হ া ও য় া  ব দ ল : কক্সবাজার

 

স্বল্প পরিসরে কক্সবাজারের সৌন্দর্য বর্ণনা বেশ দুরূহ। কেননা দেশ-বিদেশের মানুষের অন্যতম অনুপম অবকাশযাপন কেন্দ্র এ সমুদ্রসৈকত। আপনি ভ্রমণপিয়াসী হয়ে থাকলে ইতোমধ্যে নিশ্চয়ই ঘুরে বেড়িয়েছেন কক্সবাজার। এরপরও বারবার টানে কক্সবাজার, তাই না? আসলে স্বল্প খরচে দেশের ভেতর এমন সাগর-পাহাড়-দ্বীপ-নদী-সমতলের মিলনমেলা ঘুরে বেড়াতে কার না মন চায়? তাই সমুদ্রের পাড়ে বসে ঢেউয়ের গর্জন আবারও শুনতে চাইলে ঘুরে আসুন সেই সমুদ্রসৈকত থেকে।

 

যা দেখবেন

কক্সবাজারের প্রধান আকর্ষণ সমুদ্রসৈকত। লাবণী বিচ, ইনানী বিচ, হিমছড়ি, টেকনাফ, সেন্টমার্টিন, রাখাইন পল্লি, গোলাপ বাগান, বার্মিজ মার্কেট, মাতামুহুরী নদী, ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক, কুতুবদিয়া বাতিঘর প্রভৃতি মনোমুগ্ধকর স্থান স্মৃতি হয়ে রবে দীর্ঘকাল।

যেভাবে যাবেন

বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষে কক্সবাজার। ঢাকা থেকে সড়ক, রেল ও বিমানে যেতে পারেন। সড়কপথে ঢাকার নানা স্থান থেকে বাস ছেড়ে যায়। সবচেয়ে ভালো হয় কমলাপুর, আরামবাগ, মতিঝিল ও সায়েদাবাদ থেকে কোনো পরিবহনে চেপে বসলে। হানিফ, শ্যামলী, সোহাগ, সৌদিয়া, এস আলম, সেন্টমার্টিন, গ্রিন লাইন প্রভৃতি পরিবহনের এসি ও নন-এসি ছেড়ে যায় কক্সবাজারের উদ্দেশে। ভাড়া ৭০০ থেকে দুই হাজার টাকার মধ্যে ওঠানামা করে।

রেলপথে ঢাকা থেকে কক্সবাজারের সঙ্গে সরাসরি কোনো যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। তবে আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য রেলপথ বেছে নিতে চাইলে প্রথমে চট্টগ্রাম যেতে হবে। এরপর সেখান থেকে বাসে চড়ে কক্সবাজার। মহানগর প্রভাতী, মহানগর গোধূলি, তূর্ণা নিশীথা, সুবর্ণ এক্সপ্রেস প্রভৃতি ট্রেন চট্টগ্রাম রুটে চলাচল করে।

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রতিদিনই কোনো না কোনো ফ্লাইট কক্সবাজার যাতায়াত করে। তিন হাজার ৫০০ টাকা থেকে সাত হাজারের মধ্যে ভাড়া ওঠানামা করে।

 

যেখানে থাকবেন

থাকার জন্য হোটেল সি প্যালেস, হোটেল সি গাল, হোটেল প্রাসাদ ওরাডাইস, হোটেল সি ক্রাউন, ব্ল– ওশেন, সি হ্যাভেন গেস্ট হাউজ, ঊর্মি গেস্ট হাউজ, সি হিল গেস্ট হাউজ, বিচ হলিডে গেস্ট হাউজ, সি কিং গেস্ট হাউজ, হোটেল কল্লোল, হোটেল সি আলিফ, প্রিন্স হ্যাভেনসহ অনেক হোটেল আছে কক্সবাজারে। এসব হোটেলের সবগুলোতেই রয়েছে নিজস্ব রেস্টুরেন্ট। বেড়ানো শেষে শুঁটকি ও রূপচাঁদা মাছের সঙ্গে বার্মিজ সামগ্রী নিয়ে আসতে পারেন।