চর্ব্য-চোষ্য-লেহ্য-পেয়: জাম

জাম গ্রীষ্মকালীন ফল। এটি একটি স্বল্পকালীন ফলও। এর ইংরেজি নাম ব্ল্যাকবেরি। জ্যৈষ্ঠের শেষদিকে এ ফলটি পাওয়া যায়। অন্যসব মৌসুমি ফলের তুলনায় জামের স্থায়ীকাল কম হলেও এটি পুষ্টিগুণে অতুলনীয়, সুস্বাদু ও উপকারী।

পুষ্টিগুণ
জামে রয়েছে ভিটামিন সি ১৪.৩ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি১ ০.০০৬ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি২ ০.১২ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি৩ ০.২৬০ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি৫ ০.১৬০ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি৬ ০.১৬০ মিলিগ্রাম, পানি ৮৩.১৩ গ্রাম, আমিষ ০.৭২ গ্রাম, শর্করা ১৫.৫৬ গ্রাম, ফ্যাট ০.২৩ গ্রাম, আয়রন ০.১৯ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ১৯ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ১৭ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেশিয়াম ১৫ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ৭৯ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম ১৪ মিলিগ্রাম। এছাড়া ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, স্যালিসাইলেট, গ্লুুকোজ, ডেক্সট্রোজ, ফ্রুকটোজ প্রভৃতি রয়েছে।

উপকারিতা

জামে থাকা ভিটামিন ‘সি’ জ্বর, সর্দি ও কাশির প্রবণতা দূর করে

এর ভিটামিন ‘এ’ চোখ ভালো রাখতে সাহায্য করে। দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়

জামে থাকা গ্লুুকোজ, ডেক্সট্রোজ শরীরে শক্তি সঞ্চিত করে কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়

দাঁত, চুল ও ত্বক সুন্দর রাখতে খেতে পারেন জাম। এর উপাদানগুলো ত্বক ও চুলের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। দাঁত ও মুখের স্বাস্থ্য ভালো রাখে

ক্যানসারের জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়ার ক্ষমতা আছে জামের। বিশেষ করে মুখের ক্যানসার প্রতিরোধে এটি অত্যন্ত কার্যকর

কাঁচা জামের পেস্ট পেটের রোগের জন্য উপকারী

ক্ষুধামন্দা কিংবা কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা থাকলে জামের আচার পানির মধ্যে মিশিয়ে সকাল-সন্ধ্যা খেলে দ্রুত উপকার পাওয়া যায়

গলার সমস্যার ক্ষেত্রে জাম ফলদায়ক। জাম গাছের ছাল পিষে পেস্ট তৈরি করে পানিতে মিশিয়ে মাউথ ওয়াশ হিসেবে ব্যবহার করা যায়; এতে গলা পরিষ্কার হবে। মুখের দুর্গন্ধ দূর হবে। মাড়িতে কোনো সমস্যা থাকলে কমে যাবে

জামে থাকা ক্যালসিয়াম, আয়রন, পটাশিয়াম ও ভিটামিনগুলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

এ ফলের উপাদানগুলো স্মৃতিশক্তি বাড়তে বিশেষ ভূমিকা রাখে

নিয়মিত জাম খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে

যারা রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন, তারা নিয়মিত জাম খেতে পারেন। এটি রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে সহায়তা করে

নিয়মিত জাম খেলে হৃদরোগ এড়ানো সম্ভব

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী ফল জাম

যাদের খাবারে অরুচি আছে, তারা জাম ও জামের জেলি খেতে পারেন

ভ্রমণজনিত বমিভাবও দূর করে এই ফল

হৃৎপিণ্ডের অসুখ, জরায়ু, ডিম্বাশয়, মলদ্বার ক্যানসারের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা পালন করে
স জামের কচি পাতা ও গাছের ছাল চূর্ণ নানা রোগের ওষুধ ও প্রতিষেধক।

শিপন আহমেদ