৫০০ কোটি টাকার বন্ড ছাড়বে ইস্টার্ন ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যাংক খাতের কোম্পানি ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ ৫০০ কোটি টাকার অপরিবর্তনীয়, অতালিকাভুক্ত পরিশোধযোগ্য বন্ড ছাড়ার সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
৫০০ কোটি টাকার ‘সেকেন্ড সাবোর্ডিনেট বন্ড অব ইবিএল’ নামে বন্ডটির মেয়াদ হবে সাত বছর। কোম্পানির মূলধন ভিত্তি শক্তিশালী করতে এ বন্ড ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিচালনা পর্ষদ। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদন সাপেক্ষে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে।
এ খবরের প্রেক্ষিতে সবশেষ কার্যদিবসে ইস্টার্ন ব্যাংকের শেয়ারদর ২০ পয়সা বা দশমিক ৫৬ শতাংশ বেড়ে লেনদেন হয় ৩৬ টাকায়। লেনদেন শেষে সর্বশেষ দর দাঁড়ায় ৩৫ টাকা ৭০ পয়সায়। ওইদিন ব্যাংকের এক লাখ ৪১ হাজার ৪৫৩টি শেয়ার ১৭৯ বার হাতবদল হয়। যার বাজারদর ছিল ৫০ লাখ ৩৭ হাজার টাকা।
সম্প্রতি ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (সিআরআইএসএল) ব্যাংকটিকে দীর্ঘ মেয়াদে ‘এএ+’ এবং স্বল্প মেয়াদে ‘এসটি-টু’ হিসেবে মূল্যায়ন করেছে। চলতি হিসাববছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ-’১৮) শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৬৯ পয়সা। এটি আগের বছরের একই সময় ছিল এক টাকা ২৭ পয়সা। অর্থাৎ ইপিএস কমেছে ৫৮ পয়সা। চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ৩০ টাকা ১০ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময় ছিল ২৯ টাকা ৫১ পয়সা। ওই সময় কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে ৫০ কোটি ৮০ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন, ২০১৮) কোম্পানির ইপিএস হয়েছে এক টাকা ১৪ পয়সা। যা আগের বছর একই সময়ে ছিল এক টাকা চার পয়সা। অর্থাৎ ইপিএস বেড়েছে ১০ পয়সা। দুই প্রান্তিকে অর্থাৎ (জানুয়ারি-জুন, ২০১৮) ছয় মাসে কোম্পানির ইপিএস দাঁড়িয়েছে এক টাকা ৮৩ পয়সা। যা আগের বছর একই সময়ে ছিল দুই টাকা ৩১ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানির ইপিএস কমেছে ৪৮ পয়সা। ৩০ জুন, ২০১৮ পর্যন্ত শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ২৯ টাকা ২৫ পয়সায়। যা ৩০ জুন, ২০১৭ পর্যন্ত ছিল ২৮ টাকা ৬৪ পয়সা।
সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, কোম্পানির মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) ৯ দশমিক ৭৫। নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, ১০ দশমিক ৮৫।
সর্বশেষ ২০১৭ সালের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ব্যাংকটি শেয়ারহোল্ডারদের ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। ওই বছর কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় হয় তিন টাকা ২৯ পয়সা, শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়ায় ২৯ টাকা ৬৪ পয়সায় এবং মুনাফা হয়েছে ২৪২ কোটি ৮২ লাখ টাকা।
ব্যাংকটি ২০১৬ সালের হিসাববছরে ২০ শতাংশ নগদ ও পাঁচ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দেয়, যা আগের বছরে চেয়ে ১০ শতাংশ বোনাস কম। সে বছর ইপিএস হয়েছিল তিন টাকা ৮৬ পয়সা এবং এনএভি ছিল ২৯ টাকা ৬৪ পয়সা। এটি আগের বছরের একই সময় ছিল যথাক্রমে তিন টাকা ৭৩ পয়সা ও ৩৩ টাকা ৮৮ পয়সা। ওই সময় কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছিল ২৭১ কোটি ৬৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা, যা আগের বছরের একই সময় ছিল ২২৮ কোটি ২৬ লাখ ১০ হাজার টাকা।
১৯৯৩ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ‘এ’ ক্যাটেগরির ইস্টার্ন ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন এক হাজার ২০০ কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধন ৭৩৮ কোটি টাকা। কোম্পানির সঞ্চিত মূলধন এক হাজার ৪৪৯ কোটি ৬২ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৭৩ কোটি ৭৯ লাখ ৯৯ হাজার ৫৮৯টি। মোট শেয়ারের মধ্যে ৩১ দশমিক ৫৬ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে রয়েছে, ৪৩ দশমিক ৫১ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক, দশমিক ৫১ শতাংশ বিদেশি এবং বাকি ২৪ দশমিক ৪২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ জনগণের হাতে।