বাণিজ্য সংবাদ

হিলি স্থলবন্দরে লক্ষ্যের চেয়ে ৩৬ কোটি টাকা কম রাজস্ব আদায়

২০১৮-১৯ অর্থবছর

ছামিউল ইসলাম আরিফ, হিলি: দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বেঁধে দেওয়া লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩৬ কোটি টাকা কম রাজস্ব আদায় হয়েছে।
হিলি স্থল শুল্ক স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিদায়ী (২০১৮-১৯) অর্থবছরে ২৬৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেয়। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ২৩৩ কোটি এক লাখ ২৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ ৩৬ কোটি ২৯ লাখ ৭৫ হাজার টাকা কম রাজস্ব আদায় হয়েছে।
এর মধ্যে গত অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ২৪ কোটি পাঁচ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ২০ কোটি ৯৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, আগস্টে ১৭ কোটি ১০ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১৫ কোটি ২১ লাখ টাকা, সেপ্টেম্বর মাসে ৯ কোটি ৩৮ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১৯ কোটি ৭১ লাখ ৬২ হাজার টাকা, অক্টোবর মাসে ১৬ কোটি ১৬ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১০ কোটি ১৫ লাখ ৯৪ হাজার টাকা, নভেম্বর মাসে ২৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১৪ কোটি ৬৯ লাখ ৯৪ হাজার টাকা, ডিসেম্বর মাসে ৪৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১০ কোটি ১৪ লাখ ৭৭ হাজার টাকা, জানুয়ারি মাসে ২৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ২৩ কোটি ৬১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা, ফেব্রুয়ারি মাসে ৩১ কোটি ৩৯ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১৯ কোটি ৪৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
অন্যদিকে মার্চ মাসে ৩০ কোটি ৯৪ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৩৫ কোটি ৯২ লাখ ৬৮ হাজার টাকা, যেখানে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা বেশি আদায় হয়েছে। এপ্রিল মাসে ২৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ২৮ কোটি ২৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা, মে মাসে ২০ কোটি ৭৯ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ২৩ কোটি ২২ লাখ ৪১ হাজার টাকা এবং জুন মাসে ১৫ কোটি ৪১ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে সাত কোটি ২৯ লাখ টাকা।
হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশিদ হারুন জানান, কাস্টমসের দ্বিমুখী নীতির কারণেই হিলি স্থলবন্দরে রাজস্ব আহরণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হচ্ছে না। অন্যান্য বন্দর দিয়ে ফল আমদানির ক্ষেত্রে আমদানি করা পণ্য পরীক্ষা করে ঠিক যেটুকু পণ্য থাকবে, সেই পরিমাণ পণ্যের শুল্ক পরিশোধ করতে হয়। কিন্তু হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ফল আমদানির ক্ষেত্রে গাড়ির চাকা অনুযায়ী শুল্কায়নের প্রথা চালু করা হয়েছে। এর ফলে একজন আমদানিকারক একটি ট্রাকে ১০ টন ফল আমদানি করলেও গাড়ির চাকা অনুযায়ী তাকে ১৪ থেকে ১৫ টনের শুল্ক পরিশোধ করতে হয়।
এছাড়া হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বেশি শুল্কযুক্ত পণ্য আমদানির ক্ষেত্রেও বেশ কিছু বিড়ম্বনা রয়েছে। এছাড়া শুল্কযুক্ত পণ্য পরীক্ষা ও শুল্কায়ন কার্যক্রম ধীরগতিতে হওয়ার কারণে চার-পাঁচ দিন সময় লেগে যায়। এসব লোকসানের কারণে আমদানিকারকরা হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি বন্ধ রেখেছেন।
হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা আবু বক্কর ছিদ্দিক বলেন, গত ডিসেম্বর মাস থেকে ভারতের ফারাক্কা ব্যারাজের সংস্কার কাজ চলায় এ বন্দর দিয়ে পাথরসহ বেশ কিছু পণ্য আমদানি বন্ধ ছিল। এছাড়াও বন্দর দিয়ে বেশি শুল্কযুক্ত পণ্য আমদানি না হওয়া এবং বেশিরভাগ পণ্যই শুল্কমুক্ত ও কম শুল্কযুক্ত হওয়ায় বন্দর থেকে রাজস্ব আহরণে ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

সর্বশেষ..