দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

হজ ফ্লাইট শুরু ৪ জুলাই ফিরতি ১৭ আগস্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক: হজযাত্রীদের বিড়ম্বনায় পড়ার প্রধান কারণ হচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগী। হজে যাওয়ার ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে টাকা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে হজ এজেন্সি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)। পবিত্র হজ পালনে আগামী ৪ জুলাই শুরু হবে হজ ফ্লাইট। ৫ আগস্ট পর্যন্ত চলবে এ হজ ফ্লাইট। আর হজের ফিরতি ফ্লাইট ১৭ আগস্ট শুরু হবে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। গতকাল দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন এসব তথ্য জানানো হয়।
তথ্যমতে, এ বছর হজে যাবেন এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন। এর মধ্যে ৬৩ হাজার ৫৯৯ জনকে পরিবহন করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। বাকি যাত্রীরা অন্য এয়ারলাইনসে করে যাবেন সৌদি আরব।
বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবারই প্রথমবারের মতো ঢাকা থেকে মদিনায় ১১টি হজ ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। এছাড়া চট্টগ্রাম থেকে জেদ্দায় ১০টি, সিলেট থেকে জেদ্দায় তিনটি, চট্টগ্রাম থেকে মদিনায় সাতটি ডেডিকেটেড হজ ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। বাকি ১২৬টি ফ্লাইট ঢাকা থেকে জেদ্দায় নিয়ে যাবে হজযাত্রীদের। হজ ফ্লাইটে নিজস্ব বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজ ব্যবহার করবে বিমান।
এ বছরই প্রথম ঢাকায় ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করা হবে হজযাত্রীদের। ফলে সৌদি আরবে গিয়ে ইমিগ্রেশনের জন্য লাইনে দাঁড়াতে হবে না তাদের। তবে এ কারণে ফ্লাইটের একদিন আগেই হজযাত্রীদের তথ্য সৌদি আরবে পাঠাতে হবে। ওই সময়ের পর ফ্লাইটে নতুন করে যাত্রী নেওয়া যাবে না। এ কারণে হজ এজেন্ট ও যাত্রীদের ফ্লাইট ছেড়ে যাওয়ার ২৪ ঘণ্টা আগেই যাত্রার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
চলতি বছর নির্ধারিত শিডিউলের বাইরে অতিরিক্ত সøট দেবে না সৌদি আরব সরকার। জটিলতা এড়াতে এ বছর কোনো যাত্রী হজ ফ্লাইটের যাত্রা বাতিল করলে বা সময় পরিবর্তন করলে জরিমানা আদায় করবে বিমান।
এদিকে হাব সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, হজযাত্রীদের বিড়ম্বনায় পড়ার প্রধান কারণ মধ্যস্বত্বভোগী। হজযাত্রীরা দয়া করে মধ্যস্বত্বভোগী ও দালালদের কাছে টাকা দেবেন না। শুধু সরকার অনুমোদিত হজ এজেন্সিগুলোর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হবেন। হজ এজেন্সিগুলোর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর কেউ কোনো বিড়ম্বনায় পড়লে তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপর এক প্রশ্নের উত্তরে হাব সভাপতি বলেন, ফ্লাইটের টিকিট নিশ্চিত হওয়ার পর সৌদি আরবে বাড়ি ভাড়া করার জন্য সরকার ও হজ এজেন্সিগুলো উদ্বুদ্ধ করে আসছে। কিন্তু এয়ারলাইনসগুলোর কারণে এখনও টিকিট নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায়ই আমরা বাড়ি ভাড়ার কাজ শুরু করে দিয়েছি। এয়ারলাইনসগুলোর কারণে ফ্লাইটের টিকিট নিশ্চিত করে তারপর বাড়ি ভাড়া করা সম্ভব হচ্ছে না।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের ওমরাহ যাত্রী ও মধ্যপ্রাচ্যগামী অভিবাসীদের ফ্লাইটে তীব্র আসন সংকট এবং দ্বিগুণ ভাড়া বৃদ্ধির কথা তুলে ধরা হয়। এ নিয়ে হাব সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর লক্ষাধিক ওমরাহ যাত্রী সৌদি আরবে যান। এখন সারা বছরই ওমরাহ পালনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এয়ারলাইনসগুলোতে ওমরাহযাত্রীর আসন সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এ সুযোগে এয়ারলাইনসগুলো ফ্লাইটের ভাড়া অসহনীয় মাত্রায় বৃদ্ধি করেছে। যেখানে ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা ওমরাহযাত্রীর উড়োজাহাজ ভাড়া ছিল ৫০ হাজার টাকা, এখন সেটি বেড়ে হলো ৮০-৮৫ হাজার টাকা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৯০-৯৫ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। এত বেশি ভাড়া দিয়েও ফ্লাইট পাওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থা চলতে থাকলে এ বছর কমপক্ষে ২০ হাজার ওমরাহযাত্রী ভিসা সংগ্রহ ও হোটেল বুকিং করার পরও রমজানে ওমরাহ পলন করতে পারবেন না। যদিও অর্থনৈতিক দিক থেকে এ ২০ হাজার ওমরাহযাত্রীর ভিসা ও হোটেল বাবদ এরই মধ্যে খরচ হয়েছে ৮০ থেকে ৯০ কোটি টাকা। এছাড়া উড়োজাহাজ ভাড়ার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে অভিবাসন ব্যয়ও অনেক বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবার গরিব অভিবাসীরা বর্ধিত ব্যয় বহন করতে না পারায় ভিসার মেয়াদও শেষ হয়ে যাচ্ছে।
এদিকে, এ সংকট দূর করতে হাবের পক্ষ থেকে দুটি প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সমস্যা সমাধানে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের যেসব রুটে যাত্রীসংখ্যা কম ও অলাভজনক অবস্থা, সেসব রুটের ফ্লাইট কমিয়ে ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা, ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকাসহ মধ্যপ্রাচ্যগামী অন্যান্য রুটে ফ্লাইটসংখ্যা বৃদ্ধি করা। এছাড়া বিদেশি এয়ারলাইনসগুলোকে বাংলাদেশে ফ্লাইট পরিচালনার সহজ সুযোগ দেওয়ার জন্য ওপেন স্কাই করা এবং তাদের উৎসাহী করার জন্য হ্যান্ডলিং, ল্যান্ডিং, পার্কিংসহ অন্যান্য চার্জ কমানো বা মওকুফ করা যেতে পারে।
এ সমস্যা সমাধানে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে বলেও হাব সভাপতি জানান।

সর্বশেষ..