প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

ফণীর জন্য প্রস্তুত হচ্ছে বাংলাদেশ

বুধবার বিকালে সচিবালয়ে ‘ফণী’ মোকাবেলায় জরুরি প্রস্তুতি সভা শেষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের ওড়িশায় আঘাত হানার পর কিছুটা দুর্বল হয়ে ৪ মে, অর্থাৎ শনিবার সকালে বাংলাদেশে আঘাত হানতে পারে।

ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় দেশের উপকূলীয় ১৯ জেলায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।”

এনামুল বলেন, উপকূলীয় ১৯ জেলায় রেড ক্রিসেন্টের কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। উপকূলীয় সেনা ক্যাম্পগুলোতে বার্তা পাঠানো হয়েছে, তারাও প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছে। ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) ৫৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবকেও বার্তা পাঠানো হয়েছে, তারাও প্রস্তুত আছেন।

“ইতোমধ্যে মাইকিং করে প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু হয়েছে। মানুষের অন্ন, বস্ত্র, চিকিৎসার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। উপকূলীয় জেলার ডিসিদের দুইশ মেট্রিক টন চাল পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং প্রত্যেক জেলা প্রশাসককে পাঁচ লাখ করে টাকা দেওয়া আছে।”

এছাড়া ৪১ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার ওই ১৯ জেলায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে জানিয়ে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমি মনে করি আমরা ভালো প্রস্তুতি নিতে পেরেছি।”

ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকিতে থাকা এলাকার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাপ্তাহিক ছুটি এবং অন্যান্য ছুটি বাতিল করে তাদেরকে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান এনাম।

এদিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের এক আদেশে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে উপকূলীয় জেলাগুলোতে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সব শাখা বুধবার থেকে অব্যাহতভাবে খোলা থাকবে।

সেই সঙ্গে উপকূলীয় জেলাগুলোতে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম সমন্বয় ও জরুরি সাড়াদানের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বুধবার থেকে অব্যাহতভাবে অফিসে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভারতের ওড়িশা উপকূলের দিকে এগোতে থাকা অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ফণী আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠায় দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোতে সতর্কতার মাত্রা বাড়িয়ে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়ার বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে ১২০৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্র বন্দর থেকে ১১৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ১০৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ১০৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল ফণী।

ভারতের আবহাওয়া অফিস বলছে, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৮০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ২১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক শামসুদ্দিন আহমেদ সভায় বলেন, ‘ফণী’ গতিপথ বদলে সরাসরি বাংলাদেশে আঘাত হানলে তা হবে ভয়াবহ।

“এই মুহূর্তে এর গতিপথ যেভাবে রয়েছে তাতে প্রথমে এটি ভারতের ওড়িশায় আঘাত করবে, এরপর পশ্চিম বাংলায়। কিন্তু গতিপথ বদলে যদি সমুদ্রের কোলঘেঁষে সরাসরি বাংলাদেশে আঘাত হানে, তাহলে এটা খুলনা, মোংলা, সাতক্ষীরা, চট্টগ্রাম হয়ে ভয়াবহ আকারে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।”

পরে আবহাওয়া অধিদপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে শামছুদ্দিন আহমেদ বলেন, ফণী এখন যে অবস্থানে রয়েছে, সেখান থেকে যদি উত্তর দিকে যাত্রা অব্যাহত থাকে, সেক্ষেত্রে বহস্পতিবার দুপুর নাগাদ বাংলাদেশে সংকেত বাড়িয়ে বিপদ সংকেত দেখানো হতে পারে।

“তবে এটি আমরা এখনও পর্যবেক্ষণে আছি। এর বাতাসের গতিবেগ, গতিপথ সবকিছুই আমরা পর্যবেক্ষণ করছি।”

উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, অল্প সময়ের নোটিসে তারা যাতে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে পারে, সেজন্য প্রস্তুতি রাখতে বলা হয়েছে।

সর্বশেষ..