হল সমাপনী: উচ্চশিক্ষার শেষ পাঠ

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর আবাসিক হলে একই রুমে থাকার সিট পেয়েছে জিয়া রহমান ও মো. শাহানেওয়াজ সজল। বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া হলে থাকতেন তারা। একসঙ্গে আবাসিক হলের আনন্দ-আড্ডা উপভোগ করেছে তারা। পার করেছে অনেক মধুর সময়। সম্প্রতি স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে উচ্চশিক্ষার গণ্ডি পেরিয়ে গেলেন তারা। ঐতিহ্য অনুযায়ী বিদায় নিতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদায় নেওয়াটাও একটা ঐতিহ্য। সব শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তর সম্পন্ন হওয়ার পর হলে আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিয়ে সমাপনী উৎসব উদ্যাপন করা হয়। হল ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আয়োজনে এ সমাপনী উৎসবে অংশ নেন শিক্ষার্থীরা। আয়োজন করা হয় জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। থাকে ব্যান্ড পার্টি, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আবিরের সাজে সাজা, হলমেটদের নিয়ে ভ্রমণ, ভুঁড়িভোজ, প্রীতি ফুটবল, ক্রিকেট ম্যাচ প্রভৃতি।

উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এ ধারাবাহিকতায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোয় চলছে সমাপনীর আয়োজন। ইতোমধ্যে মতিহার হলে সমাপনীর আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। সম্প্রতি সমাপনীর আয়োজন করা হয় জিয়াউর রহমান হলে। ‘বন্ধুত্বে বন্ধন, সমাপনীর বাঁধন’স্লোগানে হলটির ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ছিল এ আয়োজন। সমাপনীর নাম দেওয়া হয় অনির্বাণ সমাপনী-২০১৭। দুই দিনে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ছিল সমাপনীকে ঘিরে। অনুষ্ঠানে ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের ৮২ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন।

১৯৯৩-৯৪ শিক্ষাবর্ষে কেন্দ্রীয়ভাবে হল সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে কিছু ঝামেলার কারণে তা বন্ধ হয়ে যায় বলে জানা যায়। পরে সব হলে আলাদাভাবে সমাপনীর আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আব্দুস সোবহান। জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক অনিল চন্দ্র দেব অনুষ্ঠানে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। উপাচার্য বলেন, পাঠ্যবই আমাদের সবকিছু শেখাতে পারে না। সৃজনশীলতা, ভালো মানুষ হওয়া, দেশের জন্য কাজ করার মনমানসিকতাও শিক্ষার্থীদের তৈরি করতে হবে। কী শিখলাম আর কী করছি, সেটা মেলাতে হবে।

 

চন্দ্রবিন্দু, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়