৫২ দিন পর বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন শুরু

শেয়ার বিজ প্রতিনিধি, দিনাজপুর : দেশের একমাত্র কয়লাভিত্তিক দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ৫২ দিন বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার থেকে আবারও উৎপাদন শুরু হয়েছে। গত ২২ জুলাই কয়লা সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে যায় দেশের একমাত্র কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি। এতে বিদ্যুৎ সংকটে পড়ে রংপুর বিভাগের আট জেলা।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ম্যানেজার (উৎপাদন) মাহাবুবুর রহমান গতকাল বলেন, বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির স্টিমে আগুন দেওয়া হলেও বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে রাত ১০টা থেকে।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবদুল হাকিম বলেন, কয়লা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি কর্তৃপক্ষ কয়লা সরবরাহ করতে না পারায় গত ২২ জুলাই রাত সাড়ে ১১টায় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বন্ধ করতে বাধ্য হয় তারা। গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে কয়লা উৎপাদন শুরু হওয়ায় কয়েক দিনের কয়লা মজুত করে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির ২৭৫ মেগাওয়াটের একটি ইউনিটে উৎপাদন শুরু করা হয়েছে; কয়লা সরবরাহ বৃদ্ধি হয়ে পর্যায়ক্রমে ১২৫ মেগাওয়াট করে ২৫০ মেগাওয়াটের বাকি দুটি ইউনিট চালু করা হবে।
উল্লেখ্য, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে উত্তোলনকৃত কয়লার মধ্যে এক লাখ ৪৪ হাজার টন ঘাটতি হওয়ায় গত ১৯ জুলাই প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহম্মদ ও কোম্পানি সচিব (জিএম প্রশাসন) আবুল কাশেম প্রধানিয়াকে প্রত্যাহার করেছে খনিটির নিয়ন্ত্রণকারী পেট্রোবাংলা। একই কারণে মহাব্যবস্থাপক (মাইনিং অ্যান্ড অপারেশন) এটিএম নুরুজ্জামান চৌধুরী ও উপমহাব্যবস্থাপক (স্টোর) খালেদুল ইসলামকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। যদিও খনি কর্মকর্তাদের দাবি, এটি সিস্টেম লস। তাদের দাবি, ২০০৭ সাল থেকে খনিটিতে বাণিজ্যিকভাবে কয়লা উত্তোলন শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত খনি থেকে এক কোটি ১০ লাখ টন কয়লা উত্তোলন করা হয়েছে। এর মধ্যে এক লাখ ৪৪ হাজার টন সিস্টেম লস হয়েছে।
বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নর্দার্ন ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লি. নেসকো’র রংপুর জোনের প্রধান প্রকৌশলী শাহাদাৎ হোসেন সরকার বলেন, রংপুর বিভাগের আট জেলায় প্রতিদিন ৬৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন, এর মধ্যে ৫২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে। কিন্তু কয়লা সংকটের কারণে এক মাস ২২ দিন থেকে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রেটি পুরোপুরি বন্ধ থাকায় বাইরে থেকে বিদ্যুৎ এনে ওই আট জেলায় সরবরাহ করা হয়েছে। এ কারণে এক মাস থেকে বিদ্যুতের কিছু ঘাটতি দেখা দেয়, এখন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে উৎপাদন পুরোপুরি শুরু হলে বিদ্যুৎ ঘাটতি পূরণ হবে।
তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কর্মরত একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বড়পুকুরিয়া ৫২৫ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির তিন ইউনিটে প্রতিদিন (জ্বালানি) কয়লার প্রয়োজন হবে পাঁচ হাজার ২০০ টন। সেখানে কয়লা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে প্রতিদিন কয়লা উৎপাদন হয় তিন হাজার ৫০০ থেকে চার হাজার টন। ফলে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে প্রতিদিন এক হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার টন কয়লা ঘাটতি থাকে। এতে প্রতিদিন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির একটি করে ইউনিট বন্ধ থাকে। এছাড়া কেন্দ্রটির যন্ত্রাংশের মেয়াদ কমে যাওয়ায় আশানুরূপ উৎপাদন হচ্ছে না। ফলে ৫২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র হলেও উৎপাদন হয় মাত্র ৩০০ থেকে ৩৫০ মেগাওয়াট।