সম্পাদকীয়

হজযাত্রায় মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে ব্যবস্থা নিন

প্রতি বছর হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যান ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা। বিশ্বের লাখো মুসলমানের অংশগ্রহণে এ ধর্মীয় অনুষ্ঠান বিশাল কর্মযজ্ঞও। ধর্মীয় পর্যটন উপলক্ষ বললেও ভুল হবে না বোধহয়। প্রায় ৯০ শতাংশ মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশও এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। প্রতিবছর লক্ষাধিক মানুষ হজে যান। তবে হজ নিয়ে প্রতি বছরই বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে, হজযাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে। এমনকি মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে আর্থিকভাবেও তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এবারের হজযাত্রা শুরু হচ্ছে আগামী জুলাইয়ের মাঝামাঝি। তার আগেই ঝক্কিমুক্ত হজযাত্রা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্টরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন বলে আমাদের প্রত্যাশা।
গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে ‘হজ ফ্লাইট শুরু ৪ জুলাই, ফিরতি ১৭ আগস্ট’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। এতে বলা হয়েছে, হজযাত্রীদের বিড়ম্বনায় পড়ার প্রধান কারণ মধ্যস্বত্বভোগী। এ ধরনের ব্যক্তিদের হাতে টাকা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে হজসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনাকারী এজেন্সিগুলোর সংগঠন হাব। চলতি বছর এক লাখ ২৭ হাজার মানুষ বাংলাদেশ থেকে হজ পালনের সুযোগ পাবেন। এ বিপুলসংখ্যক হজযাত্রীর যাবতীয় ব্যবস্থাপনা করা বিশাল কর্মযজ্ঞ নিঃসন্দেহে। সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো এ নিয়ে ব্যাপক চাপে থাকায় সে সুযোগ গ্রহণ করে মধ্যস্বত্বভোগীরা। এজন্য আগে থেকেই হজযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।
মধ্যস্বত্বভোগীদের পাশাপাশি প্রতি বছর ফ্লাইট বিপর্যয়, হজ এজেন্সিগুলোর অনিয়ম, পাসপোর্ট জটিলতাসহ নানা বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এতে তীব্র ভোগান্তিতে পড়ার পাশাপাশি সব প্রস্তুতি শেষ করেও সৌদি আরব যেতে ব্যর্থ হন অনেকে। হজে যাওয়ার সব প্রস্তুতি নিয়েও শেষ মুহূর্তে এভাবে সমস্যায় পড়লে হতাশার শেষ থাকে না। অবশ্য এবারই প্রথম ঢাকায় ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা হবে হজযাত্রীদের। ফলে সৌদি আরবে গিয়ে লাইনে দাঁড়ানোর ঝক্কি থাকছে না, যা ইতিবাচক। এর পাশাপাশি অন্য যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো সমাধানেও উদ্যোগ নিতে হবে এখনই।
হজের আনুষ্ঠানিকতায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য কিছু এজেন্সি ও ব্যক্তি এবং সরকারি অনেক কর্মকর্তা জড়িত থাকেন বলে প্রতি বছর অভিযোগ ওঠে। এতে যারাই জড়িত থাকুন না কেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। রাষ্ট্রীয় খরচে হজে যাওয়া এবং কর্মচারীদের দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ করতে হবে। হজে গমনেচ্ছুদেরও আরও সতর্ক হতে হবে। অতীতে অনেককে হজে গিয়ে অপরাধে জড়াতে দেখা গেছে। এ ধরনের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে সঠিক পন্থায় সবাই হজব্রত পালন করবেন সেটাই প্রত্যাশা। হজের মতো ধর্মীয় অনুষ্ঠান নিয়ে অব্যবস্থাপনা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

সর্বশেষ..