হারম্যান মেইনার অ্যাওয়ার্ড ২০১৮ ভোট দিন আরিফুলকে

 

প্রতি দুবছরে মানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার স্বীকৃতিস্বরূপ এসওএস শিশুপল্লী ইন্টারন্যাশনাল হারম্যান মেইনার অ্যাওয়ার্ড দিয়ে থাকে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মানবতার সেবায় যারা নিজেদের বিলিয়ে দেন, তাদের মধ্য থেকে বাছাই করা চারজনের মধ্যে ভোটের ব্যবস্থা করা হয়। সর্বোচ্চ ভোটের অধিকারীকে দেওয়া হয় হারম্যান মেইনার অ্যাওয়ার্ড। ২০১৮ সালে বাছাই করা চারে রয়েছেন একজন বাংলাদেশি। তিনি কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার ডা. মোহাম্মদ আরিফুল হক।

সাভারের গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিক্যাল কলেজের দশম ব্যাচের সাবেক এই শিক্ষার্থী ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ নামে পরিচিত। ২০১৪ সালে এমবিবিএস পাস করে মিসরে পাড়ি জমান ২০১৬ সালের ২৫ মে। ডা. মোহাম্মদ আরিফুল হক বর্তমানে মিসরের কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের কসর এল আইনি মেডিক্যাল স্কুলে অর্থোপেডিক সার্জারিতে মাস্টার্স করছেন।

এসওএস শিশুপল্লীতে বড় হওয়া ডা. আরিফ তার জীবনের সব ক্ষেত্রে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। স্কুল জীবন থেকে শুরু করে মেডিক্যাল জীবনের প্রায় পুরোটা অংশ কোনো না কোনোভাবে মানবসেবায় নিয়োজিত ছিলেন।

সিডর ও আইলার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের পাশে থেকে দুঃখ-দুর্দশা লাঘব করেছেন। ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধসে আটকেপড়া মানুষদের উদ্ধারে ও পরবর্তী সময়ে তাদের চিকিৎসায়ও অংশ নিয়েছেন। রোহিঙ্গা শিবিরের দুস্থ, অসুস্থ প্রায় ১২০০ শিশু ও বৃদ্ধকে বিনা খরচে চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের সঙ্গে মিলে।

দেশের পাশাপাশি মানবতার ডাকে সাড়া দিয়েছেন দেশের বাইরেও। ২০১৫ সালের ভূমিকম্পে ক্ষতবিক্ষত নেপালের জন্য সাহায্য তুলেছেন রাস্তায় ঘুরে ঘুরে। পাকিস্তানের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাজ করেছেন। মিসরে গিয়েও প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে বর্তমানে কায়রোতে অবস্থানরত সব বাংলাদেশির জন্য ‘ফ্রি ফ্র্রাইডে ক্লিনিক’ চালু করেছেন, যেখানে তিনি নিয়মিত ফ্রি চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন। মিসরে অবস্থানরত প্রবাসীদের জন্য চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিষয়ে তার দরজা সব সময় খোলা।

ডা. মোহাম্মদ আরিফুল হক জানান, স্বাস্থ্যসেবার মাধ্যমে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। সাধারণ মানুষের জন্য এমন একটি হাসপাতাল করতে চান, যেখানে স্বল্প খরচে সর্বাধুনিক সেবা পাওয়া যাবে। তিনি বাংলাদেশের অর্থোপেডিক সমস্যা সমাধানে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে চান।

আপনার একটি মূল্যবান ভোট আরিফুলকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে সহায়তা করবে। তাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করা হলে বাংলাদেশেরই জয় হবে, বিশ্ব জানবে মানবতার সেবায় বাঙালিরাও পিছিয়ে নেই, দেশের উজ্জ্বল ভাবমূর্তি আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে। ভোট দেওয়া যাবে আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত।

ভোট দিতে ক্লিক করুন  www. sos-childrensvillages.org/hermann-gmeiner-award-২০১৮ এই লিংকে।

 

মুন্নি আক্তার