২০১৮ সালে চ্যালেঞ্জের মুখে পুঁজিবাজার

প্রতি রবি থেকে বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজারের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে এনটিভি ‘মার্কেট ওয়াচ’ অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ে শেয়ার বিজের নিয়মিত আয়োজন ‘এনটিভি মার্কেট ওয়াচ’ পাঠকের সামনে তুলে ধরা হলো:

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে ২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে বাণিজ্য প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ২৪ শতাংশ। অনেক চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও ২০১৮ সালে একই রকম অথবা এর চেয়ে ভালো প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশা সবার, কিন্তু চলতি বছর নির্বাচনের মৌসুম। এ কারণে পুঁজিবাজার কিছুটা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে পারে। এ সময় বিনিয়োগে অনিশ্চয়তার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে নীতিনির্ধারকদের। রফতানি ও প্রবাসী আয় কমার প্রবণতা ও মূল্যস্ফীতি এ বছরের বড় চ্যালেঞ্জ। আর ব্যাংক খাতে সুশাসনের নিদারুণ সংকটÑএসব মিলিয়ে ২০১৮ সালে পুঁজিবাজার চ্যালেঞ্জের মুখে।

আহমেদ রশীদ লালীর সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন গ্রামীণ ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের এমডি মোহাম্মদ আহসান উল্যা ও পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ফকরুল আলম পাটোয়ারী, এফসিএ।

মোহাম্মদ আহসান উল্যা বলেন, ২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে পুঁজিবাজারে বাণিজ্য প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ২৪ শতাংশ। অনেক চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও ২০১৮ সালে একই রকম অথবা এর চেয়ে ভালো প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশা করি। তবে নির্বাচনের কারণে পুঁজিবাজার কিছুটা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে পারে। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও পুঁজিবাজার ইতিবাচকভাবে ক্রিয়াশীল ছিল। সুতরাং এবারও যাতে নির্বাচনের অস্থিরতা পুঁজিবাজারকে প্রভাবিত করতে না পারে সেজন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিনির্ধারকদের সতর্ক ভূমিকা পালন করতে হবে। করপোরেট  সুশাসনে গত কয়েক মাসে ব্যাংক খাতের যে অবস্থা দাঁড়িয়েছে তাতে এ খাতে সবার অনাস্থা তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ২০১৮ সালে ইটিএফ ট্রেডিং পেতে যাচ্ছে পুঁজিবাজার। ওটিসি বাজার অটোমেটেড হয়ে যাবে। কৌশলগত অংশীদার পর্ষদে আসবে। পুঁজিবাজারের উৎকর্ষ নিয়ে তারা উপদেশ দেবেন। বাজারে তারল্য প্রবাহ বাড়বে। নতুন নতুন পণ্য এলে পুঁজিবাজার আরও প্রাণবন্ত ও সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে। তার জন্য রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। করপোরেট সুশাসন বাড়ানোর জন্য নীতিনির্ধারক পর্যায়ে দায়িত্ব নিতে হবে। জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা খুবই জরুরি। হতাশ না হয়ে ইতিবাচকভাবে নিয়ন্ত্রণ করলে নির্বাচনী অস্থিরতার মধ্যেও পুঁজিবাজার আশাব্যঞ্জক ভূমিকা রাখতে পারে। গত বছর থেকে যে উন্নয়ন মেলা শুরু হয়েছে, সেখানে পুঁজিবাজারকে বেশ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে দেখে-শুনে-বুঝে বিনিয়োগের ব্যাপারে জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হচ্ছে।

ফকরুল আলম পাটোয়ারী বলেন, ব্যাংক খাতের নৈতিকতা নিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী ও পরিচালকদের সতর্কতার প্রয়োজন আছে। বাংলাদেশ ব্যাংক আমানতের বিপরীতে ঋণ দেওয়ার অনুপাত (এডিআর) তিন শতাংশ কমাতে পারে বলে কথাবার্তা চলছে। এতে ইসলামি ও সাধারণ উভয় ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে অসুবিধার সৃষ্টি হতে পারে। পুঁজিবাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভেবেচিন্তে নিতে হবে। বাংলাদেশে দক্ষ পুঁজিবাজার সৃষ্টির যথেষ্ট সুযোগ আছে। ২০১৮ সালে পুঁজিবাজারে নতুন যে পণ্যগুলো আসছে সেগুলোর যথাযথ ব্যবহার করা গেলে আমাদের পুঁজিবাজার উপমহাদেশের মধ্যে ভালো করবে। যদি নীতিনির্ধারণে শক্ত ভূমিকা পালন করা হয় তাহলে বিনিয়োগকারীরা আস্থা ফিরে পাবে।