সারা বাংলা

হালুয়াঘাটে প্রতি রাতে হানা দিচ্ছে বন্যহাতি

এম. ইদ্রিছ আলী, ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় ভারত থেকে আসা বন্য হাতির দল বিভিন্ন গ্রামে ঢুকে ফসল তছনছ ও বাড়ি ঘরে হামলা চালাচ্ছে। হাতির তাণ্ডবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নির্ঘুম রাত পার করছেন গ্রামবাসী। ইতোমধ্যেই কয়েকটি গ্রামে ঢুকে হাতির দল বহু কাঁচাবাড়ি ঘর ভেঙে ফেলেছে। গ্রামের মানুষ দল বেঁধে রাত জেগে পাহারা দিয়েও ফসল ও ঘরবাড়ি রক্ষা করতে পারছেন না। বন্য হাতির হানার কাছে অসহায় হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী।
জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে পাশের দেশ ভারতের বন থেকে আসা হাতির দল ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও শেরপুরের সীমান্তবর্তী লোকালয়ে তাণ্ডব চালিয়ে প্রতি বছর ব্যাপক ফসলহানি ও ঘরবাড়ির ক্ষতি করে যায়। ইতোমধ্যে এসব এলাকায় বন্যহাতির আক্রমে বহু লোকের প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। গত কয়েক দিন ধরে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট এলাকায় একদল হাতি এসে তাণ্ডব শুরু করেছে। অনেকের ঘর ভেঙে ফেলেছে হাতির দল। এতে অনেক লোক এলাকা ছেড়ে পালিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন।
ভূবনকুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম সুরুজ মিয়া জানান, গত রবি এবং সোমবার রাতে সীমান্তবর্তী হালুয়াঘাট উপজেলার ভূবনকুড়া ইউনিয়নের কড়ইতলী, বানাইপাড়া, ধোপাজুরী, রঙ্গমপাড়া, এবং মহিষলেটি গ্রামের ৩০-৩৫টি বাড়িতে ব্যাপক তাণ্ডব চালায় কয়েকটি বন্যহাতি। সাধারণ মানুষের ঘর এবং ঘরের মধ্যে থাকা আসবাবপত্র গুঁড়িয়ে দেয় হাতির দল। তাই রাত জেগে মশাল জ্বালিয়ে নিজের ঘরবাড়ি রক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে গ্রামবাসী। গতকাল মঙ্গলবার তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি গ্রাম পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহযোগিতার পাশাপাশি হাতির আক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে পটকা, কেরোসিন তেল এবং টর্চ লাইট দেওয়া হয়েছে।
কড়ইতলী গ্রামের মহর উদ্দিন এবং সফর উদ্দিন জানান, আমরা দুই ভাই দিন আনি দিন খাই। আমাদের তিনটি ঘর ছিল। গত রাতে কয়েকটি হাতি ভারত থেকে এসে সব ধ্বংস করে দিয়েছে। এখন ছেলেপোলে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে খেয়ে না খেয়ে বসবাস করছি। আমাদের সহযোগিতা না করা হলে আমরা প্রাণে মরে যাব।
মহিষলেটি গ্রামের সবুজ মিয়া জানান, গত রোববার রাত ১টার দিকে হাতির একটি দল আমাদের বাড়িতে এসে হানা দেয়। ঘরবাড়ি ভাঙার শব্দ শুনে তারা ঘুম থেকে জেগে ওঠেন। তখন স্থানীয়দের ডাকাডাকি করে এনে হাতির দলটিকে কোনোভাবে ফেরাতে সক্ষম হই। তাদের একটি ছনের ঘর পুরোটাই হাতি ভেঙে ফেলেছে। এখন গ্রামবাসী হাতির আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, সাধারণ মানুষকে হাতির আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য সচেতন করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতাও করা হচ্ছে।

সর্বশেষ..