২১৯ পরিচালকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে বিএসইসি

ন্যূনতম শেয়ার ধারণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর পরিচালকদের প্রত্যেকের (স্বতন্ত্র পরিচালক ব্যতীত) পরিশোধিত মূলধনের দুই শতাংশের নিচে শেয়ার ধারণকারীদের শাস্তির আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এছাড়া উদ্যোক্তা ও পরিচালকের মোট পরিশোধিত মূলধনের সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ নিশ্চিত করতে নির্দেশনা জারিরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

গতকাল মঙ্গলবার বিএসইসির ৬২৯তম কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে; যা সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সাইফুর রহমান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানান। জানা গেছে, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর উদ্যোক্তা বা পরিচালককে নিজ প্রতিষ্ঠানের ন্যূনতম দুই শতাংশ শেয়ার থাকতে হবে বলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির নির্দেশনা রয়েছে। সংস্থাটির অনুসন্ধানে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ২১৯ জন পরিচালক ন্যূনতম শেয়ার ধারণে ব্যর্থ। অন্যদিকে সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার উদ্যোক্তা-পরিচালকদের নেই ৭৮টি কোম্পানির। এ-সংক্রান্ত সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনকারী পরিচালক ও কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

জানা গেছে, পুঁজিবাজারকে আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে উদ্যোক্তা পরিচালক ও সম্মিলিতভাবে ন্যূনতম শেয়ার ধারণের বিষয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কঠোর হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে ২০১১ সালের ২২ নভেম্বর ন্যূনতম শেয়ার ধারণ-সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করে বিএসইসি।

সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মতে, তালিকাভুক্ত বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের অধিকাংশই সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে থাকায় বাজারে শেয়ারের চাহিদা কমে যাচ্ছে। ফলে প্রকৃত শেয়ারমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। প্রত্যেক পরিচালকের হাতে দুই শতাংশ  ও সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার থাকার কথা থাকলেও আইনটি মানছে না অনেক কোম্পানির পরিচালক।

২০০৯ ও ২০১০ সালে চাঙা পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির অনেক উদ্যোক্তা-পরিচালক হাজার হাজার কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করে দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী সময়ে ২০১১ সালের ২২ নভেম্বর উদ্যোক্তা-পরিচালকদের ন্যূনতম শেয়ার ধারণের শর্ত বেঁধে দিয়ে নির্দেশনা জারি করে বিএসইসি। এ নির্দেশনাটি জারির পর থেকেই বিভিন্ন কোম্পানি, বিশেষ করে ব্যাংকের পরিচালকরা ন্যূনতম শেয়ার ধারণের শর্ত থেকে ব্যাংকগুলোকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানান। সে সময় কয়েকটি ব্যাংকের পরিচালক বিএসইসির বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে মামলাও করেন। মামলায় হেরে গিয়ে পর্ষদের সদস্যপদও ছাড়তে হয় সংশ্লিষ্ট ব্যাংক পরিচালকদের।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর পরিচালকদের প্রত্যেকের (স্বতন্ত্র পরিচালক ব্যতীত) পরিশোধিত মূলধনের দুই শতাংশ শেয়ার ধারণ বাধ্যতামূলক ছিল। তবে তালিকাভুক্ত অনেক কোম্পানিই রয়েছে; যাদের পরিচালকদের প্রত্যেকেরই দুই শতাংশ শেয়ার ধারণ করছেন না। এ অবস্থায় তারা কোম্পানির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

কমিশন বলছে, এ ধরনের পরিচালকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর এ বিষয়টি এনফোর্সমেন্টে পাঠানোর জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। অন্যদিকে তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকের (স্বতন্ত্র পরিচালক ব্যতীত) মোট পরিশোধিত মূলধনের ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে যারা ব্যর্থ হয়েছেন; ওইসব কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের উল্লিখিত শেয়ার ধারণ নিশ্চিতকরণের জন্য নির্দেশনা জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।