বিশ্ব বাণিজ্য

৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজের বড় ক্রয়াদেশ হারাল বোয়িং

শেয়ার বিজ ডেস্ক: সৌদি আরবের স্বল্প-বাজেটের এয়ারলাইন ‘ফ্লাইএডিল’ বোয়িংয়ের কাছ থেকে ৩০টি ৭৩৭ ম্যাক্স মডেলের উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি বাতিল করেছে। পাঁচ মাসের মধ্যে দুটি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় পড়ে ৩৪৬ আরোহী নিহত হওয়ার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের ওপর বেশ গুরুতরভাবেই পড়েছে। খবর: রয়টার্স।
প্রথমে গত বছর অক্টোবরে ইন্দোনেশিয়ায় এবং গত মার্চে ইথিওপিয়ায় ওই দুর্ঘটনার পর বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজগুলো আর আকাশে উড্ডয়ন করেনি। কবে নাগাদ উড়োজাহজগুলোকে আবারও যাত্রী বহনের অনুমিত দেওয়া হবে তাও এখনও ঘোষণা হয়নি। বোয়িং তাদের নতুন মডেলের উড়োজাহাজগুলোর স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ সফটওয়্যারের উন্নতি সাধন করে সংকট সমাধানের চেষ্টা করছে।
বোয়িংয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, ফ্লাইএডিল তাদের প্রাথমিক ক্রয় চুক্তি নিয়ে আর সামনে অগ্রসর না হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই চুক্তিতে ৩০টি বোয়িং ৩৭৩ ম্যাক্স উড়োজাহাজ কেনার এবং ভবিষ্যতে একই মডেলের আরও ২০টি উড়োজাহাজ কেনা হতে পারে বলা হয়েছিল। পরবর্তী ২০টি উড়োজাহাজের মূল্য প্রায় ৬০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার হলেও দুর্ঘটনার পর বোয়িং তাদের উড়োজাহাজের দাম কমিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু তাতেও ফ্লাইএডিলের সঙ্গে তারা চুক্তি বাঁচাতে পারল না। সৌদি আরবের রাষ্ট্র পরিচালিত সৌদি এরাবিয়ান এয়ারলাইনসের নিয়ন্ত্রণ করে ফ্লাইএডিল। দুই দুর্ঘটনায় নিহত কয়েকজনের পরিবারের সদস্যরা বোয়িংয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।
ওদিকে, গত সপ্তাহে বোয়িং কর্তৃপক্ষ দুই দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে ১০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দেয়। যদিও নিহতদের পরিবার ওই ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করবে না বলে জানিয়েছে।
৭৩৭ ম্যাক্স-৮ মডেলের উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ায় মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা বোয়িং সংকটে পড়েছে। ইথিওপিয়ায় এ মডেলের উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার পর থেকে এক সপ্তাহে প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য কমেছে দুই হাজার ৫০০ কোটি ডলার। শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, উড়োজাহাজ খাতে প্রতিষ্ঠানটির সুনামও ক্ষুন্ন হচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ায় গত মার্চ মাসে এক সপ্তাহে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারদর কমে ১০ শতাংশ। ২৫ বিলিয়ন ডলার বাজারমূল্য হারায় বোয়িং। তবে সমস্যা সমাধানে নতুন একটি সফটওয়্যার স্থাপনের আশ্বাস দেয় প্রতিষ্ঠানটি।
৭৩৭ ম্যাক্স মডেলের চার হাজার উড়োজাহাজের ক্রয়াদেশ ছিল বোয়িংয়ের, যা এখন পর্যন্ত সরবরাহ করা হয়নি। কিন্তু চলমান এ অচলাবস্থা ক্রেতাদের অবশ্যই উদ্বিগ্ন করেছে। যদি ক্রেতারা এ উড়োজাহাজ নিতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে বড় সংকটে পড়তে হবে প্রতিষ্ঠানটিকে।

সর্বশেষ..