে। তাছাড়া ফিরিঙ্গিবাজার এলাকার বিভিন্ন স্থানে বাঁধের ওপর দিয়ে নদী থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত বালু উত্তোলন করছে একটি প্রভাবশালী চক্র।
সড়কের পাশে বালি বিক্রির এ ধরনের একাধিক স্থান তৈরি হওয়ায় বাতাস এলেই বালি উড়ে পথযাত্রীদের নাকে-মুখে ঢুকছে। এসব বালি বাতাসে উড়ে গাড়ির যাত্রী ও পথচারীদের শরীরে পড়ে নোংরা হচ্ছে কাপড়চোপড়।
পথচারী হƒদয় সূত্রধর, উজ্জ্বল শেখ, পুলক সাহা, রহিম মিয়া, মামুন দেওয়ানসহ অনেকে জানান, দুপুর হলে এ এলাকা দিয়ে রিকশায় কিংবা পায়ে হেঁটে চলাচল করাও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাছাড়া রাস্তার ওপর দিয়ে পণ্যবাহী শত শত যানবাহন চলাচল করছে ঝুঁকি নিয়ে। একটি গাড়ি যাওয়ার পর প্রায় ১০-১৫ মিনিট পর্যন্ত বাতাসে বালি ওড়ে।
মালিরপাথর এলাকার বেশ কয়েকজন গৃহবধূ জানান, রাস্তার ধুলাবালি বাতাসে উড়ে বাসাবাড়িতে যাচ্ছে। বাড়িঘর নোংরা হচ্ছে। তারা ঘরের বাইরে কোনো কাপড়চোপড় শুকাতে দিতে পারেন না। বালির কারণে ভালো করে নিঃশ্বাস নিতেও পারছেন না তারা। ছেলেমেয়েদের শ্বাস-প্রশ্বাসের নানা সমস্যা হয়। বাচ্চাদের ঠাণ্ডা ও অ্যালার্জিজনিত রোগবালাই লেগেই থাকে। তাই এসব বিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
অবৈধ বালি ব্যবসায়ীরা জানান, এটা গ্রামের রাস্তা। আমরা এখানে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করছি। তিনি জানান, এতে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে, কিন্তু সবাই তো করছে, তাদের গিয়ে জিজ্ঞেস করেন। পরে একাধিক বালিগদিতে গিয়ে মালিকপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি। সেখানে কর্মচারীদের পাওয়া গেলেও তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
এ প্রসঙ্গে জেলা পরিবেশ অধিদফতরের কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, সড়কের পাশে, জনবসতি কিংবা লোকালয়ে পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক এমন বালির স্তূপ পরিবেশ আইনে কখনোই সমর্থনযোগ্য নয়। তবে বালি ব্যবসার বিষয়ে তাদের কিছু করার নেই, কারণ এর কোনো লাইসেন্স তারা দেননি। বালির বিষয়ে তারা দেখেন না, শুধু কলকারখানার দূষণের বিষয়টি তাদের আওতাভুক্ত।
এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা জানান, মানুষের বসবাসের স্থানে সরকারি রাস্তা অবৈধ দখল করে তার পাশে এসব অবৈধ বালির ব্যবসা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। তবে বিষয়টি সরেজমিনে ক্ষতিয়ে দেখে তিনি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।