সম্পাদকীয়

হালদা রক্ষায় ব্যবস্থা নিন

বাংলার অর্থনীতি ও ইতিহাস-ঐতিহ্যের অপরিহার্য অনুষঙ্গ নদনদী। প্রাচীন বাংলার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য নদীর ভূমিকা সর্বজনবিদিত। নদী মাঝেমধ্যে রুদ্ররূপ ধারণ করে। সে ক্ষেত্রেও দায় মানুষের। দখল, দূষণ, অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ প্রভৃতির মাধ্যমে মানুষ নদীকে ক্ষত-বিক্ষত করে, নদীর গতিপ্রবাহ পাল্টে দেয়। আশার কথা, নদীকে দখলমুক্ত করতে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। নদীকে ‘জীবন্ত সত্তা’ ঘোষণা করেছেন উচ্চ আদালত। এ-সংক্রান্ত রায়ে উচ্চ আদালত বলেছেন, ‘মানুষের জীবন-জীবিকা নদীর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মানবজাতি টিকে থাকার অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে নদী। নাব্যসংকট ও বেদখল থেকে নদী রক্ষা করা না গেলে বাংলাদেশ তথা মানবজাতি সংকটে পড়তে বাধ্য। নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের সরকার আইন প্রণয়ন করে নদীকে দখল থেকে রক্ষার চেষ্টা করছে। নদী রক্ষায় আন্তর্জাতিকভাবে জাগরণ শুরু হয়েছে। ’
দুঃখজনক হলো, নদীদূষণ বন্ধে এত আদেশ-নিষেধেও নিবৃত্ত হচ্ছে না অনেকে। বৃহস্পতিবার হালদা নদ দূষণ রক্ষায় হাটহাজারী বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদফতর। বর্জ্য তেল নিঃসরণের মাধ্যমে প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদী দূষণের অভিযোগে হাটহাজারী ১০০ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার প্লান্ট বিদ্যুৎকেন্দ্রটিকে ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছে পরিবেশ অধিদফতর। পাশাপাশি বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থা চালু করা পর্যন্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ অধিদফতরের নির্দেশ যাতে যথাযথভাবে পরিপালিত হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে। এছাড়া অন্য যারা
দূষণ-দখলে হালদার প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যকে বিনষ্ট করছে, তাদের বিরদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
হালদা পৃথিবীর একমাত্র জোয়ার-ভাটার নদ, যেখানে রুইজাতীয় মাছ ডিম ছাড়ে এবং নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করা হয়। হালদার সঙ্গে অন্য কোনো নদীর সংযোগ না থাকায় রুইজাতীয় মাছের ‘জিনগত মজুদ’ সম্পূর্ণ অবিকৃত রয়েছে। প্রতিবছর হালদা নদীতে একটি বিশেষ সময় ও বিশেষ পরিবেশে রুই, কাতলা, মৃগেল, কালিবাউস ও কার্পজাতীয় মাতৃমাছ প্রচুর পরিমাণ ডিম ছাড়ে। ডিম ছাড়ার অনুকূল পরিবেশ না পেলে মা মাছ ডিম নিজের দেহের মধ্যে নষ্ট করে দেয়।
যে কোনো সময় ডিম ছাড়তে পারলেও চৈত্র থেকে শ্রাবণ পর্যন্ত মা মাছ বেশি ডিম ছাড়ে। সংলগ্ন এলাকার মৎস্যজীবী ও জেলেরা এ ডিম সংগ্রহ করে। সংগৃহীত ডিম নদীর তীরে মাটির কুয়ায় রেখে ও সরকারি হ্যাচারিতে ডিম থেকে রেণু উৎপাদন করা হয়। এ রেণু দেশের বিভিন্ন এলাকায় খামারিরা কিনে নিয়ে যায়। এটি আমাদের স্বাদুপানির মাছের বড় উৎস। তাই হালদার প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য রক্ষা করায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে এটিই প্রত্যাশা।

সর্বশেষ..



/* ]]> */