ডেরিভেটিভস

মিজানুর রহমান শেলী: এখন অবধি একটি চুক্তিকে আমরা তারলীকরণ করতে পেরেছি। এটা ২০০৫ সালে ১০০ বছরের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। এটা বিশ্বাস করা খুবই কষ্টকর যে, এ রকম একটি চুক্তির চাহিদা মিটমাট হয়ে যেতে পারে খুব সম্ভবত ক্ষতিপূরণ-সচেতন বণিকের চাহিদার মধ্য দিয়ে। কেননা, এই বণিকের মাধ্যমে তারা একটি বড় চুক্তিতে আসতে পারবে। এটা হবে দীর্ঘমেয়াদি। তাদের চুক্তি বইয়ে এ চুক্তির কথা দীর্ঘদিন লিপিবদ্ধ থাকবে। বড় বড় চুক্তি কিংবা এর বিকল্প যেসব চুক্তি এই বড় চুক্তির চেয়ে বড় বা বহুগুণে বিচিত্র, সেসব চুক্তির মাধ্যমে বাজারকে চিহ্নিত করার কাজটি নিতান্ত সহজ নয়। তা বড়ই কঠিন (কেননা এই বাজারগুলোতে ডেরিভেটিভসের জন্য আদর্শ হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে)। যাহোক, এ চুক্তিগুলো কল্পনার প্রশ্নে যখন এর বণিকরা কোনো মূল্য অনুমান করে, তখন অনেক বড় সুযোগ-সুবিধা সরবরাহ করে থাকে।
ছোট হলেও অবাক হওয়ার মতো বিষয় এই যে, এসব বণিকরাই তাদের অগ্রসর করে দেয়। একটি ব্যবসা যার মধ্যে অনুমান করা সংখ্যা থেকে বিপুল পরিমাণের ক্ষতিপূরণ প্রবাহ আসতে থাকে, সেগুলো নিঃসন্দেহে বিপদের সঙ্গে সব সময় যুদ্ধ চালিয়ে যেতে থাকে। যখন দুটি বণিক একটি মাত্র বাণিজ্য লেনদেন করে থাকে, তাদের থাকে কয়েকটি ক্ষণিকের গূঢ়, চলমান ও দূরবর্তী সময়ের নিষ্পন্ন তারিখ। তাদের শ্রদ্ধাশীল ফার্মগুলো অবশ্যই পরবর্তীকালে এই চুক্তিগুলোর মূল্য নির্ধারণ করে, যখনই সে তার আয়ের হিসাব-নিকাশ করতে বসে। ‘ক’ ফার্ম দ্বারা একটি নির্ধারিত ব্যবসা সব সময়ই একটি নির্ধারিত মূল্যে মূল্যায়িত হয়ে থাকে এবং অন্যগুলো হয়ে থাকে ফার্ম ‘খ’র হাত ধরে। আপনি এই মূল্যায়নের পার্থক্য পরিমাপ করতে পারেন। আমি অবশ্য বহু বিচিত্র রূপের ও ধরনের ফার্মের বিভিন্ন চুক্তির মধ্যকার পার্থক্য নিয়ে অভিজ্ঞতা লাভ করেছি। এগুলো একটি নির্ধারিত দিকে প্রবণতা দেখিয়ে থাকে। এমনকি এ সবের প্রতিটি ফার্মই বেশি মাত্রায় আয় করার দিকে লক্ষ্য নির্ধারণ করে ঝুঁকতে থাকে। এটা একটি আজব দুনিয়া, যেখানে একই সঙ্গে দুটি পক্ষ একটি চুক্তিতে সই করে তারা তাদের নিজেদের মতো করে ব্যবসায় এগিয়ে যেতে থাকে। কিন্তু হঠাৎই কোনো একটি পক্ষ নিজেদের অতিরিক্ত লাভের খাতা খুলে চুক্তি-টেবিলে নিজেদের প্রতিবেদন পেশ করতে থাকে।
দুটি কারণে আমার অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে এই ডেরিভেটিভস নিয়ে টিকে রয়েছি। এর একটি হলো খুবই ব্যক্তিগত এবং এখানে আমি কোনোভাবেই খুশি নই: একটি অসন্তুষ্টি নিয়েই এটাকে ব্যবহার করছি। কঠিন ব্যাপার হলো এই যে, আমি আপনাদের পেছনে অনেক বেশি অর্থ খরচ করেছি কিন্তু জেন রে’র বাণিজ্য পরিচালনাকে হুটহাট বন্ধ করে দেওয়ার দিকে প্রবণতা দেখায়নি। এই জেন রে কেনার সময় চার্লি আর আমি কেউই