প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

১৩৬ প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট ফাঁকি দুই হাজার কোটি টাকা

মূসক গোয়েন্দার এক বছর

রহমত রহমান: ভ্যাট ফাঁকি থেমে নেই। করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বিমা, আর্থিক, বন্ডেড প্রতিষ্ঠান, অভিজাত ক্লাব, হোটেল, ওষুধ ও তামাক কোম্পানি প্রভৃতি। এক বছরে এমন ১৩৬ প্রতিষ্ঠানের এক হাজার ৮৩৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ভ্যাট ফাঁকি উদ্ঘাটন করেছে মূসক নিরীক্ষা গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। মূসক গোয়েন্দার জš§লগ্ন থেকে ফাঁকি উদ্ঘাটন ও আদায়ে রেকর্ড এটি। বিদায়ী অর্থবছরের ফাঁকি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের তুলনায় ৭৬৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা বেশি।
সূত্র জানায়, বিদায়ী বছর ইন্স্যুরেন্স, সেবা, উৎপাদনকারী ও অফডকের ৫১ প্রতিষ্ঠান নিরীক্ষা করে ৩৪৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকার ফাঁকি উদ্ঘাটন করা হয়। এর মধ্যে ৬৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকার ভ্যাট আদায় হয়। এছাড়া বন্ড, ট্রেড ভ্যাট ও ক্লাবসহ ৩৮ প্রতিষ্ঠানে তদন্ত করে ৫৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকার ফাঁকি উদ্ঘাটন এবং আট লাখ টাকা আদায় করা হয়। উৎপাদনকারী, সেবা ও ব্যবসা খাতের ৩৮ প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে এক হাজার ৪৩৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকার ফাঁকি উদ্ঘাটন এবং ৫০ কোটি ৪৬ লাখ টাকা আদায় করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন স্পটে ৯টি টহল পরিচালনা করে ১৪ লাখ টাকার মামলা ও পাঁচ লাখ টাকা আদায় করা হয়।
সূত্র আরও জানায়, বিদায়ী অর্থবছরে ছয় ব্যাংকে নিরীক্ষা করে ফাঁকি উদ্ঘাটন ও মামলা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে যমুনা ব্যাংকের প্রায় এক কোটি ৭২ লাখ টাকা ও প্রায় দুই কোটি ৪৭ লাখ টাকা, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের প্রায় দুই কোটি ৯১ লাখ টাকা, এনসিসি ব্যাংকের প্রায় ১৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা, উরি ব্যাংকের তিন কোটি ৩৭ লাখ টাকা, প্রাইম ব্যাংকের পাঁচ কোটি ৯৪ লাখ টাকা ও ইউনিয়ন ব্যাংকের প্রায় ৭৯ লাখ টাকা রয়েছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পিপলস লিজিং প্রায় ছয় কোটি ৬০ লাখ টাকা ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স তিন কোটি ৬৮ লাখ টাকা ফাঁকি দিয়েছে।
সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আরও রয়েছে: শ্রীমঙ্গলের গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট প্রায় ৫৯ লাখ টাকা, কক্সবাজারের সিগাল হোটেল প্রায় ৭২ লাখ টাকা, আখতার ফার্নিশারস লিমিটেড প্রায় সাত কোটি ১১ লাখ টাকা, কানপার্ক বাংলাদেশ লিমিটেড প্রায় ২৬ লাখ টাকা ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রমোশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি প্রায় ৩৫ লাখ টাকা।
আনোয়ার গ্রুপের পাঁচ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে: আনোয়ার গ্যালভানাইজিং লি. প্রায় ১৮ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, এ ওয়ান পলিমার লি. প্রায় ২৬ কোটি ২৯ লাখ টাকা, আনোয়ার সিমেন্ট লি. প্রায় চার কোটি ২৭ লাখ টাকা, আনোয়ার সিমেন্ট শিট লি. প্রায় ছয় কোটি ৬৯ লাখ টাকা ও আনোয়ার রিয়েল এস্টেট প্রায় পৌনে দুই লাখ টাকা। থার্মেক্স গ্রুপের ১৩ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে: থার্মেক্স ওভেন ডায়িং লি. প্রায় ২৯ লাখ টাকা, আদুরী অ্যাপারেলস লি. প্রায় ১৭ লাখ টাকা, থার্মেক্স স্পিনিং লি. প্রায় এক কোটি ৯ লাখ টাকা, থার্মেক্স মেলাঞ্জ স্পিনিং মিলস লি. প্রায় ৪৭ লাখ টাকা, সিস্টার ডেনিম কম্পোজিট লি. দুই কোটি ৮৬ লাখ টাকা, থার্মেক্স চেক ফেব্রিকস লি. প্রায় ১৩ লাখ টাকা, থার্মেক্স ইয়ার্ন ডায়িং ফেব্রিকস লি. প্রায় ৮৩ লাখ টাকা, ইনডিগো স্পিনিং লি. প্রায় ৮৫ লাখ টাকা, থার্মেক্স টেক্সটাইল মিলস লি. এক কোটি ৭১ লাখ টাকা, থার্মেক্স নিট ইয়ার্ন লি. প্রায় ৯৬ লাখ টাকা, আদুরী নিট কম্পোজিট লি. প্রায় তিন কোটি ৯১ লাখ টাকা, থার্মেক্স কালার কটন লি. ৫৮ লাখ টাকা ও থার্মেক্স ইয়ার্ন ডায়িং লি. এক কোটি ৯১ লাখ টাকা।
