মার্কেটওয়াচ

ট্রেজারি বন্ডের লেনদেন দ্রুত চালু করতে হবে

পুঁজিবাজারে প্রায় ২২১টি ট্রেজারি বন্ড রয়েছে যেগুলো গত ১০ বছরেও কোনো ট্রেডিং হচ্ছে না। এগুলো অতিদ্রুত ট্রেডিংয়ের ব্যবস্থা নিতে হবে। ১৯৯৬ সালে কিছু বন্ড বাজারে ট্রেডিং হতো কিন্তু এখন তা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ডিএসই কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অনেকবার আবেদন করেছিল, যাতে ইকুইটির মতো বন্ড মার্কেটে বিনিয়োগকারীরা ট্রেডিং করতে পারে। এতে করে যারা ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগ করতে চায় তাদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকবে। এতে একদিকে ইন্টারেস্ট আরনিং এবং অন্যদিকে ক্যাপিটাল গেইন দুটোই করতে পারবে। ফলে ইকুইটির ওপর নির্ভরশীলতা কমে আসত। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়। হাসিব হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএমএসএলের এমডি রিয়াদ মতিন।
রিয়াদ মতিন বলেন, বাজার অনেকদিন ধরে খারাপ যাচ্ছে। অনেক পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিলেও বাজারে পতন থামছে না। বরং দিন দিন আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে আসন্ন বাজেটে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, বাজারের জন্য ভালো প্রণোদনা থাকবে এবং কিছুদিনের মধ্যে ৯০০ কোটি টাকার প্রণোদনা আসার কথা। যদি এটি আসে বাজারে গতিশীলতা ফিরে আসবে মনে করি। বাজার খারাপ অবস্থায় যাওয়ার কিছু কারণ থাকে। বাজার অন্যান্য সময়ে খারাপ ছিল। তবে এবার বেশি খারাপ যাচ্ছে এবং দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। এটি সবার কাছে প্রত্যাশিত নয়। কথা হচ্ছে, মানুষ আশা নিয়ে বেঁচে থাকে। আশা করি সামনে বাজার ভালোর দিকে যাবে। এ সময়ে বিনিয়োগকারীদের ধৈর্য রাখতে হবে। যাতে তারা শেয়ার বিক্রি না করে। কারণ বাজার সবসময় এ রকম অবস্থায় থাকবে না। পুঁজিবাজার হচ্ছে একটি স্পর্শকাতর জায়গা। বাজারে উঠা-নামা থাকবেই। বিনিয়োগকারীরা ধৈর্য না হারিয়ে সহনশীল হতে হবে। কারণ পুঁজিবাজার ও ব্যাংকে বিনিয়োগ করা এক বিষয় নয়। এ দুটি বিনিয়োগে অনেক পার্থক্য রয়েছে। অর্থাৎ পুঁজিবাজার অনেক বিষয় জড়িত থাকে। আবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখনও পুঁজিবাজার বান্ধব আচরণ করে না। বরং বাজারকে আরও ডমিনেট করতে চায়। কিন্তু ব্যাংক খাতে ডমিনেট করতে পারে না যেটা তাদের মূল দায়িত্ব। অথচ ব্যাংক খাতে করুন অবস্থা বিরাজ করছে। বেশিরভাগ ব্যাংকই হাজার কোটি টাকার মতো খেলাপি।
পুঁজিবাজার শুধু ইকুইটিনির্ভর। এখন সময় এসেছে ইকুইটিনির্ভর বাজার থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। বাজারকে আরও সম্প্রসারিত করতে হলে বিভিন্ন ধরনের পণ্য আনতে হবে। বিশেষ করে বন্ড মার্কেটকে সম্প্রসারিত করতে হবে। বাজারে প্রায় ২২১টি ট্রেজারি বন্ড রয়েছে যেগুলো গত ১০ বছরেও কোনো ট্রেডিং হচ্ছে না। এগুলো অতিদ্রুত ট্রেডিংয়ের পদক্ষেপ নিতে হবে। ১৯৯৬ সালে কিছু বন্ড বাজারে ট্রেডিং হতো কিন্তু এখন তা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ডিএসই কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অনেকবার আবেদন করেছিল, যাতে ইকুইটির মতো বন্ড মার্কেটে বিনিয়োগকারীরা ট্রেডিং করতে পারে। এতে করে যারা ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগ করতে চায় তাদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকবে। এতে একদিকে ইন্টারেস্ট আরনিং এবং অন্যদিকে ক্যাপিটাল গেইন করতে পারবে। ইকুইটির ওপর নির্ভরশীলতা অনেকটা কমে আসত।
তিনি আরও বলেন, এ বাজার আরও শক্তিশালী ও সম্প্রসারিত করা দরকার। যদি বাজারকে ঠিক রাখতে না পারে তাহলে শিল্পায়ন সম্প্রসারিত হবে না।

শ্রুতিলিখন: শিপন আহমেদ

সর্বশেষ..