৯ দফা দাবি আদায়ে নতুন কর্মসূচিতে পাটকল শ্রমিকরা

প্রতিনিধি, খুলনা: দেশের পাটকল শ্রমিকদের ৯ দফা দাবি আদায়ে ধর্মঘট ও রাজপথ-রেলপথ অবরোধের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিক লীগের নেতারা। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় পিপলস গোলচত্বরের শ্রমিক সভা থেকে শ্রমিক নেতারা এ কর্মসূটি ঘোষণা করেন।
নতুন কর্মসূচি হচ্ছে ১৪ এপ্রিল সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত প্রতিটি মিলের গেটে সভা ও রাজপথে বিক্ষোভ মিছিল। ১৫, ১৬, ১৭ ও ১৮ এপ্রিল টানা ৯৬ ঘণ্টা উৎপাদন বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন ও প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চার ঘণ্টা রাজপথ-রেলপথ অবরোধ। এরপর বিরতি দিয়ে ২৫ এপ্রিল প্রত্যেক মিলে শ্রমিক সভা এবং ২৭, ২৮ ও ২৯ এপ্রিল টানা ৭২ ঘণ্টা ধর্মঘট এবং প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ছয় ঘণ্টা রাজপথ-রেলপথ অবরোধ।
শুক্রবারের সভায় হাজারো শ্রমিক উপস্থিত ছিলেন। শ্রমিকরা নেতাদের মুখে তাদের মজুরি কমিশন ও সাপ্তাহিক মজুরির দাবি আদায়ের বিষয়ে অগ্রগতি শুনতে চান। বিজেএমসির বৈঠক ব্যর্থ ও আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানান শ্রমিক নেতারা। আন্দোলনে কোনো শ্রমিক ঘরে বসে থাকতে পারবেন না বলেও শ্রমিক নেতারা ঘোষণা দেন। এ সময় শ্রমিকরা দুই হাত তুলে আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানান।
৯ দফা দাবির ভিত্তিতে গত ৬ এপ্রিল ঢাকায় বিজেএমসির প্রধান কার্যালয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা সভা সফল না হওয়ায় শুক্রবার বিআইডিসি রোডের পিপলস গোলচত্বরে ধর্মঘট, রাজপথ-রেলপথ অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিলসহ ৯ দিনের আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিক লীগ খুলনা অঞ্চলের আহ্বায়ক মো. মুরাদ হোসেন। বক্তৃতা করেন কেন্দ্রীয় নেতা সরদার মোতাহার উদ্দিন, সোহরাব হোসেন, মাওলানা হেমায়েত উদ্দিন আজাদী, বিল্লাল মল্লিক, পান্নু মিয়া, আ. মান্নান, আবু দাউদ দ্বীন মোহাম্মদ, শেখ মো. ইব্রাহিম, আক্তার হোসেন, হেমায়েত হোসেন, দ্বীন ইসলাম, আবু জাফর আলী, সরদার আলী আহমেদ।
উল্লেখ্য, জাতীয় মজুরি কমিশন-২০১৫-এর রোয়েদাদ, পাটক্রয়ের অর্থ বরাদ্দ, বদলি শ্রমিক স্থায়ীকরণ, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের সব বকেয়া পরিশোধ, শ্রমিকদের প্রতি সপ্তাহে মজুরি পরিশোধসহ বকেয়া মজুরি প্রদান, খালিশপুর ও দৌলতপুর জুট মিলের শ্রমিকদের বিজেএমসির অন্যান্য মিলের মতো সব সুযোগ-সুবিধা প্রদানসহ ৯ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে গত কয়েক বছর ধরে আন্দোলন করে আসছে। সর্বশেষ চলতি মাসের ২, ৩ ও ৪ এপ্রিল দেশের সব পাটকলে এক যোগে ৭২ ঘণ্টা ধর্মঘট ও চার ঘণ্টা করে রাজপথ ও রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। শ্রমিকদের ধর্মঘট ও অবরোধের কারণে মিলসহ শিল্পাঞ্চল খুলনা প্রায় অচল হয়ে পড়ে। ৯ দফা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন পাটকলের শ্রমিকরা। এ সময় খুলনা যশোর মহাসড়কের পাবলা পুলিশ বক্স ভাংচুর ও চার পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। আন্দোলন চলাকালে ৩ এপ্রিল বিজেএমসির পক্ষ থেকে শ্রমিক নেতাদের আলোচনায় ডাকা হয়। ৬ এপ্রিল ঢাকায় বিজেএমসির কার্যালয়ে বিজেএমসির চেয়ারম্যান শাহ মো. নাসিমের সঙ্গে ৯ দফা দাবি নিয়ে বৈঠকে বসেন পাটকল শ্রমিক লীগ নেতারা। সেই বৈঠককে শ্রমিকদের স্বার্থ আদায় না হওয়ায় বৈঠক থেকে বেরিয়ে যান শ্রমিক নেতারা। ৭ এপ্রিল বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিক লীগ, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ নেতারা জরুরি বৈঠকে বসেন। বৈঠকে তারা জাতীয় মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন, প্রতি সপ্তাহে মজুরি প্রদান, বদলি শ্রমিকদের স্থায়ীকরণ, অবসরপ্রাপ্তদের সব বকেয়া পরিশোধের দাবিতে নতুন আন্দোলন কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেন।