দুরে কোথাও

হ া ও য় া ব দ ল নোয়াখালী

বাংলাদেশের একমাত্র জেলা নোয়াখালী, যার নিজ নামে কোনো শহর নেই। নোয়াখালী জেলা শহরের নাম মাইজদী। জনশ্রুতি রয়েছে, অতীতে একবার ত্রিপুরার পাহাড় থেকে প্রবাহিত ডাকাতিয়া নদীর পানিতে ভুলুয়ার
উত্তর-পূর্বাঞ্চল প্লাবিত হয়। অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয় তখন। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য ১৬৬০ সালে একটি বিশাল খাল খনন করা হয়। এ খালটি পানির প্রবাহকে ডাকাতিয়া নদী হতে রামগঞ্জ, সোনাইমুড়ী ও চৌমুহনী হয়ে মেঘনা এবং ফেনী নদীর দিকে প্রবাহিত করে। যাহোক, এ নতুন খালকে নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় বলা হতো নোয়া খাল বা নতুন খাল। পরে লোকমুখে পরিবর্তিত হয়ে নোয়াখালী পরিচিতি লাভ করে। প্রসঙ্গত, নোয়াখালীর পূর্ব নাম ‘ভুলুয়া’।
যা দেখবেন: নোয়াখালীর প্রধান আকর্ষণ নিঝুম দ্বীপ। আরও রয়েছে বজরা শাহী মসজিদ, এয়াকুব আলী ব্যাপারী জামে মসজিদ, নোয়াখালী জেলা জামে মসজিদ, ফকির ছাড়– মিজি (রহ.) সাহেবের দরগা, গান্ধী আশ্রম, কমলা রানির দিঘি, নোয়াখালী পাবলিক লাইব্রেরি, বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর, চরজব্বার, শহীদ ভুলু স্টেডিয়াম, স্বর্ণদ্বীপ প্রভৃতি। জেলায় বেশ কয়েকটি খাল রয়েছে: নোয়াখালী, মধুখালী, রহমতখালী, আতিয়াবাড়ি, কালির, আত্রা, হুরা, গাহজাতলী, মহেন্দ্রক খাল প্রভৃতি। নদ-নদীর মধ্যে ফেনী ও ডাকাতিয়া অন্যতম। চরবাটা স্টিমার ঘাটে প্রতিদিন বেড়াতে যান প্রচুর পর্যটক।
যেভাবে যাবেন: ঢাকা থেকে সড়কপথে নোয়াখালীতে যাওয়া যায়। সড়কপথে সেবা, বিলাস, ভিআইপি, শাহী, হিমাচল, হিমালয় (আল-বারাকা), একুশে এক্সপ্রেস প্রভৃতি পরিবহনের বাস চলাচল করে। ভাড়া ৩৫০ টাকা থেকে শুরু।
নৌপথে ভ্রমণ সব সময়ই আরামদায়ক। নোয়াখালীতে নৌপথে যাওয়া রুটটি কিছুটা ভিন্ন। জেলার হাতিয়া উপজেলা মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। এ কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল, বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রাম হতে স্টিমার বা
সি-ট্রাকযোগে এ উপজেলায় যাতায়াত করতে হয়। রাজধানী থেকে হাতিয়ার উদ্দেশে চলাচল করে এনভি টিপু ও পানামা নামের দুটি স্টিমার।
রেলপথে প্রতি রাতে উপকূল এক্সপ্রেস ও নোয়াখালী এক্সপ্রেসে ভ্রমণ করতে পারেন। এজন্য শ্রেণিভেদে ভাড়া গুনতে হবে ১১৫ টাকা থেকে ৯৮৮ টাকা।
যেখানে থাকবেন: সার্কিট হাউজ, ডাকবাংলো, গণপূর্ত রেস্ট হাউজ, সওজ রেস্ট হাউজ, এলজিইডি রেস্ট হাউজ, বন বিভাগ রেস্ট হাউজ, রেড ক্রিসেন্ট রেস্ট হাউজ, বিআরডিবি রেস্ট হাউজ, আল আমিন গেস্ট হাউজ প্রভৃতির পাশাপাশি পূবালী, আল মোর্শেদ, মৌচাক, লিটন, নিজাম, রাফসান, ফারহান, মোবারক, সুগন্ধা ইন্টারন্যাশনাল, ঢাকা, প্রিন্স, সিঙ্গাপুর, হংকং হোটেল বেশ ভালো মানের। থাকা ও খাওয়ার সুযোগ একই স্থানে পেয়ে যাবেন।
যা খাবেন: প্রচলিত সব ধরনের খাবার পাওয়া যায় এখানে। বিভিন্ন উৎসবে দই ও পান দিয়ে আপ্যায়নের প্রচলন রয়েছে। এখানকার পিঠাও বেশ বিখ্যাত।

সর্বশেষ..