কোনোভাবেই স্বস্তি বোধ করতে পারিনি। আমরা উভয়েই বলেছিলাম এতে কেবলই ক্ষতি হবে। আমরা বুঝতে পেরেছিলাম এই কোম্পানির ব্যবস্থাপনা দলটি কোনোভাবেই যোগ্যতার বিচারে উত্তীর্ণ ছিল না। তাই আমরা এ ব্যবসা থেকে তখনই বেরিয়ে আসতে চেয়েছিলাম। কিন্তু কোনোভাবেই তা করা সম্ভব হয়নি। এখানে আমি ছিলাম দায়িত্বে। তাই যে কোনো কিছুই ঘটে যাক না কেন, তার জন্য আমাকে দায় নিতে হয়েছিল। আবার যে কোনো ঘটনা আমাকেই ঘটাতে হয়েছিল। এখানে আমি কোনো তথ্যদাতা ছিলাম না, যেন এখানে কোনো ভুল বা সমস্যা হলো আর আমি সঙ্গে সঙ্গে সেটা আমার কর্তাদের কাছে অভিযোগ নিয়ে গেলাম এবং সমাধান বের করলামÑএমন কোনো পরিস্থিতিতে আমি ছিলাম না। যে কোনো পরিস্থিতিই হোক না কেন, তার নিয়ন্ত্রণ ও ধারণ করার দায় আমার ছিল। তাই প্রথমেই অনেকগুলো বছর নষ্ট করে ফেলেছি। কোনো কাজে লাগাতে পারিনি। আবার এই ফার্ম থেকে সহজে বেরিয়েও আসতে পারিনি। এটা ছিল খুব দুঃখজনক প্রচেষ্টা। কেননা, এখানে এমন কোনো বাস্তব সমাধান আমরা পাইনি, যা আমাদের এই আশ্চর্য দায়িত্বের হাত থেকে রক্ষা করবে। কার্যত শেষ অবধি যেটা ঘটল, সেটা আমাদের জন্য আজকে আরও বেশি কষ্টকর: আমরা বছরের পর বছর, দশকের পর দশক ধরে এই সংকটের মধ্যে আটকে আছি।
আমাদের বাধ্যবাধকতাটি ছিল মোটামুটি উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো। কেননা, সেখানে এমন কোনো সম্ভাবনা ছিল না যা কোনো কিছুকে নতুন করে আবিষ্কার করতে পারে, সমাধান খুঁজে পায়। আবার যদিও পাওয়া যায়, তবুও সেই সম্ভাবনার কোনো সীমা-পরিসীমা হিসাব করার মতো জো ছিল না আমাদের হতে। উপরন্তু যদি এসব নিদারুণ সংকট সংঘটিত হতে থাকত, তবে আমরা বুঝে নিতাম এই সংকটের সঙ্গে যোগসূত্র আছে এমন কিছু সমস্যার, যা অর্থসংস্থানিক বাজার অবধি ছেয়ে যায়। তাই আমি কোনো ব্যথা ছাড়াই এখান থেকে বেরিয়ে আসার মতো পথ খুঁজে পাইনি। এমনকি এসব পরিস্থিতি চলাকালীন সময়েই আমাদের বাণিজ্য খাতায় আরও পাতা খুলতে হলো, যেখানে নতুন নতুন বাণিজ্য অন্তর্ভুক্ত হলো। আমি যেন শিহরণের দায়ে দোষী হয়ে গেলাম। চার্লি আমাকে বোবা-দুষ্টু বলে ডাকা শুরু করল। যখনই কোনো সংকট থিতু হয়ে যায়, হোক তা কোনো কর্মীর কারণে অথবা এর ব্যবসা পরিচালনা পদ্ধতির কারণে যা-ই হোক না কেন, সেটাকে সামনে নিয়েই বর্তমানের সঙ্গে অভিনয় করে যেতে হতো।
আর দ্বিতীয় কারণ হলো, আমি নিয়ত আমাদের সমস্যা নিয়ে বিবরণী দিতাম। বিশেষ করে এমন সব সমস্যাকে আমি গুরুত্ব দিতাম যেসব সমস্যা আমাদের স্বপ্ন বা আশাকে বিজড়িত করে। কার্যত এই বিবরণী দেওয়ার মাধ্যমে আমি আমাদের ম্যানেজার, অডিটর ও রেগুলেটরদের তাদের স্বপ্ন বোনার ক্ষেত্রে আমার অভিজ্ঞতাকে ভাগাভাগি করে নিতে পারতাম। ফলে তারা বেশ উপকৃত হতো বলে আমার বিশ্বাস ছিল।

এই দর্শন রচনাবলি সম্পাদনা করেছেন লরেন্স এ. কানিংহ্যাম
অনুবাদক: গবেষক, শেয়ার বিজ