৩জি-র নামে প্রতারণার বন্ধ হোক

10অনলাইনে কেনাকাটা, ব্যাংকিং, পড়াশোনা, স্বাস্থ্যসেবা, ই-গভর্ন্যান্সসহ টেলিকনফারেন্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো এখন ইন্টারনেটের মাধ্যমে পাওয়া যাওয়ায় দেশে দ্রুত বাড়ছে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের সংখ্যা। কিন্তু এসবের পাশাপাশি সবচেয়ে যে বড় সমস্যা সেগুলো হলোÑকলড্রপ, থ্রিজি সেবায় ইন্টারনেটের গতি অস্বাভাবিক কম থাকায় হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার কিংবা মেসেঞ্জার ব্যবহারের সময় বারবার ‘নো কানেকশন’, ‘রিকানেকটিং’ ‘কিংবা ওয়েটিং ফর নেটওয়ার্ক’-এর যন্ত্রণাসহ উচ্চমূল্য ও ধীরগতির ইন্টারনেট, নেটওয়ার্কে সমস্যা, ব্যবহারের চেয়ে টাকা বেশি কেটে নেওয়াসহ অনেক অভিযোগ বিদ্যমান রয়েছে বর্তমানে দেশের চারটি মোবাইল অপারেটর (গ্রামীণফোন, রবি, টেলিটক, বাংলালিংক) ও ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে বাংলাদেশের একটিমাত্র সরকারি অপারেটর টেলিটকের থ্রিজি সেবা-কাভারেজ এখন সোনার পাথর বাটির মতোই অবাস্তব, যা নিয়ে গ্রাহক ভোগান্তির শেষ নেই। মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো চমকদার ও নজরকাড়া থ্রিজি ডেটার বিজ্ঞাপন দিলেও দেশের অনেক জায়গায় এখনও থ্রিজি (৩এ) নেটওয়ার্ক সম্প্র্রসারণ করতে পারেনি। মূলত থ্রিজির আড়ালে এখনও ২এ সেবা চালিয়ে যাচ্ছে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো। রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য বিভাগীয় শহরে ইন্টারনেটের গতি একটু পাওয়া গেলেও মফস্বলে ইন্টারনেটের কচ্ছপগতিতে বিরক্ত গ্রাহকরা। বর্তমানে দেশে কার্যকর ইন্টারনেট সংযোগের সংখ্যা প্রায় সাত কোটি ১৯ লাখ ৪৪ হাজার, যেখানে প্রতি ১০০ জনের ভেতরে ৪৪ জন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। এ থেকে খুব সহজেই বোঝা যায় যে, লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা। যে হারে অপারেটরগুলোর গ্রাহক বাড়ছে, সে হারে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ হচ্ছে নাÑযার কারণে বর্ধিত গ্রাহকের নেটওয়ার্ক সংস্থান একটি বিরাট প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশ সম্ভবত পৃথিবীর একমাত্র দেশ যেখানে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো সবচেয়ে কমসংখ্যক তরঙ্গ ব্যবহার করে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষকে টেলিযোগাযোগ সেবা দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে চারটি সক্রিয় অপারেটরের কাছে প্রায় ১১৫ মেগাহার্জ বেতার তরঙ্গ বরাদ্দ আছে, যা দিয়ে দেশের মোট ১৩ কোটি ৯৩ লাখ গ্রাহককে সেবা দিচ্ছে মোবাইল অপারেটরগুলো। কাজেই এটি বলার অপেক্ষা রাখে না যে, মোবাইল অপারেটরগুলো ঠিক কেমন ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। যেখানে যুক্তরাজ্যে প্রতিটি অপারেটর গড়ে ১৫৫ দশমিক ৯ মেগাহার্জ, জার্মানিতে ১১৪ দশমিক ৮ মেগাহার্জ, অস্ট্রেলিয়ায় ৭২ দশমিক ৮৫ ও মালয়েশিয়ায় ৫৬ মেগাহার্জ তরঙ্গ ব্যবহার করছে মোবাইল অপারেটরগুলো, সে তুলনায় বাংলাদেশের মোবাইল অপারেটরগুলো নগণ্য। কাজেই এ অবস্থা চলতে থাকলে বাংলাদেশের টেলিকম সেক্টর অন্যানো দেশের তুলনায় প্রযুক্তির দিক দিয়ে অনেক পিছিয়ে যাবে এবং মোবাইল অপারেটরগুলোর একমাত্র নিয়ন্ত্রক তথা বিটিআরসিকে মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটরগুলোর গ্রাহকের জন্য মানসম্পন্ন সেবা নিশ্চিত হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা উচিত। কারণ বিটিআরসির দায়িত্ব হলো অপারেটরগুলোর সেবার মানদণ্ড বিচার করা কিন্তু তা করতে ব্যর্থ হচ্ছে এবং গ্রাহকরাও অভিযোগ করতে করতে ক্ষান্ত হয়ে পড়ছে। কাজেই সত্যিকার অর্থে দেশকে তথ্যপ্রযুক্তির দিক দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে বাংলাদেশ সরকার, সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে কিছু যুগোপযোগী পদক্ষেপ নিতে হবে। যেমন ৩এ এবং ৪এ-র সঠিক তরঙ্গ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে অপারেটরগুলোর মাঝে, আইসি এক্সের (ইন্টারকানেকশন এক্সচেঞ্জ) অপারেটরগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে হবে, প্রয়োজনমতো মোবাইল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের ব্যবস্থা নিতে হবে। ৪এ নীতিমালা যেখানে ইন্টারনেটের সর্বোচ্চ গতি এক জিবিপিএস এবং সর্বনি¤œ ১০০ এমবিপিএস-র সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে দেশ সত্যিকার অর্থে তথ্যপ্রযুক্তিতে এগিয়ে যাবে এবং সঙ্গে মোবাইল অপারেটরগুলোর বেতার তরঙ্গের অপ্রতুলতা কাটবে এবং সঙ্গে গ্রাহকসেবার মান ও উন্নত হবে বলে আশা করা যায়।

 

মো. মনজুরুর রহমান

শিক্ষার্থী

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর