প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

১৫ এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল ও জরিমানা

হজে অনিয়ম

হামিদুর রহমান: প্রতি বছর হজে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম নিয়মিত ঘটনা হয়ে উঠেছে। এজন্য বিভিন্ন সময়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নিয়ে থাকে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। তবে হজের মৌসুমে অনিয়ম পুরোপুরি বন্ধ করা যায়নি। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরও হজের সময় নানা অনিয়মের ঘটনা ঘটে। টাকা দিয়েও হজে যেতে পারেননি ৬০৬ জন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ হজ এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। এক্ষেত্রে লাইসেন্স বাতিল ছাড়াও জরিমানা করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের মতে, টাকা দিয়ে হজে না যেতে পারা, চুক্তি অনুযায়ী বাসা না দেওয়া ও খাবারের কষ্টসহ বিভিন্ন অনিয়মের শিকার হন হজযাত্রীরা। আবার অনেক এজেন্সি সরকার ঘোষিত প্যাকেজের চেয়ে কম মূল্যে হজে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। এতে সৌদি আরব গিয়ে হজের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা পালনে ভোগান্তিতে পড়েন হজযাত্রীরা।
তথ্যমতে, গত বছর বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ১৫টি এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল, জামানত বাজেয়াপ্ত ও জরিমানা করা হয়েছে। এজেন্সিগুলো হলো এয়ার চ্যানেল ট্রাভেলস ইন্টারন্যাশনাল, সানজিদ ট্রাভেল ইন্টারন্যাশনাল, সালওয়া ওভারসিজ সার্ভিস, মৌওরি এয়ার ইন্টারন্যাশনাল, আবাবিল ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুর, কেরানীগঞ্জ হাজি ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস, সামিট এয়ার ইন্টারন্যাশনাল, গোল্ডেন ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস, এমএএম ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস, মাহরুর এয়ার ইন্টারন্যাশনাল, মাকাম ইব্রাহিম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস, পটুয়াখালী ট্রাভেলস এয়ার সার্ভিস, ট্রাভেলস নুরাম হাউজ ও কে.জি. প্রগতি এয়ার সার্ভিস।
এদিকে প্রাথমিকভাবে আরও তিনটি এজেন্সিকে শাস্তির আওতায় আনা হলেও চূড়ান্ত রিভিউ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তা বাতিল করা হয়েছে। এগুলো হলো আলহাজ ট্রাভেল ট্রেড, সেন্ট্রাল ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরস ও আল রাফি ট্রাভেল ট্রেড।
উল্লেখ্য, গত বছর হজ এজেন্সির বিভিন্ন অবহেলায় ও অনিয়মের কারণে ৬০৬ জন যাত্রী হজে যেতে পারেননি। তার আগের বছরও অর্থাৎ ২০১৭ সালে এক হাজার ৩০০ জন যাত্রী হজে যেতে পারেননি। গেল বছর রাজধানীর আশকোনায় হজক্যাম্পে শেষ হজ ফ্লাইট উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হাবের মহাসচিব বলেন, কিছু এজেন্সির প্রতারণার কারণে যে ৬০৬ জন এ বছর ভিসা করতে পারেননি এবং হজে যেতে পারলেন না হাব তাদের পাশে থাকবে। এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আল্লাহর মেহমানদের সঙ্গে প্রতারণা করা কোনো এজেন্সিকে ছাড় দেওয়া হবে না।
এ বছর রাজধানীর আশকোনায় হজ কর্মসূচি-২০১৯-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ হজ ব্যবসার নামে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা না করার জন্য আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘মনে রাখবেন, হাজিরা কারও দয়া অথবা অনুকম্পা নিয়ে সৌদি আরবে যান না। বরং আপনারা তাদের কাছ থেকে লাভবান হচ্ছেন। তাই হজ ব্যবসার নামে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করবেন না, কারণ বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর।’
হজ নিয়ে নানা অভিযোগ ও অনিয়মের উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘হজ ব্যবস্থাপনায় কোনো প্রকার অবহেলা, অনিয়ম ও দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না। কোনো ব্যক্তি অথবা এজেন্সির বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে সরকার দ্বিধা করবে না।’
এ বছর বাংলাদেশ থেকে এক লাখ ২৭ হাজার ৭৯৮ জন সৌদি আরবে হজ পালন করতে যাবেন। তাদের মধ্যে ৬৩ হাজার ৫৯৯ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে এবং বাকিরা যাবেন সৌদি এয়ারলাইনসে। দুই মাসব্যাপী হজ ফ্লাইট পরিচালনায় বিমানের শিডিউল ফ্লাইটসহ মোট ৩৬৫টি ফ্লাইট রয়েছে। এর মধ্যে ৩০৪ ডেডিকেটেড এবং ৬১টি শিডিউল ফ্লাইট রয়েছে। ৪ জুলাই থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হয়েছে, যেটি ৫ আগস্ট পর্যন্ত মোট ১৮৯টি হজপূর্ব ফ্লাইট রয়েছে। ১৭ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হজ-পরবর্তী বিমানের ১৪৭টি ফ্লাইট চলবে।

সর্বশেষ..