২০১৭ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৭,৩৯৭

যাত্রীকল্যাণ সমিতির প্রতিবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। ২০১৭ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন সাত হাজার ৩৯৭ জন। আর পঙ্গুত্ববরণ করেছেন এক হাজার ৭২২ জন। এছাড়া আহত হয়েছেন ১৬ হাজার ১৯৩ জন। ওই সময় মোট দুর্ঘটনার সংখ্যা চার হাজার ৯৭৯টি।

গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

সংগঠনটির পর্যবেক্ষণে ২০১৬ সালে চার হাজার ৩১২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ছয় হাজার ৫৫ জন নিহত ও ১৫ হাজার ৯১৪ জন আহত হয়েছিল। বিগত বছরের তুলনায় ২০১৭ সালে দুর্ঘটনা বেড়েছে ১৫ দশমিক পাঁচ শতাংশ। নিহত ২২ দশমিক দুই শতাংশ এবং আহত এক দশমিক আট শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদপত্রে প্রকাশিত সড়ক দুর্ঘটনার সংবাদ মনিটরিং করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে বলে জানান সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

এতে দেখা গেছে, বিদায়ী ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ছোট-বড় চার হাজার ৯৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। এতে সর্বমোট ২৩ হাজার ৫৯০ জন যাত্রী, চালক ও পরিবহন শ্রমিক সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন সাত হাজার ৩৯৭ জন, আহত হয়েছেন ১৬ হাজার ১৯৩ জন। এর মধ্যে হাত-পা বা অন্য কোনো অঙ্গ হারিয়ে পঙ্গু  হয়েছেন এক হাজার ৭২২ জন। দুর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জিডিপির প্রায় দেড় থেকে দুই শতাংশ।

গত বছর এক হাজার ২৪৯টি বাস, এক হাজার ৬৩৫টি ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ২৭৬টি হিউম্যান হলার, ২৬২টি কার, জিপ, মাইক্রোবাস, এক হাজার ৭৪টি অটোরিকশা, এক হাজার ৪৭৫টি মোটরসাইকেল, ৩২২টি ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ৮২৪টি নছিমন-করিমন দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, বিপজ্জনক অভারটেকিং, রাস্তা-ঘাটের নির্মাণ ত্রুটি এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহনের কারণে এসব সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। এছাড়া যাত্রী ও পথচারীদের অসতর্কতা, চলন্ত অবস্থায় মোবাইল বা হেডফোন ব্যবহার, মাদকসেবন করে যানবাহন চালানো, রাস্তায় ফুটপাত না থাকার কারণেও দুর্ঘটনা ঘটে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেনÑতত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধ সংগঠন ফুয়ারার সভাপতি ইকরাম আহম্মেদ, বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা কেন্দ্রের সহকারী অধ্যাপক কাজী সাইফুন নেওয়াজ, সাবেক সংসদ সদস্য হুমায়ন কবির হিরু, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিকলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. হানিফ খোকন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. হারুন অর রশিদ প্রমুখ।