কোম্পানি সংবাদ

৪০০ কোটি টাকার বন্ড ইস্যু করবে সিটি ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যাংক খাতের কোম্পানি দি সিটি ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ ৪০০ কোটি টাকার পারপিচুয়াল বন্ড ইস্যুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী ব্যাংকের ব্যাসেল-৩ কমপ্লায়েন্সের শর্তপূরণ সাপেক্ষে অ্যাডিশনাল টায়ার-১ (এটি-১) মূলধন হিসেবে বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে এ অর্থ সংগ্রহ করা হবে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
কোম্পানিটির ৫৫৪তম সভায় পারপিচুয়াল বন্ড ছেড়ে ৪০০ কোটি টাকা সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং অন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর অনুমোদনক্রমে অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
ব্যাংক খাতের এ কোম্পানিটি দ্বিতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন, ২০১৯) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে এক টাকা ১২ পয়সা, যা আগের বছর একই সময় ছিল এক টাকা পাঁচ পয়সা। আর প্রথম দুই প্রান্তিক বা ছয় মাস শেষে (জানুয়ারি-জুন, ২০১৯) ইপিএস হয়েছে এক টাকা ৯১ পয়সা। আগের বছর একই সময় ছিল এক টাকা ৪৪ পয়সা। দুই প্রান্তিক শেষে শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থ প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ছয় টাকা ১৫ পয়সা (লোকসান)। যা আগের বছর একই সময় ছিল ১২ টাকা ৩০ পয়সা। ২০১৯ সালের ৩০ জুন শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) হয়েছে ২৬ টাকা ৭৬ পয়সা, যা ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরে ছিল ২৫ টাকা ৭৪ পয়সা।
এদিকে গতকাল ডিএসইতে শেয়ারদর শূন্য দশমিক ৭৩ শতাংশ বা ২০ পয়সা কমে প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ ২৭ টাকা ১০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ২৭ টাকা। দিনজুড়ে চার লাখ ৫১ হাজার ৩৩৫টি শেয়ার মোট ২৭৫ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর এক কোটি ২২ লাখ ১৬ হাজার টাকা। দিনভর শেয়ারদর ২৬ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ২৭ টাকা ৪০ পয়সায় লেনদেন হয়। এক বছরে শেয়ারদর ২২ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৩৬ টাকা ৩০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে।
২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ছয় শতাংশ নগদ ও পাঁচ শতাংশ বোনাসসহ সর্বমোট ১১ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে দি সিটি ব্যাংক লিমিটেড। ওই সময় কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয় দুই টাকা ৩০ পয়সা এবং ৩১ ডিসেম্বরে শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়ায় ২৫ টাকা ৭৪ পয়সা। যা আগের বছর একই সময় ছিল যথাক্রমে তিন টাকা ৫৭ পয়সা ও ২৮ টাকা ৪০ পয়সা। এর আগে ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাববছরে বিনিয়োগকারীদের ১৯ শতাংশ নগদ ও পাঁচ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দেয়। যা তার আগের বছরে ছিল ২৪ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ। আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে তিন টাকা ৯০ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ২৮ টাকা ৪০ পয়সা। যা আগের বছর একই সময় ছিল যথাক্রমে চার টাকা ৬৪ পয়সা ও ২৭ টাকা ৯৮ পয়সা।
কোম্পানিটি ১৯৮৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে বর্তমানে ‘এ’ ক্যাটেগরিতে অবস্থান করছে। এক হাজার ৫০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন এক হাজার ১৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ এক হাজার ৩২৪ কোটি ৮৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা। ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যমতে, কোম্পানির মোট ১০১ কোটি ৬৩ লাখ ৮৬ হাজার ৬৬১টি শেয়ার রয়েছে। কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে ৩০ দশমিক ২৯ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক ২২ দশমিক ১০ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারী ১১ দশমিক ৬৯ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে রয়েছে বাকি ৩৫ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার।

সর্বশেষ..



/* ]]> */