১২ মন্ত্রণালয়ের কাছে পাওনা ১১২ কোটি টাকা

চসিকের গৃহকর

সাইদ সবুজ, চট্টগ্রাম: সরকারের ১২টি মন্ত্রণালয় থেকে চলতি (২০১৭-১৮) অর্থবছর পর্যন্ত গৃহকর বাবদ বকেয়া ও হালসহ ১১২ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক)। চসিকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বকেয়া আদায়ে উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে আগামী ২৭ জুন আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠক আহ্বান করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।
চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান শেয়ার বিজকে বলেন, ১১২ কোটি টাকা পাওনা পরিশোধে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্থাগুলোর প্রধানদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন চিসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। গৃহকর আদায়ে এসব মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবদের কাছে চিঠিও দেওয়া হয়েছে। তার পরও তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি। গত ২৩ মে বকেয়া পরিশোধে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক আহ্বান করার জন্য অনুরোধ জানিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বরাবর একটি দাফতরিক চিঠি পাঠিছিলেন মেয়র। এর পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ২৭ জুন মন্ত্রণালয় বৈঠক আহ্বান করেছে। এতে মন্ত্রণালয়ের সচিবরা উপস্থিত থাকবেন। চসিক থেকেও দুই কর্মকর্তাকে উপস্থিত থাকার জন্য বলা হয়েছে।
চসিক সূত্রে জানা যায়, ১২টি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে বকেয়া ও হালসহ গৃহকর ও রেট বাবদ ১১২ কোটি ২৯ লাখ তিন হাজার ৪৩১ টাকা পাওনা রয়েছে চসিক। এর মধ্যে রয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে ১৩ কোটি ১৪ লাখ ৪২ হাজার ৫৬১ টাকা, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে ৩২ লাখ ৫১ হাজার ৭০৮ টাকা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে চার কোটি সাত লাখ ৯১ হাজার ৫৩১ টাকা, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ থেকে ৩২ লাখ ৭২ হাজার ৬৬৬ টাকা, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে ১২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৩ টাকা ও স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ থেকে তিন লাখ ৪৯ হাজার ৭৭৪ টাকা, রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে ৮৪ কোটি ৭৭ লাখ ৮৮ হাজার ৯৮৫ টাকা, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় থেকে ৬৪ লাখ ৪৪ হাজার ৬৮৬ টাকা, কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে ৪৭ লাখ সাত হাজার ২৫১ টাকা, শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে দুই কোটি ছয় লাখ ৯৮ হাজার ১২ টাকা, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় থেকে তিন কোটি ৪৮ লাখ ২৪ হাজার ৯৯০ টাকা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে ৩১ লাখ ৬১ হাজার ৭২৩ টাকা এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে দুই কোটি ৪৯ লাখ এক হাজার ৩৩৪ টাকা।
এদিকে পঞ্চবার্ষিক গৃহকর অ্যাসেসমেন্ট মন্ত্রণালয় কর্তৃক স্থগিত হওয়া লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী গৃহকর আদায় করতে পারছে না চসিক। এর ফলে চসিকের আর্থিক অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে। অন্যদিকে ডোর টু ডোর বর্জ্য সংগ্রহের জন্য দুই হাজার অতিরিক্ত পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োগসহ বিভিন্ন কারণে চসিকের মাসিক ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থায় সরকারি সংস্থাগুলোর বকেয়া ও রেট পরিশোধ না করায় বেকায়দায় পড়েছে চসিক।
গত ২৩ মে দেওয়া চিঠিতে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আয়ের মূল উৎস গৃহকর ও রেট। ২০১৫ সালে জাতীয় স্কেল অনুযায়ী সিটি করপোরেশনে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বার্ষিক বেতন-ভাতা বাবদ ব্যয় হয় প্রায় ২২০ কোটি টাকা। কিন্তু ২০১১-১২ অর্থবছরে পঞ্চবার্ষিক অ্যাসেসমেন্ট অনুসারে গৃহকর ও রেটের দাবি ১১৯ কোটি ২৬ লাখ ৫৪ হাজার ৫৩৪ টাকা, যা বার্ষিক বেতন-ভাতা বাবদ ব্যয়ের পরিমাণের চেয়ে অনেক কম। এছাড়া এ দাবির একটি বড় অংশ বকেয়া থাকায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে এবং নাগরিক সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা দুরূহ হয়ে পড়েছে।
চিঠিতে মেয়র নাছির আরও বলেন, এসব পাওনা আদায়ে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলেও কাক্সিক্ষত সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। উল্লিখিত সরকারি সংস্থাগুলো কর্তৃক বকেয়া গৃহকর ও রেট পরিশোধ করা হলে তা সিটি করপোরেশনের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদান ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সম্পাদনে কার্যকর অবদান রাখতে বলে আমার বিশ্বাস।