মার্কেটওয়াচ

১৯৯৬ ও ২০১০ সালকে হার মানাল বাজারের ধারাবাহিক পতন

গত ডিসেম্বর থেকে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত বাজার ইতিবাচক অবস্থানে ছিল। তখন প্রধান সূচক ছিল পাঁচ হাজার ৯৫০ পয়েন্টে এবং টার্নওভার ছিল প্রায় এক হাজার ৩০০ কোটি টাকার মতো। এখন প্রধান সূচক নেমে এসেছে পাঁচ হাজারের নিচে এবং টার্নওভার ৪০০ কোটি টাকার ঘরে। অর্থাৎ এ ছয় মাসে সূচক কমেছে প্রায় এক হাজার পয়েন্ট। আসলে বাজারের এই ধারাবাহিক পতন ১৯৯৬ ও ২০১০ সালকে হার মানিয়েছে। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়।
হাসিব হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের অর্থনীতি প্রতিবেদক আবদুর রহিম হারমাছি, অর্থনীতি বিশ্লেষক অধ্যাপক মুহাম্মদ মহসীন এবং ডিবিএ’র পরিচালক সাজিদুল ইসলাম শামীম।
আবদুর রহিম হারমাছি বলেন, গত ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির ২৪ তারিখ পর্যন্ত বাজার ইতিবাচক অবস্থানে ছিল। তখন প্রধান সূচক ছিল পাঁচ হাজার ৯৫০ পয়েন্টে এবং টার্নওভার ছিল প্রায় এক হাজার ৩০০ কোটি টাকার মতো। এখন প্রধান সূচক নেমে এসেছে পাঁচ হাজারের নিচে এবং টার্নওভার ৪০০ কোটি টাকার ঘরে। অর্থাৎ এ ছয় মাসে সূচক কমেছে প্রায় এক হাজার পয়েন্ট। আসলে বাজারের এ রকম ধারাবাহিক পতন ১৯৯৬ ও ২০১০ সালকে হার মানিয়েছে। ১৯৯৬ ও ২০১০ সালের বাজার ধস একটি নির্দিষ্ট সময় ছিল। কিন্তু বর্তমান পতনের যেন শেষ নেই। ২০১০ সালে বাজার ধসের পর বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়া হলেও আশানুরূপ ফলাফল দেখা যাচ্ছে না। সত্যিকার অর্থে বাজারের এ ধারাবাহিক পতন কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা ডিএসই, বিএসইসি, বাজারবিশ্লেষকসহ সরকারের উচ্চ মহলও বলতে পারছে না। ২০১০ সালের বাজার ধসের পর এ পর্যন্ত বিনিয়োগকারীরা লাভ করেছেন বলে মনে হয় না।
বাজারে এ রকমের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, অর্থাৎ যারা পরিচালনা করে তাদের ভেতর কোনো গলদ আছে কি না, সেটি খুঁজে বের করতে হবে।
অধ্যাপক মুহাম্মদ মহসীন বলেন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে ডিমিউচুয়ালাইজেশন করা হয়েছে। কিন্তু যে উদ্দেশ্যে ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন করা হয়েছে, সেটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি। এটি শুধু নামে ডিমিউচুয়ালাইজেশন করা হয়েছে। আবার দেশের অর্থনীতির আকার অনুযায়ী দেশের বাজার আরও বড় হওয়ার কথা ছিল।
যতগুলো ব্রোকারেজ হাউজ আছে ওইসব প্রতিষ্ঠান শুধু শেয়ার কেনাবেচায় ব্যস্ত থাকে। বাজার ভালো করার ক্ষেত্রে তাদের রিসোর্স সেন্টার নেই, নতুন পণ্যের বিষয়ে কোনো ধারণা নেই এবং কোনো উদ্যোগও দেখা যায় না। শুধু ব্রোকারেজ হাউজগুলোর ক্ষেত্রে নয়, মার্চেন্ট ব্যাংক, মিউচুয়াল ফান্ড সব প্রতিষ্ঠানে একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। তারা একে অপরকে দোষারোপ করে থাকে। বাজার ক্রমাগতভাবে কমছে। সেখানে একটি মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট কয়েকগুণ বেড়েছে। কথা হচ্ছে, ওই মিউচ্যুয়াল ফান্ডটি হঠাৎ করে কী কারণে বেড়ে গেল। এ ধরনের ঘটনা বাজারে প্রতিনিয়ত ঘটছে। কেন এ ধরনের ঘটনা ঘটছে, এটি বের করা কি এতই কঠিন? যখন এ ধরনের সমস্যা বাজারে দেখা যায়, তখনই অনুমান করা যায় বড় ধরনের কোনো গলদ আছে। এটি প্রতিনিয়ত বাজারে প্রকট আকার ধারণ করছে।
সাজিদুল ইসলাম শামীম বলেন, আসলে শুধু বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তা কিন্তু নয়, ব্রোকারেজ হাউজগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেকে মনে করেন বাজার ভালো করার ক্ষেত্রে ব্রোকারেজ হাউজগুলো কোনো ভূমিকা রাখছে না, এ কথা সত্য নয়। বাজার উন্নয়ন করার ক্ষেত্রে ব্রোকারেজ হাউজ, ডিএসই ও বিএসইসি অনেক ভূমিকা পালন করছে। ২০১০ সালে বাজার ধসের পর এ পর্যন্ত শুধু বাজার পতন হয়েছে, কথাটি আসলে সঠিক নয়। ২০১০ সালে সূচক কত ছিল, আর এখন কত সূচক রয়েছে? যদি শুধু পতন হতো সেক্ষেত্রে গড়ে ১০ শতাংশ হারে কমলে এখন সূচক হতো মাইনাস।

শ্রুতিলিখন: শিপন আহমেদ

সর্বশেষ..