১৪ হাজার কোটি টাকার ১৭ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৪ হাজার ২০০ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৭টি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক সভায় প্রকল্পগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়।
সভা শেষে প্রকল্পগুলো নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, সভায় ১৭টি (নতুন ও সংশোধিত) প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে মোট ব্যয় হবে ১৪ হাজার ২০০ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন করা হবে ১১ হাজার ১৯৩ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে ব্যয় করা হবে দুই হাজার ৮১১ কোটি ৬২ লাখ টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য ১৯৫ কোটি ২৮ লাখ টাকা।
চলতি সপ্তাহে দুটি একনেক সভা করা প্রসঙ্গে মুস্তাফা কামাল জানান, চলতি অর্থবছরে এ পর্যন্ত ১৪টি মঙ্গলবার পাওয়া গেছে। কিন্তু আজকেরটি নিয়ে ১০টি একনেক হচ্ছে। বাকি চারটি মঙ্গলবারের মধ্যে সরকারি ছুটি এবং প্রধানমন্ত্রী বিদেশে থাকায় একনেক করা সম্ভব হয়নি। তাই চলতি সপ্তাহে আজ আবার একনেক সভা হলো। তিনি বলেন, চলমান উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে বেসরকারি খাতে যে বিনিয়োগ দরকার, সেটা এখন হচ্ছে না। তাই সরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে।
একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হলো- রাজশাহী ওয়াসার ভূ-উপরিস্থিত পানি শোধনাগার নির্মাণ প্রকল্প, যার ব্যয় ধরা হয়েছে চার হাজার ৬২ কোটি ২২ লাখ টাকা। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সড়ক নেটওয়ার্ক উন্নয়ন এবং বাসট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে এক হাজার ২২৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। ফরিদপুর-ভাঙ্গা-বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা জাতীয় মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে এক হাজার ৮৬৭ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। বৈরাগীপুল (বরিশাল)-টুমচর-বাউফল (পটুয়াখালী) জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৩০২ কোটি ১৬ লাখ টাকা। ব্যবসা বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নন্দিগ্রাম (ওমরপুর)-তালোর-দুপচাঁচিয়া-জিয়ানগর-আক্কেলপুর গোপীনাথপুর জেলা মহাসড়ক এবং নন্দীগ্রাম (কাথম) কালিগঞ্জ-রানীনগর জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১৭৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা। বিদ্যমান চত্বরে একটি বহুতল অফিস ভবন নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৬৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন, চট্টগ্রাম জোন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে দুই হাজার ৫৫১ কোটি ৯১ লাখ টাকা।
এছাড়া অন্যান্য প্রকল্প হলো- যশোর অঞ্চল গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় হবে ৯৫২ কোটি ২৫ লাখ টাকা। খুলনা বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলার পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৯৩৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা। বঙ্গবন্ধু দারিদ্র্য বিমোচন প্রশিক্ষণ কমপ্লেক্স (বর্তমান বাপার্ড), কোটালীপাড়া, গোপালগঞ্জের সম্প্রসারণ, সংস্কার ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৩৪৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। পরিবেশবান্ধব কৌশলের মাধ্যমে নিরাপদ ফসল উৎপাদন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১৭২ কোটি ১৩ লাখ টাকা। বৃহত্তর ঢাকা জেলা সেচ এলাকা উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১৩৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। রংপুর জেলার মিঠাপুকুর, পীরগাছা, পীরগঞ্জ ও রংপুর সদর উপজেলায় যমুনেশ্বরী, ঘাঘট ও করতোয়া নদীর তীর সংরক্ষণ ও নদী পুনঃখনন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১৩৪ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। উপকূলীয় চরাঞ্চলে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। দ্য প্রজেক্ট ফর দ্য ইমপ্রুভমেন্ট অব রিসোর্স ক্যাপাসিটিজ ইন দ্য কোস্টাল অ্যান্ড ইনল্যান্ড ওয়াটারস প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২৮৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা। সার সংরক্ষণ ও বিতরণ সুবিধার জন্য দেশের বিভিন্ন জেলায় ১৩টি নতুন বাফার গোডাউন নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৬২৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
সভায় উপস্থিত ছিলেনÑসাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম, পরিকল্পনা সচিব জিয়াউল ইসলাম প্রমুখ।