প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

২৯ ঝুঁকিপূর্ণ বন্ডেড প্রতিষ্ঠানের ছয়টি অস্তিত্বহীন, একটি বন্ধ

রহমত রহমান: প্রিভেন্টিভ কার্যক্রম, নিয়মিত অডিট, মামলা, লাইসেন্স বাতিলসহ নানা কার্যক্রম পরিচালনা করা হলেও বন্ড সুবিধার অপব্যবহার থেমে নেই। কিছু প্রতিষ্ঠান বন্ড সুবিধা নিতে ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে। আবার কিছু প্রতিষ্ঠান বন্ড সুবিধার কাঁচামাল খোলাবাজারে বিক্রি করে দেয়। ব্যবস্থা নেওয়ার পরও যেসব প্রতিষ্ঠান রাজস্ব ঝুঁকিতে রয়েছে এমন ২৯ প্রতিষ্ঠানের তালিকা করে নিরীক্ষা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সম্প্রতি এনবিআরের আওতাধীন কাস্টমস মূল্যায়ন ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কমিশনারেট (সিভিসি) এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দিয়েছে। সম্প্রতি এনবিআরে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৯ ঝুঁকিপূর্ণ বন্ড প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৬টির নিরীক্ষা শেষ হয়েছে। এর মধ্যে ছয়টির অস্তিত্ব মেলেনি। একটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। আরও ছয়টির নিরীক্ষা চলমান রয়েছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কয়েকটির লাইসেন্স বাতিল ও কয়েকটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। এনবিআর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে গাজীপুরের বন্ডেড প্রতিষ্ঠান এ অ্যান্ড এ এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড ও রাজধানীর লালবাগ এলাকার এ অ্যান্ড এ এক্সেসরিজ লিমিটেডের বন্ড লাইসেন্স বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এ অ্যান্ড এ এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিদর্শনে প্রতিষ্ঠানটির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ২০০৭ সালের ১ জুলাই থেকে ২০০৮ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির কোনো আমদানি-রফতানির তথ্য নেই। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকার ক্যাপিটাল মেশিনারিজসহ পণ্যসামগ্রী বন্ড সুবিধায় আমদানি করেছে। একই সময় প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার পোশাক রফতানি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির বন্ড লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করা হয়। আর এ অ্যান্ড এ এক্সেসরিজ লিমিটেড বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, এ প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ২০১৬ সালের ১৬ জুন থেকে ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি কোনো আমদানি-রফতানি করেনি। ২০০২-০৮ পর্যন্ত প্রায় আড়াই কোটি টাকার ক্যাপিটাল মেশিনারিজসহ বন্ড সুবিধায় কাঁচামাল আমদানি করেছে। প্রায় পৌনে ৯ লাখ টাকার পোশাক রফতানি করেছে। এ প্রতিষ্ঠানেরও বন্ড লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।
বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে সাভারের ৫এফ অ্যাপারেলস লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির প্রায় সোয়া তিন কোটি টাকার নিট ফ্যাব্রিকস আমদানি করে তা খোলাবাজারে বিক্রি করে দিয়েছে। এছাড়া ইউডি-বহির্ভূত প্রায় সাড়ে ১৬ কোটি টাকা ও স্থানীয়ভাবে প্রায় পৌনে তিন কোটি টাকার পণ্য ক্রয় করে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করেছে। ইউডি-বহির্ভূত পণ্য আমদানি ও স্থানীয়ভাবে পণ্য সংগ্রহ করায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া মিরপুর সেনপাড়া পর্বতা এলাকার ৪ইউ ক্লথিং লিমিটেডের নিরীক্ষায় রাজস্ব ফাঁকি পাওয়া না গেলেও অনিয়ম পাওয়া গেছে; যা বন্ডেড সুবিধার অপব্যবহারের শামিল। দুটি প্রতিষ্ঠান একই বিল্ডিং ও দুই প্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল, তৈরি পোশাক একই সঙ্গে গুদামজাত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সাভারের আশুলিয়া বন্ডেড প্রতিষ্ঠান ফোরএস পার্কস্টাইল লিমিটেড প্রায় পৌনে পাঁচ হাজার কেজি কাঁচামাল অবৈধভাবে অপসারণের মাধ্যমে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করেছে। এছাড়া ইউডি-বহির্ভূত স্থানীয়ভাবে কাঁচামাল কিনে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করেছে। এছাড়া এ প্লাস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের প্রায় দেড় লাখ টাকা, নারায়ণগঞ্জের এবি সোয়েটার্স লিমিটেড, সাভারের এবি এক্সেসরিজ লিমিটেড, এএমসিএস টেক্সটাইল লিমিটেড, উত্তরার এবিএম অ্যাপারেলস লিমিটেড, গাজীপুরের এএফএম সোয়েটার্স লিমিটেড, হেমায়েতপুরের এজেআই অ্যাপারেলস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, টঙ্গীর এজি ড্রেসেস লিমিটেড, মিরপুরের একেজে ফ্যাশন লিমিটেড, সাভারের একেএইচ স্টিচ আর্ট লিমিটেড, একেএম নিটওয়্যার লিমিটেড, শ্যামপুর এলাকার এ ওয়ান ড্রেস মেকআপ লিমিটেড, গাজীপুরের এবিজি সোয়েটার্স লিমিটেড, নারায়ণগঞ্জ এলাকার এঅ্যান্ডএইচ এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের বিরুদ্ধে বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। এসব প্রতিষ্ঠানের বন্ডিং কার্যক্রম খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গাজীপুরের এঅ্যান্ডএ ফ্যাশন, এঅ্যান্ডএ টাউজার, সাভারের এ ওয়ান (বিডি) লিমিটেড, এ জে সুপার গার্মেন্টস লিমিটেড, এ প্লাস সোয়েটারস লিমিটেডের নিরীক্ষায় রাজস্ব ফাঁকি পাওয়া যায়নি। নিরীক্ষা চলমান রয়েছে। সাভারের থ্রি এ ফ্যাশন লিমিটেড, নারায়ণগঞ্জের এ ওয়ান পোলার লিমিটেড, নারায়ণগঞ্জের এ কে ফ্যাশন লিমিটেড, গাজীপুরের এএমসি সোয়েটার লিমিটেড ও সাভারের এ কে এক্সেসরিজ প্রাইভেট লিমিটেডের দ্রুত সময়ে নিরীক্ষা প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

সর্বশেষ..



/* ]]> */