হবিগঞ্জে বেড়েছে চুরি-ডাকাতি উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ীরা

শেয়ার বিজ প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ: চুরি-ডাকাতি যেন নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে হবিগঞ্জে। প্রতিদিনই শহরের কোনো না কোনো বাসাবাড়ি কিংবা ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে চুরি-ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। শুধু শহরেই নয়, শহরের বাহিরেও প্রতিদিনই ঘটছে চুরি-ডাকাতি। তবে চুরি-ডাকাতি বৃদ্ধির জন্য প্রশাসনের ব্যর্থতাকেই দায়ী করছেন সচেতন মহল।
জানা গেছে, গত সোমবার ভোরে হবিগঞ্জ শহরতলীর জালালাবাদ নোয়াগাঁও এলাকায় দুটি বাসায় ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ১৫-২০ জনের একদল মুখোশধারী ডাকাত ব্যবসায়ী টেনু মিয়ার বাসার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে বাসার সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে লুটপাট চালায়। ডাকাতরা বাসায় থাকা টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান সামগ্রী লুট করে। পরে তারা টেনু মিয়ার প্রতিবেশী প্রবাসী
মোফাজ্জল হক রনির বাসায় হানা দিয়ে পরিবারের সদস্যদের হাত-পা বেঁধে লুটপাট চালায়। খবর পেয়ে সকালে ব্যবসায়ী নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধে পুলিশ প্রশাসনকে আরও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর শহরের ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকার দুই ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনা ঘটে। দোকানগুলো থেকে টাকা ও বিপুল পরিমাণ বৈদ্যুতিক তার নিয়ে যায়। চুরি যাওয়া দোকানগুলো হচ্ছে পাওয়ার পয়েন্ট ইলেকট্রনিক ও পদ্মা ইলেকট্রনিক।
সম্প্রতি চুরি-ডাকাতি বেড়ে যাওয়ায় মানুষের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অনেক ব্যবসায়ী বাসায় না গিয়ে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেই রাতযাপন করছেন। তবে চুরি ডাকাতি বৃদ্ধির জন্য প্রশাসনকেই দায়ী করলেন ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি পুলিশি টহল জোরধারসহ চুর-ডাকাতদের বিরুদ্ধে কার্যকরি কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করার কারণেই চুরি-ডাকাতি বৃদ্ধি পেয়েছে।
শহরের চৌধুরী বাজারের ব্যবসায়ী আবদুল মজিদ জানান, চুরি-ডাকাতি এখন নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিটি রাত তাদের আতঙ্কের মধ্যে কাটছে। সেসঙ্গে ডাকাতদের হামলায় আহত হওয়ার খবর দুশ্চিন্তাকে আরও গভীর করে তুলেছে।
অপর এক ব্যবসায়ী জানান, শহরে কিছু চিহ্নিত চোর-ডাকাত আছে। তাদের গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই মূলত বিষয়টি সমাধান করা সম্ভব। এছাড়া এলাকার জুয়াড়িরাও এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে। তাই তাদের গ্রেফতার করতে হবে। কিন্তু পুলিশ বিষয়টি নিয়ে জোরালভাবে কোনো কাজ করছে না। ঘাটিয়া এলাকার রঞ্জন দাস জানান, চুরি ডাকাতির ঘটনা শুনলেই কেমন যেন ভয় লাগে। এ চুরি ডাকাতি প্রতিরোধে পুলিশকে আরও জোরালভাবে কাজ করতে হবে।
হবিগঞ্জ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির (ব্যাকস) সভাপতি শামছুল হুদা জানান, চুরি ডাকাতি নিয়ে তারা আতঙ্কিত। নোয়াগাঁও পয়েন্টে তিন গ্রামের লোকজনকে নিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। কিন্তু এসপি সাহেব মাধবপুর থাকার কারণে তা বাতিল করা হয়েছে। তিনি হবিগঞ্জ ফিরলে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
সদর থানার ওসি সহিদুল ইসলাম জানান, ডাকাতির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এছাড়া বিষয়টি তদন্ত করে দেখা চচ্ছে। সম্প্রতি হবিগঞ্জ শহরের চুরি-ডাকাতি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ জানতে চাইলে ওসি জানান, কেন চুরি-ডাকাতি বৃদ্ধি পেয়েছে তা পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।