প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

আট বছরেও উপদেষ্টা কমিটি গঠন করেনি আইডিআরএ

পলাশ শরিফ: পথচলার আট বছর পরও বিমায় শৃঙ্খলা ফেরাতে পারেনি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। উপদেষ্টা কমিটি না থাকায় সংস্থাটি নিজেই দিকনির্দেশনাহীনতায় ধুঁকছে। জটিলতা এড়াতে বিদ্যমান আইনি নির্দেশনা মেনে প্রবিধানের গেজেট প্রকাশের সাড়ে সাত বছরেও উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয়নি। তাই নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি আইনি বাধ্যবাধকতা পূরণ না করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
২০১১ সালে পথচলা শুরুর আট বছর পরও বিমা খাতের শৃঙ্খলা ফেরেনি। উল্টো বিমা নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিতর্কিত নির্দেশনা-পদক্ষেপে বিমা কোম্পানিগুলোর ওপর বিরূপ প্রভাব পড়েছে। এজন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণে সঠিক দিকনির্দেশনার ঘাটতি ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার দায়িত্বশীলদের কর্মকাণ্ডের ওপর সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ না থাকাকে দায়ী করা হচ্ছে। বহুল প্রত্যাশিত নিয়ন্ত্রক সংস্থাটিও কার্যত ‘ব্যর্থ’ সংস্থায় পরিণত হয়েছে। এজন্য নীতিমালা ও জনবল সংকটের পাশাপাশি শক্তিশালী উপদেষ্টা কমিটি কিংবা পৃথক পরিচালনা পর্ষদ না থাকাকেই দায়ী করছেন এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।
খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘আট বছরেও বিমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। সংস্থাটির দায়িত্বশীলদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা থাকলে এবং সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে বিমা খাতকে আরও ভালো অবস্থানে নিয়ে যেতে পারত। কিন্তু সেই স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেছে। শীর্ষ পদে রদবদলের পর কিছুটা গতি এলেও তা কতটুকু কার্যকর ভূমিকা রাখবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কিন্তু পৃথক উপদেষ্টা কমিটি না থাকায় সংস্থাটি নিজেই দিকনির্দেশনাহীনতায় ধুঁকছে।’
প্রাপ্ত তথ্যমতে, আইডিআরএ’র উপদেষ্টা কমিটি বিষয়ে বিমা আইনে বলা হয়েছে: ‘কর্তৃপক্ষ (নিয়ন্ত্রক সংস্থা) সরকারের সহিত আলোচনাসাপেক্ষে, এই আইনের অধীনে তাহার দায়িত্ব পালনে পরামর্শ প্রদানের জন্য প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করিবে এবং উহার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিবে’। সে অনুযায়ী ২০১১ সালের ২০ অক্টোবর উপদেষ্টা কমিটি বিষয়ে একটি প্রবিধানের চূড়ান্ত গেজেটও প্রকাশ করা হয়। ‘বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (উপদেষ্টা পরিষদ) প্রবিধানমালা’ শিরোনামের এ প্রবিধান মেনে আইডিআরএ’র জন্য ১৫ সদস্যের উপদেষ্টা কমিটি গঠনের কথা ছিল। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সমন্বয় সভায় বিমাশিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এমন ২৫ থেকে ৩০ জনের নামের তালিকা তৈরি করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ আকারে পাঠানোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছিল। এরপরই থমকে গেছে পুরো প্রক্রিয়াটি। প্রবিধান প্রণয়নের সাড়ে সাত বছরেও সেই উপদেষ্টা কমিটি গঠন হয়নি।
বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) প্রেসিডেন্ট শেখ কবির হোসেন শেয়ার বিজকে বলেন, ‘বিমা খাত অন্য যে কোনো খাতের তুলনায় অনেক বেশি টেকনিক্যাল। এ খাতের খুঁটিনাটি বিষয় স্বল্প সময়ে রপ্ত করা কঠিন। সে কারণে নিয়ন্ত্রক সংস্থার দায়িত্বটিও বেশ কঠিন। এজন্য একটি শক্তিশালী উপদেষ্টা কমিটির বিকল্প নেই। তাহলে যে কোনো প্রয়োজনে উপদেষ্টা কমিটির সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া আরও সহজ হবে। এ-সংক্রান্ত আইনি বাধ্যবাধকতা মেনে উপদেষ্টা কমিটি করা হলে সংস্থাটির সামর্থ্য আরও বাড়বে।’
উপদেষ্টা কমিটি গঠন না হওয়া বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার দায়িত্বশীলরা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে ‘কিছু জটিলতার কারণে’ এর আগে প্রণীত প্রবিধান কার্যকর করা যাচ্ছে না। সেগুলো নিয়ে আরও আলোচনা-পর্যালোচনার প্রয়োজন আছে। এসব কারণে কিছু ক্ষেত্রে কালক্ষেপণ হচ্ছে। তবে এসব বিষয় স্বল্প সময়ের মধ্যেই নিষ্পত্তি করা হবে বলেও দাবি করছেন তারা।
বিশ্লেষকদের মতে, উপদেষ্টা কমিটি না থাকায় সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিতে গিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছে বিমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ। জনবল ও অবকাঠামোসহ আইনি বিধিমালা-সংক্রান্ত দুর্বলতাই কাটিয়ে উঠতে পারেনি আইডিআরএ। সে সঙ্গে স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুতে অন্য নিয়ন্ত্রক সঙ্গে সমন্বয়হীনতা, বিমা কোম্পানির উদ্যোক্তা ও স্বতন্ত্র পরিচালক সংখ্যা, মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ, জীবন ও সাধারণ বিমার ব্যবস্থাপনা ব্যয় এবং সংস্থাটির জনবল নিয়োগ-পদোন্নতিসহ বেশকিছু ইস্যুতে আইডিআরএ’র ‘বিতর্কিত’ সিদ্ধান্ত বিমা কোম্পানিগুলোকে উল্টো বিরূপ অবস্থার মধ্যে ফেলেছে। উপদেষ্টা কমিটি না থাকায় সংস্থাটি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়েছে বলেও মনে করছেন তারা।

সর্বশেষ..



/* ]]> */