২০১৭ সালে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ কমেছে ৮৫%

দাতা সংস্থার জলবায়ু অর্থায়ন

নিজস্ব প্রতিবেদক: জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিঘাত মোকাবিলায় নানা প্রকল্প নিচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো। আর এ খাতে উন্নত দেশগুলোর পাশাপাশি প্রতি বছর বড় অঙ্কের তহবিল বরাদ্দ দিয়ে থাকে দাতা সংস্থাগুলো। জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে থাকলেও ২০১৭ সালে বাংলাদেশের জন্য এ খাতে বরাদ্দ কমেছে প্রায় ৮৫ শতাংশ, যদিও দাতা সংস্থাগুলো গত বছর সার্বিকভাবে এ খাতে ২৮ শতাংশ বরাদ্দ বাড়িয়েছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত ‘২০১৭ জয়েন্ট রিপোর্ট অন মাল্টিলেটারাল ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকস: ক্লাইমেট ফাইন্যান্স’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতি মোকাবিলায় তিন বছরের (২০১৫, ২০১৬ ও ২০১৭ সাল) দেশভিত্তিক বরাদ্দ তুলে ধরা হয়েছে। প্রতি বছরই এ খাতে বরাদ্দ বাড়াচ্ছে দাতা সংস্থাগুলো।
বিভিন্ন প্রকল্পে আফ্রিকা ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, ইউরোপিয়ান ব্যাংক ফর রিকনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক, ইন্টার-আমেরিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক গ্রুপ, ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ও বিশ্বব্যাংকÑএ সাত দাতা সংস্থার সম্মিলিত বরাদ্দ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এতে দেখা যায়, ২০১৫ সালে সাত দাতা সংস্থা জলবায়ু ক্ষতি মোকাবিলায় দুই হাজার ৫০৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার অর্থায়ন করে। পরের বছর এ অর্থায়ন বেড়ে দাঁড়ায় দুই হাজার ৭৪৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার। আর ২০১৭ সালে জলবায়ু ক্ষতি মোকাবিলায় তিন হাজার ৫২১ কোটি ৯০ লাখ ডলার অর্থায়ন করে। অর্থাৎ গত বছর এ খাতে দাতাদের অর্থায়ন বেড়েছে ৭৭৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার বা ২৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ।
এদিকে ২০১৫ সালে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতি মোকাবিলায় দাতা সংস্থাগুলো অর্থায়ন করে ৮৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার। ২০১৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৩১ কোটি ৫০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে অর্থায়ন বেড়েছিল ৪১ দশমিক ৬০ লাখ ডলার বা ৪৬ দশমিক ২৭ শতাংশ। তবে ২০১৭ সালে তা অনেকখানি কমে দাঁড়ায় মাত্র ২০ কোটি ডলার। অর্থাৎ গত বছর জলবায়ু খাতে দাতারা অর্থায়ন কমিয়ে দিয়েছে ১১১ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা প্রায় ৮৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ।
জানতে চাইলে পরিবেশবিদ ও জলবায়ু তহবিলবিষয়ক গবেষক অধ্যাপক আইনুন নিশাত শেয়ার বিজকে বলেন, সিডর ও আইলায় বাংলাদেশে বড় ধরনের প্রাণ ও সম্পদহানি হয়। এতে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় শীর্ষে উঠে আসে বাংলাদেশের নাম। তবে সম্প্রতি বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিছুটা কমেছে। আবার যেসব দুর্যোগ হচ্ছে তাতে মৃত্যুহার কমেছে। এতে তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান কিছুটা উন্নীত হয়েছে। এতে এ খাতে অর্থায়ন কম হচ্ছে।
যদিও জলবায়ু তহবিলে বাংলাদেশের জন্য দাতাদের অর্থায়ন কমানোকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, এডিবি, বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অর্থ লগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান জলবায়– তহবিলকে লাভজনক ব্যবসার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করতে চাচ্ছে। সম্ভাব্য সর্বনি¤œ সুদ ও সর্বোচ্চ রেয়াতি সুবিধার মাধ্যমে এ ধরনের ঋণ প্রদান করা হলেও ঋণ ও সুদ বাবদ অতিরিক্ত বোঝা জলবায়ু অভিঘাতের শিকার মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন বা যুক্তি কোনোটাই নেই। বরং এ খাতে শিল্পোন্নত দেশগুলোর প্রস্তাবিত ১০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠন ও তা থেকে বরাদ্দ প্রাপ্তিকে বাংলাদেশের গুরুত্ব দেওয়া উচিত।