৯ মাসে বাজার মূলধন কমেছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা

ছন্দে ফিরছে না পুঁজিবাজার

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: ছন্দে নেই পুঁজিবাজার। দীর্ঘদিন থেকে বাজারে মন্দ দশা চলছে। বছরের শুরু থেকেই এই পরিস্থিতি বিদ্যমান। মাঝেমধ্যে বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী হচ্ছে না।
এর ধারাবাহিকতায় কমছে লেনদেন, কমছে বাজার মূলধন। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন কমেছে ৩৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। এ থেকে উত্তরণে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সঠিক পদক্ষেপ না নিলে বাজার দীর্ঘমেয়াদি মন্দায় পড়ার আশঙ্কা করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
তথ্যমতে, গত বছরের শেষ কার্য দিবসে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত ফান্ড ও কোম্পানির মোট বাজার মূলধন ছিল চার লাখ ২২ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বর শেষে যা দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৮৭ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যে বাজার মূলধন কমে গেছে ৩৫ হাজার কোটি টাকার বেশি।
বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলে বাজারসংশ্লিষ্টরা বলেন, বাজার মূলধন কমে যাওয়ার প্রধান কারণ পুঁজিবাজারের নাজুক পরিস্থিতি। ছোট ছোট কোম্পানির শেয়ার নিয়ে কারসাজি হওয়ার কারণে এসব কোম্পানিতে ঝুঁকছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা, যে কারণে ভালো মৌলভিত্তি এবং বেশি সংখ্যক শেয়ারধারী কোম্পানির শেয়ারের দর কমে যাচ্ছে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে বাজার মূলধনে।
বর্তমান বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে ডিএসইর সাবেক প্রেসিডেন্ট রকিবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি শেয়ার বিজকে বলেন, এ কথা ঠিক যে বছরের শুরু থেকে বেশিরভাগ সময় বাজার খারাপ পরিস্থিতি পার করেছে। তবে আমি মনে করছি এই পরিস্থিতি পাল্টে যাবে। বিশেষ করে চীনা ফান্ডের অর্থ বাজারে এলে বিনিয়োগকারীরা মানসিকভাবে চাঙা হবেন। এতে বাজার ঘুরে দাঁড়াবে।
গত বছরের শুরুতে কয়েকটি কারণে বাজারে মন্দা অবস্থা শুরু হয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারি মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতিকে সামনে রেখে বাজারে অস্থির অবস্থা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায় এবং স্টক এক্সচেঞ্জের কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে চীন-ভারতকে নিয়ে টানাহেঁচড়ার কারণে বাজার নি¤œমুখী হয়। এই সময়ে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।
এ সম্পর্কে অর্থনীতিবিদ ও পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ শেয়ার বিজকে বলেন, বর্তমানে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর অনেক কম। সে কারণে বাজার মূলধন কমে গেছে। এটিই প্রধান কারণ। তবে আর একটি কারণ হতে পারে এই সময়ের মধ্যে বাজারে অর্থের পরিমাণ আসা কমে গেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাজার মূলধনে। এ কারণে উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে ডিএসইর বাজার মূলধন।
এদিকে বাজারে মূলধন কমার পাশাপাশি গত ৯ মাসের ব্যবধানে ডিএসইর লেনদেনও কমে গেছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত বছরের শেষ দিন এখানে মোট লেনদেন হয়েছিল ৬২৮ কোটি টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট, সেপ্টেম্বরের শেষ দিন যার পরিমাণ ছিল ৫১৬ কোটি টাকা। তবে সম্প্রতি লেনদেন ও বাজার মূলধন কিছুটা বেড়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজার যদি ধারাবাহিকভাবে স্থিতিশীল থাকে তবে এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে। বাজার ভালো থাকলে মূলধন এমনিতেই বাড়বে।