ইরানকে ঠেকাতে ট্রাম্পের তেল রাজনীতি

সোহেল রানা: ১৯৭৩ সালের ইয়োম কিপুর যুদ্ধের (চতুর্থ আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ) কয়েকদিনেই সিরীয় ফ্রন্টে আরব সেনাদের তাড়িয়ে একেবারে দামেস্কের উপকণ্ঠে নিয়ে যায় ইসরায়েলি গোলন্দাজ বাহিনী। মিসর ফ্রন্টেও ইহুদি সেনারা পৌঁছে যায় কায়রোর ৬৫ কিলোমিটারের মধ্যে। এ অবস্থায় পশ্চাদপসরনরত আরব শাসকরা তেল অবরোধের ডাক দেয়। বিশেষ করে ইসরায়েলকে অস্ত্র দিয়ে সহায়তাকারী যুক্তরাষ্ট্র ও নেদারল্যান্ডস এ তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেয় আরবরা। পরে এ তালিকায় যুক্ত করা হয় পর্তুগাল ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশকে। যেহেতু আরব রাষ্ট্রগুলোর হাতেই বিশ্বে তেলের সবচেয়ে বেশি মজুদ, তাই কয়েকদিনেই তেলের দাম বেড়ে হয় কয়েকগুণ।
দাম বেড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ হয় শীর্ষ তেল আমদানিকারক যুক্তরাষ্ট্র। নিক্সন-কিসিঞ্জার প্রশাসনের দিক থেকে আরবদের প্রতি হুমকি-ধমকি আসতে থাকে। সৌদি আরবের বাদশাহ ফয়সাল নিক্সনকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, প্রয়োজনে আমরা আবার তাঁবুতে ফিরে যাব, উটের দুধ খেয়ে বাঁচব, কিন্তু তেল ছাড়া তোমাদের গাড়ি দিয়ে কী হবে?”(ইনসাইড দ্য কিংডম, রবার্ট লেসি)। তেল অবরোধে ওপেকভুক্ত আরও কয়েক দেশ শরিক হলে বিশ্বে ভয়াবহ তেলসংকট সৃষ্টি হয়। পিছু হটে যুক্তরাষ্ট্র, আবর-ইসরায়েল যুদ্ধ বন্ধে জোর কূটনীতি শুরু হয় আটলান্টিকের ওপার থেকে। সিরিয়া আর মিসর থেকে ফিরতে বাধ্য হয় ইসরায়েলি সেনারা।
কিন্তু সেই আরবরাই এখন বিভক্ত, ওপেকভুক্ত দেশগুলোর মধ্যেও আগের মতো ঐক্য নেই। আরবরা প্রায়ই পাশ্চাত্যের ফর্মুলায় প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে তেলকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। অনারব দেশ ইরানও আরবদের তেল রাজনীতির শিকার হয়েছে বিভিন্ন সময়ে। সম্প্রতি সৌদি বাদশাহ সালমানকে তেল উৎপাদন বাড়ানোর অনুরোধ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন নিজেই এক টুইট বার্তায়। ট্রাম্পের টুইট বার্তাটি এরকম, ‘এই মাত্র বাদশাহ সালমানের সঙ্গে কথা বললাম। ইরান ও ভেনেজুয়েলার সঙ্গে চলমান দ্বন্দ্ব ও অসহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্কের কারণে আমি বাদশাহকে ২০ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত তেল উত্তোলন বাড়ানোর কথা বলেছি। তাহলে তেলের ঘাটতি অনেকটাই পূরণ করা যাবে। তেলের দাম অস্বাভাবিক বেশি।’
