১ অক্টোবর থেকে সমাবেশের ঘোষণা ঐক্য প্রক্রিয়ার

ড. কামালের সমাবেশে যোগ দিল বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী ১ অক্টোবর থেকে সারা দেশে সভা-সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া। তারা বলছে, শিগগিরই ওই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে কমিটি গঠন করা হবে। গতকাল জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নাগরিক সমাবেশের ঘোষণাপত্রে এ কথা বলা হয়। রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে বিকালে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশের শেষ পর্যায়ে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন তেল গ্যাস খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক শেখ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।
ঘোষণাপত্রে নাগরিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ড. কামাল হোসেনের জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া ও একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর যুক্তফ্রন্টের পাঁচ দফা দাবি এবং ৯ দফা লক্ষ্যের সঙ্গে তারা একাত্মতা প্রকাশ করছেন। এর আগে বেলা ৩টার দিকে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের জাতীয় ঐক্যের আয়োজনে সমাবেশ শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, দেশে এখন গণতন্ত্র নেই। কার্যকর গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে, সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্য গড়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিকল্পধারা ও যুক্তফ্রন্টের সভাপতি বি. চৌধুরী।
গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের ‘জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার’ সমাবেশে যোগ দেন বিএনপি, যুক্তফ্রন্ট, খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলনসহ বিভিন্ন দলের নেতা। পূর্বনির্ধারিত সময় বেলা ৩টায় ঢাকা মহানগর নাট্যমঞ্চের সমাবেশে যোগ দেন তারা। বেলা ৩টার কিছু আগে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন নাট্যমঞ্চের সমাবেশস্থলে আসেন। তার আগেই গণফোরামের নেতাকর্মীরা ছোট ছোট মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে উপস্থিত হন। এর পরপরই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে স্লোগান দিয়ে বিএনপির কিছু নেতাকর্মী সমাবেশস্থলে উপস্থিত হন। তারা ‘জাতীয় ঐক্য জিন্দাবাদ’ বলেও স্লোগান দেন। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের শরিক খেলাফত মজলিসের আহমদ আবদুল কাদেরের নেতৃত্বে একটি মিছিল সেখানে আসে।
বেলা সোয়া ৩টার দিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে সমাবেশ উপস্থিত হন দলটির স্থায়ী কমিটির আরও তিন সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ ও আবদুল মইন খান। সেখানে যুক্তফ্রন্টের শরিক তিন দল জাসদ (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিকল্পধারার মহাসচিব আবদুল মান্নান, যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি. চৌধুরী আসেন। বিএনপির পক্ষে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা ডা. জাফরুল্লাহও সমাবেশে যোগ দেন। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মইনুল হোসেন সমাবেশে বক্তব্য দেন।
সমাবেশস্থলে আরও যোগ দেন ২০-দলীয় জোটের শরিক জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, আহসান হাবিব লিংকন, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, খেলাফত মজলিসের মাওলানা মজিবুর রহমান, আহমেদ আবদুল কাদের, এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার খোন্দকার লুৎফর রহমান ও আসাদুর রহমান খান।
বিএনপি ও ২০-দলীয় জোট নেতাদের নিয়ে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের ডাকে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নাগরিক সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হয়। গতকাল বিকাল ৩টায় গুলিস্তানের মহানগর নাট্যমঞ্চে উদীচী শিল্পী সুরাইয়া পারভীন ও মায়শা সুলতানার কণ্ঠে ‘আমাদের ন্যায্য অধিকার যত, আমাদের ফিরিয়ে দাও’ শীর্ষক গণসঙ্গীতের মধ্য দিয়ে সমাবেশ শুরু হয়। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে সমাবেশের প্রধান অতিথি যুক্তফ্রন্ট চেয়ারম্যান একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছান।
স্বাগত বক্তব্যে জাতীয় ঐক্যের আহ্বায়ক ড. কামাল বলেন, দেশের মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। আজ তা পুনরুদ্ধারে আমরা সমবেত হয়েছি।