প্রচ্ছদ শেষ পাতা

১১ মাসে রফতানি আয়ে প্রবৃদ্ধি ১২ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: তৈরি পোশাক রফতানিতে জোরালো প্রবৃদ্ধির ওপর ভর করে চলতি অর্থবছর দেশের সামগ্রিক রফতানি আয়ে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। তবে চামড়া ও পাট পণ্যের রফতানি কমায় রফতানির সামগ্রিক অগ্রযাত্রা কিছুটা ব্যাঘাত ঘটেছে। গতকাল রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) থেকে প্রকাশিত চলতি অর্থবছরের ১১ মাসের (জুলাই-মে) রফতানি আয়ের তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে।
এতে দেখা যায়, ১১ মাসে কৌশলগত লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে প্রকৃত রফতানি আয়। এ সময় রফতানি আয় দাঁড়ায় তিন হাজার ৭৭৫ কোটি ডলার, যা প্রাক্কলনের চেয়ে ছয় দশমিক ৬৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি। আর গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১১ দশমিক ৯২ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছর ১১ মাসে রফতানি আয় ছিল তিন হাজার ৩৭২ কোটি ৮৮ লাখ ডলার।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে মোট রফতানি আয়ে তৈরি পোশাক খাতের অবদান প্রায় ৭৫ শতাংশ। চলতি অর্থবছর রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল তিন হাজার ৯০০ কোটি ডলার। এর মধ্যে প্রথম ১১ মাসে কৌশলগত লক্ষ্যমাত্রা ছিল তিন হাজার ৫৪০ কোটি ডলারের পণ্য রফতানির।
তৈরি পোশাক খাত: রফতানির হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে তিন হাজার ১৭৩ কোটি ৩৯ লাখ ডলার মূল্যের তৈরি পোশাক রফতানি হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে রফতানি হয়েছিল দুই হাজার ৮১২ কোটি ৮৬ লাখ ডলার। ফলে এ খাতে রফতানি আয়ে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৮২ শতাংশ।
তৈরি পোশাক খাতের মধ্যে নিটপণ্যের রফতানি আয় দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৫৬৮ কোটি ২৫ লাখ ডলার। এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয় ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ। আর ওভেন গার্মেন্টের রফতানি আয় এক হাজার ৬০৫ কোটি ১৪ লাখ ডলার। এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয় ১৩ দশমিক ১৩ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দুই খাতেই প্রায় সাত শতাংশ বেশি রফতানি আয় হয়েছে।
চামড়াজাত পণ্য: দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানি আয়ের উৎস চামড়া শিল্পের খরা এ মাসেও কাটেনি। অর্থবছরের ১১ মাস পার হলেও ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধির ধারা থেকে বের হতে পারেনি চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের এ খাত। চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে পাঁচ দশমিক ৫৩ শতাংশ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি রয়েছে চামড়া শিল্পে।
গত অর্থবছরের ১১ মাসে এ খাতে রফতানি আয় ছিল ৯৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার। চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে ১১২ কোটি ৪০ লাখ ডলারের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। তবে রফতানি হয়েছে ৯৪ কোটি ৩৮ লাখ ডলারের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য। এতে খাতটি লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও প্রায় সাড়ে সাত শতাংশ পিছিয়ে রয়েছে।
পাটজাত পণ্য: চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে ৭৭ কোটি ৩৮ লাখ ডলারের পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৯৬ কোটি ৬৯ লাখ ডলার। ফলে এ খাতেও দেখা দিয়েছে প্রায় ১৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি। যদিও ১১ মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯৮ কোট ৪৯ লাখ ডলার। এতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় সাড়ে ২১ শতাংশ কম পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি হয়েছে।
মৎস্য ও হিমায়িত খাদ্য: গত অর্থবছর ১১ মাসে ৪৬ কোটি ৫৩ লাখ ডলার রফতানি হয়েছিল এ খাতে। এ বছর ১১ মাসে রফতানির লক্ষ্য ছিল ৫০ কোটি পাঁচ লাখ ডলার। তবে এ সময়ে রফতানি আয় হয়েছে ৪৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার। এ হিসাবে খাতটিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে এক দশমিক ২৭ শতাংশ।
কৃষিপণ্য: চলতি অর্থবছর ১১ মাসে এ খাতে রফতানি আয় দাঁড়িয়েছে ৮৫ কোটি ৪৫ লাখ ডলার। যদিও গত অর্থবছর একই সময় এ খাতের রফতানি আয় ছিল ৬০ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এ হিসেবে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৪০ দশমিক ৩০ শতাংশ।
এদিকে পেট্রোলিয়াম পণ্যে ১১ মাসে রফতানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫৩৬ দশমিক আট শতাংশ, প্লাস্টিক পণ্যে ২৫ দশমিক ২৭ শতাংশ, তুলা ও তুলা জাতীয় পণ্যে ১৫ দশমিক ১৬ শতাংশ।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, একক মাস হিসাবে চলতি বছরের মে মাসে রফতানি আয় হয়েছে ৩৮১ কোটি ৩৪ লাখ ডলার। যদিও লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৪৯ কোটি ১০ লাখ ডলার। সে হিসাবে এ মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় ৩২ কোটি ২৪ লাখ ডলার বেশি হয়েছে। তবে গত বছরের মে মাসে আয় হয়েছিল ৩৩২ কোটি ২৪ লাখ ডলার। সে হিসেবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

 

ট্যাগ »

সর্বশেষ..