ওপেকের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে অপরিশোধিত তেলের সবচেয়ে বেশি মজুদ রয়েছে ভেনেজুয়েলায়। তারপরেই সৌদি আরব ও ইরান। শিয়া অধ্যুষিত রাষ্ট্র ইরান রিজার্ভ ও রফতানির দিক দিয়ে বর্তমানে বিশ্বে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে, সৌদি আরব তেল রফতানিতে প্রথম। শত্রুরাষ্ট্র ইরান ও ভেনেজুয়েলাকে ঠেকাতে সৌদি আরবের মতো আরব রাষ্ট্রগুলোকে ব্যবহার করতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র।
গত মে মাসে ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার পর ইরান থেকে তেল আমদানি বন্ধ করে দেয় যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে থমকে আছে ইরানের কার্পেট রপ্তানিও। ট্রাম্প সৌদি বাদশাহকে যে পরিমাণ তেল উৎপাদন বাড়াতে বলেছেন, তা বাজারের চাহিদারও দ্বিগুণ। সৌদি আরবের পর বৃহস্পতিবার আরেক টুইট বার্তায়, তেল রফতানিকারকদের সংগঠন ওপেককেও তেলের দাম কমাতে বলেছেন ট্রাম্প। দাম কমানো মানে বাড়াতে হবে উত্তোলন।
ট্রাম্প লিখেন, ‘একচেটিয়া ওপেকের মনে রাখা উচিত যে গ্যাসের দাম অনেক বেশি এবং তারা কোনো সহযোগিতা করছে না। যদি কিছু তারা করে থাকে, তা হচ্ছে মূল্য বাড়াচ্ছে। অথচ যুক্তরাষ্ট্র ওপেকের সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে প্রতিরক্ষা দিচ্ছে বিনা মূল্যে। লেনদেন দ্বিপক্ষীয় হওয়া উচিত। এখনই
তেলের দাম কমাও।’
ট্রাম্প আসলে তেলসমৃদ্ধ ইরান ও ভেনেজুয়েলাকে খাদে ফেলে দিতে চান। বিশেষ করে ইরানকে নতুন করে শর্ত চাপিয়ে পরমাণু চুক্তি সইয়ে রাজি করাতে চান। তাই সৌদির পাশাপাশি ওপেককেও ব্যবহার করতে চান যুক্তরাষ্ট্রের এই ব্যবসায়ী প্রেসিডেন্ট। এর আগে ২০১৬ সালে ওপেক সদস্য ও বৃহত্তম তেল উৎপাদকরা প্রতিদিন তেলের উৎপাদন ১৮ লাখ ব্যারেল কমিয়ে আনতে সমঝোতায় পৌঁছে। আর গত সপ্তাহে ওপেক দেশগুলো প্রতিদিন উৎপাদন ১০ লাখ ব্যারেল বাড়াতে সম্মত হয়।
তেলের উৎপাদন বাড়াতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ বলেছেন, তিনি প্রয়োজনে তেলের উৎপাদন বাড়াতে পারেন। দৈনিক ২০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে তার দেশের। রাশিয়ার উৎপাদনও বেড়ে হয়েছে ১১ দশমিক শূন্য ছয় মিলিয়ন ব্যারেল, যা মে মাসের আগে ছিল ১০ দশমিক ৯৭ মিলিয়ন ব্যারেল। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এখন স্বস্তির খবর হলো, সৌদি আরব ও রাশিয়ায় উৎপাদন বাড়িয়েছে। এতে তেলের দাম আপাতত কমেছে (শেয়ার বিজ, ৩ জুলাই)। সোমবার তেলের দাম কমেছে দেড় শতাংশের মতো। সেদিন আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্কে লন্ডনের ব্রেন্ট তেল প্রতি ব্যারেল বিক্রি হয় ৭৭ ডলার ৯৯ সেন্টে, আগের দিনের তুলনায় যা এক দশমিক ২৪ শতাংশ বেশি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, সৌদি আরবে প্রতিদিন গড়ে ১০ দশমিক ৭ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদন করা হচ্ছে। গত মে মাসের আগেও এ সংখ্যা ছিল সাত মিলিয়ন ব্যারেল।
দাম কমলে কার লাভ, কার ক্ষতি?
যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের অবরোধের শিকার ইরান ও ভেনেজুয়েলার প্রধান রফতানিপণ্য তেল। মজুদ বেশি থাকায় দেশ দুটি তেল উৎপাদন বাড়িয়ে আরও আয় করতে পারত কিন্তু বিক্রি করবে কোথায়? তেল বিক্রিতে মার্কিন অবরোধ দেশ দুটিকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রসহ ছয়টি দেশের পরমাণু সমঝোতা চুক্তি হওয়ায় কয়েক বছরের ব্যবধানে ইরানের তেল রফতানি দ্বিগুণ হয়ে যায়। আর এর ওপর ভর করে দেশটির জিডিপির প্রবৃদ্ধি অস্বাভাবিক গতিতে এগোয়। কিন্তু মে মাসের শুরুর দিকে, পরমাণু সমঝোতা চুক্তি থেকে সরে আসেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রে তেলের বাজার হারায় ইরান। এমনকি ট্রাম্প ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোকে হুঁশিয়ার করে দেয় ইরানের সঙ্গে ব্যবসায় না জড়াতে। এ অবস্থায় আরও বড় ধরনের একটা ধাক্কার মুখে ইরানের অর্থনীতি। ভয়ংকর গণবিস্ফোরণের আশঙ্কায় ইরানের ক্ষমতাসীন শক্তি। ইউরোপীয়দের সঙ্গে সমঝোতা করে ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি ধরে রাখা সম্ভব হলেও এই আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা একেবারে অসম্ভব। সমাজতান্ত্রিক ভেনেজুয়েলার সামনেও সুখবর নেই।
সৌদি আরবের মতো ওপেকভুক্ত দেশগুলো সাধারণত তেল উৎপাদন বাড়ানোর ব্যাপারে অতটা আগ্রহী নয়, কারণ তেলের উপর দাঁড়িয়ে থাকা দেশটির অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। কিন্তু শত্রুরাষ্ট্র ইরানকে সাইজ করতে তেলকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে তারা বরং একধাপ এগিয়ে। ইরানের পরমাণু সমঝোতা নিয়ে যে সংকটের সৃষ্টি হয়েছে, তাতে ইসরায়েলের মতো সৌদি আরবও বেশ খুশি। কাজেই ট্রাম্পের আহবানে সাড়া দিতে সৌদির আপত্তি কিসে? তাই সৌদি বাদশাহও বলে ফেললেন, তারা তেলের উৎপাদন বাড়াতে একপায়ে খাড়া। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের মতো শীর্ষ আমদানিকারকরা একদিকে যেমন পয়সা বাঁচাতে পারছে, তেমনি তৃতীয় একটি পক্ষ দিয়ে দিয়ে শায়েস্তা করতে পারছে শত্রুরাষ্ট্র ইরানকে।
যুক্তরাষ্ট্র আসলে কী চায়?
ট্রাম্পের টার্গেট ইরানের তেল রফতানি আয় শূন্যে নামিয়ে আনা। তাই আরব-অনারব দেশগুলোর প্রতি ইরান থেকে তেল আমদানি বাতিল করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছে মার্কিনরা। আলজাজিরা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরানের ওপর সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের জন্য প্রচারণা শুরু করেছে। ইরানের পরমাণু চুক্তির বদলে নতুন চুক্তির জন্য তেহরানকে রাজি করানোর জন্য এই চাপ প্রয়োগ করছে ট্রাম্প প্রশাসন।
ইরানের বিরুদ্ধে আরও একগুচ্ছ নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্ন্যাপ ব্যাক নামের একটি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে ৪ আগস্ট থেকে। এই নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য থাকবে ইরানের গাড়ি খাত এবং সোনাসহ অন্যান্য ধাতব বস্তুর বাজার। ৬ নভেম্বর দ্বিতীয় আরেকটি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। এই নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্যবস্তু হবে দেশটির জ্বালানি খাত। বিশেষ করে তেলবিষয়ক লেনদেন ও ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লেনদেন। ইউরোপীয় মিত্র ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির সঙ্গে ইরান ইস্যুতে আলোচনা করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্তা-ব্যক্তিরা সামনের দিনগুলোতে উপসাগরীয় দেশগুলো সফর করার দিনক্ষণ ঠিক করছেন। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, এরই মধ্যে ৫০টিরও বেশি বহুজাতিক কোম্পানি ইরানের জ্বালানি ও আর্থিক খাত ছেড়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।
ইরান কী করছে?
পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনায় খানিকটা চাপের মুখে আছে হাসান রুহানির সরকার। উল্টো জনপ্রিয়তা বাড়ছে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির। কারণ সংস্কারপন্থী রুহানি সরকারই এই ঐতিহাসিক চুক্তি সই করতে পেরেছিল। চুক্তিটি শেষ পর্যন্ত বহাল থাকলে ইরানের অর্থনীতি বহু বছরের দুর্বলতা কাটিয়ে বেশ শক্ত একটা ভিতের ওপর দাঁড়াতে পারত। হচ্ছিলও ঠিক তা-ই। ইরানের কট্টরপন্থীরা যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করতে চায়নি, তারপরও অর্থনীতির কথা চিন্তা করে তারা চুক্তিটি সইয়ে তেমন বিরোধিতা করেনি। কিন্তু কট্টরপন্থীদের ধারণাই সত্যি হলো। তাই রাজনীতির কঠিন পরীক্ষায় রুহানির সরকার। ইরান বলেছে, ইরানকে কোণঠাসা করার মার্কিন উদ্যোগ তো সফল হবেই না, উল্টো তেলের দাম ১০০ ডলারে গিয়ে ঠেকবে!
আন্তর্জাতিকভাবে তেল সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকি দিয়েছে ইরান। দেশটির প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি মঙ্গলবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের তেল রপ্তানিকে বাধাগ্রস্ত করে, তাহলে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রপ্তানি ঠেকিয়ে দেবেন তারা। ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত তেল আটকে দিতে চায়। ইরান ও ওমানের মধ্যকার এই সরু জলপথটি দিয়ে বিশ্বের মোট তেলের ৩০ শতাংশেরও বেশি পরিবাহিত হয়, যার বেশির ভাগই যায় এশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিম ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। এশিয়ার দেশ জাপান তার আমদানিকৃত তেলের তিন-চতুর্থাংশ হরমুজের ওপর দিয়ে নিয়ে যায়। চীনের আমদানিকৃত তেলের অর্ধেকই আসে হরমুজ প্রণালি হয়ে। এই প্রণালি দিয়ে গড়ে প্রায় ২০ মিলিয়ন ব্যারেলের মতো তেল রপ্তানি হয়ে থাকে। বিভিন্ন সময়ে হুমকি-ধমকির কারণে এ অঞ্চল দিয়ে তেল পরিবহন নির্বিঘœ রাখতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ নিয়মিত টহল দিচ্ছে। ইরানিরা অতীতেও হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকি দিয়েছিল। ইরানের রেভ্যুলুশনারি গার্ডের কুদস ব্রিগেডের প্রধান জেনারেল কাসেম সুলাইমানি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনাকে বলেছেন, ‘তার বাহিনী হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ আটকে দিতে প্রস্তুত রয়েছে।’ রেভ্যুলুশনারি গার্ডের আরেক অধিনায়ক ইসমাইল কাউসারি বলেছেন, ‘ইরানের তেল রফতানি প্রতিরোধ করা হলে হরমুজ দিয়ে কোনো জাহাজকে তেল নিয়ে যেতে দেওয়া হবে না’। তবে ইরানের হুমকির জবাবে মার্কিন সামরিক বাহিনী বলেছে, তারা তা হতে দেবে না, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী জলপথটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে তারা। কিন্তু এই জলপথ বন্ধ করে দিলে ইরানের নিজস্ব তেল রফতানি যেমন বাধাগ্রস্ত হবে, তেমনই এ রুট দিয়ে সবচেয়ে বেশি তেল আমদানিকারী ভারত, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মতো দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক খারাপ হতে পারে। এই দেশগুলো আবার ইরানের তেলের বাজারেরও বড় ক্রেতা। চলতি বছরের জুনে ইরানের মোট তেল রপ্তানির ৪৫ শতাংশই গেছে ভারত ও চীনে (আলজাজিরা, ৬ জুলাই, ২০১৮)।এছাড়া হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে প্রতি বছর তিন দশমিক সাত বিলিয়ন ঘনফুট এলএনজির ব্যবসা করে থাকে কাতার, যা বিশ্বের মোট রপ্তানির প্রায় ৩০ শতাংশ। কাজেই হরমুজ প্রণালি বন্ধের চাবিটা ইরানের হাতে থাকলেও এটি নিঃসন্দেহে কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং কাজ, আছে যুদ্ধের ঝুঁকিও।

গণমাধ্যমকর্মী

[email protected]