হজ গমনেচ্ছুদের যাত্রা নিশ্চিত করুন যথাসময়ে

হজযাত্রী সংকটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা বেড়েই চেলেছে। শুক্রবার শেয়ার বিজে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১০টি হজ ফ্লাইট বাতিল করেছে বিমান কর্তৃপক্ষ। বিমানকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও ২৭ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত ১০টি হজ ফ্লাইট যাত্রীর অভাবে বাতিল করা হয়েছে। অব্যাহত যাত্রী সংকটে আরও ফ্লাইট বাতিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সংস্থাটি। বারবার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও হজ এজেন্সিগুলো যথাসময়ে টিকিট না কেনায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাড়ি ভাড়া ও ভিসার আগেই এ বছর টিকিট কেনার নির্দেশনা থাকলেও এখনও নির্ধারিত টিকিটগুলো কেনেনি অনেক এজেন্সি। প্রাপ্ত তথ্যমতে, হজ এজেন্সিগুলো সৌদি আরবে বাসা ভাড়া নিশ্চিত করতে না পারা এবং রিপ্লেসমেন্ট ১৫ শতাংশ মেনে না নেওয়ায় টিকিট সংগ্রহ করেনি। তবে যাত্রী স্বল্পতায় কয়েকটি হজ ফ্লাইট বাতিলের পর কিছু শর্ত দিয়ে হজযাত্রী প্রতিস্থাপন আট শতাংশ বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করে সরকার। অর্থাৎ নিবন্ধিত হজযাত্রী যেতে না পারলে নিবন্ধিত অন্য ব্যক্তিকে হজে পাঠানো যাবে আর প্রতিস্থাপন করা যাবে তালিকার সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ হজযাত্রীর নাম।
হজ শুরুর ৫০ দিন আগেই বিমানের টিকিট বিক্রি শুরু হলেও এজেন্সিগুলো সময়মতো তা সংগ্রহ না করায় এখনও পাঁচ হাজার ৭০০ টিকিট অবিক্রীত রয়েছে। অন্যদিকে নির্দিষ্ট ফ্লাইটের বাইরে সৌদি কর্তৃপক্ষ আর কোনো সøট দেবে না বাংলাদেশকে। এতে সব হজযাত্রী পরিবহন নিয়ে তৈরি হচ্ছে শঙ্কা। এজন্য বিমানের পক্ষ থেকে টিকিট কিনতে এজেন্সিগুলোকে বারবার আহ্বান জানানো হচ্ছে। আবার এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ আর হজ এজেন্সি অব বাংলাদেশ (হাব) ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে। হাবের মতে, হজযাত্রার আগেই হজ-সংক্রান্ত তথ্য দিতে বলা হলেও তা দেয়নি বিমান। ফলে যাত্রী সংকটে যে ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, এর সমাধান করতে হবে তাদেরই। আবার বিমান বলছে, ৫২৮টি এজেন্সিকে প্রতিনিয়ত ইমেইলে জানিয়ে বারবার টিকিট নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। তারা টিকিট নিশ্চিত করলে কোনো ফ্লাইটই বাতিল করতে হতো না। এজন্য এজেন্সিগুলো দায়ী। হজযাত্রার মতো ধর্মীয়ভাবে স্পর্শকাতর বিষয়ে এ ধরনের পারস্পরিক দোষারোপ কারও কাম্য নয়।
এদিকে যাত্রী স্বল্পতায় বাতিল হওয়া হজ ফ্লাইট সম্পর্কে ধর্ম মন্ত্রণালয়কে জানানো হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া যেত বলে দাবি করেছেন সচিব। তারা নাকি হজ ফ্লাইটের তথ্য পেয়েছেন গণমাধ্যম থেকে। ফ্লাইট বাতিল বিষয়ে আগে জানলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া যেত বলে ধর্ম সচিব যে দাবি করছেন, সেটির সঙ্গে দ্বিমতের সুযোগ আছে। হজ ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা নতুন নয়, কয়েক বছর ধরেই ঘটছে। এর দায় এড়াতে পারে না হজ এজেন্সি, ধর্ম মন্ত্রণালয়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়সহ অংশীজন।
ফ্লাইট বাতিলের দায় আসলে কার কিংবা ধর্ম মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নিতে পারত কি না, এ নিয়ে বিতর্কের সময় অবশ্য এখন নয়। ফ্লাইট, টিকিটসহ সব বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়হীনতা দূর করতে হবে দ্রুত। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এ বছর হজ অনুষ্ঠিত হবে ২০ আগস্ট। হজযাত্রীদের সৌদি আরবে যাত্রার প্রথম ফ্লাইট ছিল ১৪ জুলাই। যাত্রার শেষ ফ্লাইট ১৫ আগস্ট। তাই ১০ দিনের মধ্যেই সব হজযাত্রীকে পাঠানো নিশ্চিত করতে হবে। এখন প্রথম কাজ হলো সৌদি আরবের কাছে অতিরিক্ত সøট চেয়ে আবেদন করা। এর বরাদ্দ মিললে নিয়মিত ডেডিকেটেড ফ্লাইটের পাশাপাশি অতিরিক্ত ফ্লাইটের ব্যবস্থা করতে হবে। তাতে যথাসময়ে সব হজযাত্রীকে সৌদি আরবে পাঠানো সম্ভব হবে।