২০১৮ সালে ৪২ প্রতিষ্ঠান ব্রিটেন ছেড়ে নেদারল্যান্ডসে

শেয়ার বিজ ডেস্ক: ২০১৮ সালে ৪২টি প্রতিষ্ঠান ব্রিটেন থেকে তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নেদারল্যান্ডসে চলে গেছে। আরও ২৫০টি প্রতিষ্ঠান দেশটিতে তাদের কার্যক্রম স্থানান্তরের জন্য আলোচনা চালাচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে নেদারল্যান্ডস কর্তৃপক্ষ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে ব্রিটেনের বিচ্ছেদ বা ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তার জন্যই প্রতিষ্ঠানগুলো ব্রিটেন ছেড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। খবর: খবর সানডে এক্সপ্রেস।
প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাগত জানিয়ে নেদারল্যান্ডসের অর্থমন্ত্রী এরিক উইবস বলেছেন, ‘ব্রেক্সিট ইস্যুতে বৈশ্বিক বাণিজ্যের অনিশ্চয়তা এবং বাণিজ্যনীতির পরিবর্তনে সবার জন্য নেদারল্যান্ডসের ব্যবসায়িক পরিবেশের গুরুত্ব ক্রমাগত বাড়ছে।’ নতুন আসা এ ৪২ প্রতিষ্ঠানের কারণে দেশটিতে দুই হাজার কর্মসংস্থান হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এসব কোম্পানি দেশটিতে ২৫০ বিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ করছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।
কোম্পানিগুলোর মধ্যে এশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কোম্পানি থাকলেও বেশিরভাগই ব্রিটিশ। সরে আসা কোম্পানিগুলোর তালিকায় জাপানি বিনিয়োগ ব্যাংক নরিনচুকিন, মিডিয়া কোম্পানি টিভিটি মিডিয়া, আর্থিক সেবা সরবরাহকারী মার্কেট অ্যাক্সেস ও আজিমো এবং সামুদ্রিক বিমা প্রদানকারী ইউকে পি অ্যান্ড আই রয়েছে।
এছাড়া কিছু কোম্পানি জার্মানি, ফ্রান্স ও আয়ারল্যান্ডসহ অন্যান্য দেশেও তাদের কার্যক্রম চালাতে চাইছে। নন-ইইউ দেশে বৈধভাবে বসবাস করতে না পারায় ইউরোপিয়ান মেডিসিন এজেন্সি (ইএমএ) লন্ডন থেকে আমস্টারডামে তাদের কার্যক্রম সরিয়ে নেবে বলে জানিয়েছে।
আগামী ২৯ মার্চ ব্রিটেন ছাড়বে ইইউ। এ নিয়ে ব্রাসেলসের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্প্রদায়গুলোর চুক্তির অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এ ইস্যুতে অনেক ব্রিটিশ ও মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিও অন্যত্র চলে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
এর আগে এর প্রতিবেদনে অন্তত ৩৭টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যবসা গুটিয়ে জার্মানি চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে। এসব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কেউ কেউ তা ইতোমধ্যে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে। এতে লন্ডনকে ক্ষতি গুনতে হবে ৭০ হাজার কোটি পাউন্ড। বিশ্লেষকদের মতে, আশঙ্কা করা হচ্ছে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সাড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ বিলিয়ন পাউন্ড সম্পদ লন্ডন থেকে ফ্রাঙ্কফুর্টে সরিয়ে নেবে। আগামী বছরের প্রথম প্রান্তিকেই এসব সম্পদের সিংহভাগ স্থানান্তর হয়ে যাবে।
ব্রেক্সিট পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় পড়তে হতে পারে এ ভয়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ব্যবসা লন্ডন থেকে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে। বহুজাতিক কোম্পানিগুলো ব্যবসা সংকটে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ পাসপোর্টের অধিকার না থাকায় ইউরোপের অনেক ব্যবসায়ী আর সহজে ব্রিটেনে আসতে চাইবে না বা পারবে না। আর ব্যাংকগুলোর চলে যাওয়া মানেই তাদের বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সমেত চলে যাওয়া।