মার্কেটওয়াচ

বাজেট গরিববান্ধব হতে হবে

দেশের পুঁজিবাজার এখন করুণ অবস্থানে। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ভালো নেই। জুনে ঘোষণা করা হবে বাজেট। এ বাজেট গরিববান্ধব হতে হবে। কারণ এমপি, মন্ত্রী এবং মধ্যম আয়ের জনগণ ভালো অবস্থানে রয়েছে কিন্তু নি¤œ আয়ের জনগণ ভালো নেই। একদিকে ছোট ব্যবসায়ীরা ব্যাংক থেকে ঋণ সুবিধা পাচ্ছেন না। অন্যদিকে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বাজার থেকে পুঁজি হারাচ্ছেন। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়।
হাসিব হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আহসানুল আলম পারভেজ এবং সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এমএ মাসুম।
অধ্যাপক আহসানুল আলম পারভেজ বলেন, সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাজারে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার পরও পতন থেমে নেই। সূচক, টার্নওভার, বাজার মূলধন এবং শেয়ারদর ধারাবাহিকভাবে কমেই যাচ্ছে। বর্তমানে দেশের অর্থনীতি যে অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে সেখানে বাজারের এমন অবস্থা মোটেই কাম্য নয় বা কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য নয়। আসলে বাজার কৃত্রিমভাবে চলছে। বাজার তার নিজস্ব গতিতে নেই। এতে সরকার মারাত্মকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হচ্ছে। আবার দেশ স্বাধীন হয়েছে প্রায় ৫০ বছর হয়েছে। ৫০ বছরে দেশের অর্থনীতি অনেক এগিয়েছে এবং সামনে আরও অগ্রসর হবে। অর্থনীতির উন্নয়নের বিপরীতে বাজার আরও নি¤œগতির দিকে ধাবিত হচ্ছে।
দেশের পুঁজিবাজার এখন করুণ অবস্থানে। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ভালো নেই। জুনে ঘোষণা করা হবে বাজেট। এ বাজেট গরিববান্ধব হতে হবে। কারণ এমপি, মন্ত্রী এবং মধ্যম আয়ের জনগণ ভালো অবস্থানে রয়েছে কিন্তু নি¤œ আয়ের জনগণ ভালো নেই। একদিকে ছোট ব্যবসায়ীরা ব্যাংক থেকে ঋণ সুবিধা পাচ্ছেন না। অন্যদিকে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বাজার থেকে পুঁজি হারাচ্ছেন। এখন বাজার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতি বিনিয়োগকারীর কোনো আস্থা নেই। নিয়ন্ত্রক সংস্থা সততা হারিয়ে ফেলেছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধানকে পরিবর্তন ছাড়া কোনোভাবেই বাজার ভালো হবে না। কারণ রোগীকে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে কিন্তু ডাক্তারের ওপরে রোগীর আস্থা নেই। এখন বাজার এমন অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে।
ব্যারিস্টার এমএ মাসুম বলেন, দেশের অর্থনীতির সব খাতে কাঠামোগত সমস্যা রয়েছে। এ সমস্যা শুধু পুঁজিবাজারে নয়। মানি মার্কেট, বিমাসহ আরও অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এ সমস্যা রয়েছে। একটার সঙ্গে আরেকটি সম্পর্কিত। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কোনোটির সমস্যা হলে এর প্রভাব সব খাতেই পড়ে। বাজেটে বাজারের উন্নয়নে ১০ বছরমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। অর্থাৎ ১০ বছরে বাজার কোথায় যাবে? পুঁজিবাজার শুধু এদেশে আছে তা নয়। এটি বিশ্বের সব দেশেই রয়েছে। বাজার ভালো করতে হলে দেশের বিজ্ঞ ব্যক্তিসহ অন্য দেশের বিশেষজ্ঞ নিয়ে দেশের পুঁজিবাজার ও আর্থিক খাতে যে সমস্যা রয়েছে সেগুলো আলোচনা করা দরকার যাতে এসব সমস্যার সমাধান বের করা যায়।
তিনি আরও বলেন, দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ। বিশ্বের কোনো উন্নয়নশীল দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দুই থেকে তিন শতাংশের বেশি নয়। তাই বাজার উন্নয়ন করতে হবে মানি মার্কেটকে বাদ নিয়ে নয়। কারণ মানি মার্কেট ও ক্যাপিটাল মার্কেট একে ওপরের সঙ্গে জড়িত।

শ্রুতিলিখন: শিপন আহমেদ

সর্বশেষ..