বন্ডেড প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সিটি গ্রুপের সিটি সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লি. প্রায় চার লাখ টাকা, নাভানা গ্রুপের আফতাব অটোমোবাইলস লি. প্রায় চার কোটি ২৬ লাখ টাকা, তৈরি পোশাক খাতের চট্টগ্রামভিত্তিক সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান এশিয়ান অ্যাপারেলস লি. প্রায় তিন কোটি ৮১ লাখ টাকা, বে ফুটওয়্যার লি. ৩১ লাখ টাকা।
১৫ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির মধ্যে রয়েছে: প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লি. দুই কোটি ১৫ লাখ টাকা, গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লি. ২৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লি. চার কোটি ২৭ লাখ টাকা, সান ফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্স চার কোটি ৯৯ লাখ টাকা, প্রটেকটিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লি. ৫৪ লাখ টাকা, সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স লি. পাঁচ কোটি ২৫ লাখ টাকা, রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লি. ১২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স লি. ১৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা, বায়রা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লি. চার কোটি ৫১ লাখ টাকা, সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লি. প্রায় এক কোটি টাকা, জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লি. এক কোটি ১৪ লাখ টাকা, গোল্ডেন লাইফ ইন্স্যুরেন্স লি. ছয় কোটি টাকা, বেস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স লি. ৩৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা ও বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স লি. ১৫ কোটি ৯১ লাখ টাকা।
অভিযান পরিচালনা করে ভ্যাট ফাঁকি উদ্ঘাটন করা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে: সনি র‌্যাংগস প্রায় ১২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা, মিনিস্টার হাইটেক পার্ক লি. প্রায় ১৯৪ কোটি টাকা, বেঙ্গল টেকনো ফার্মা লি. প্রায় ২২ কোটি ১৭ লাখ টাকা, ডেকো ফুডস লি. প্রায় ১৯ লাখ টাকা ও ১৩ লাখ টাকা, অপসোনিন গ্রুপের গ্লোবাল হেভি কেমিক্যাল ইন্ডা. লি. ৭৫ লাখ টাকা, জামিল গ্রুপের আজিজ উদ্দিন ইন্ডা. লি. ৮৯৭ কোটি টাকা।
উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে: পিএইচপি কন্টিনিউয়াস গ্যালভানাইজিং লি., জিসকা ও রেডিয়েন্ট ফার্মা, নাসির বিডি, বেঙ্গল গ্লাস, আবদুল্লাহ ব্যাটারি, দুবাই বাংলাদেশ সিমেন্ট, এটলাস ফুটওয়্যার, অলিম্পিক সিমেন্ট মিলস, ইউনাইটেড লেদার, শুন শিং সিমেন্ট মিলস, বিল ট্রেড ইঞ্জিনিয়ারিং, ফু-ওয়াং ইন্ডাস্ট্রিজ লি., ঢাকা আইসক্রিম (পোলার), সামিট এলায়েন্স পোর্ট লি. নেমসন কনটেইনার লি. ও বিএম কনটেইনার ডিপো লি.।
চট্টগ্রাম ক্লাব লি. আট কোটি ৪২ লাখ টাকা ও নারায়ণগঞ্জ ক্লাব লি. সাত কোটি ৫৭ লাখ টাকা। এছাড়া সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিএম এনার্জি দুই কোটি ৩৮ লাখ টাকা, ইনটেরিয়র ডিজাইন ড্রিম টাচ আর্কিটেক্টস লি. ছয় কোটি ১২ লাখ টাকা। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে, টাইলস ডিলার মোহাম্মদ ট্রেডিং ১২৪ কোটি ১৭ লাখ টাকা।

 

সর্বশেষ..



/* ]]> */