সম্পাদকীয়

গ্যাস খাতে শৃঙ্খলা না ফিরিয়ে দাম বৃদ্ধি কাম্য নয়

জাতীয় সংসদে বাজেট প্রস্তাব পেশের পরই পণ্যের দাম বেড়ে যায়। এবারের বাজেটে চিনি, ভোজ্যতেল, তৈজসপত্র বেশ কিছু পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় চাপে রয়েছেন ভোক্তারা। এখন দাম বেড়ে যাওয়ার আরেকটি খবরে তাদের বিড়ম্বনা আরও বাড়বে। গতকাল থেকে বেড়েছে গ্যাসের দাম। গতকাল শেয়ার বিজে এ-সংক্রান্ত খবরে বলা হয়, ২৫ মাসের ব্যবধানে আবারও বাড়ানো হলো গ্যাসের দাম। ক্ষেত্রভেদে গ্যাসের দাম সর্বোচ্চ ৬৪ দশমিক ২১ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। তবে গড়ে দাম বেড়েছে ৩২ দশমিক ৮০ শতাংশ। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির পরিপ্রেক্ষিতে এ দাম বাড়ানো হয়েছে। রান্নাঘরে গ্যাসের এক চুলার বিল ছিল ৭৫০ টাকা। এটি করা হয়েছে ৯২৫ টাকা। দুই চুলার বিল ছিল ৮০০ টাকা, হয়েছে ৯৭৫ টাকা। রোববার আবাসিক, বাণিজ্যিকসহ সব ধরনের গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
দেশে গ্যাস সঞ্চালন কোম্পানি একটিÑজিটিসিএল। আর বিতরণ কোম্পানি তিতাস, বাখরাবাদ, কর্ণফুলীসহ ছয়টি। বিইআরসির বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, গ্যাস সঞ্চালন ও বিতরণ কোম্পানিগুলো লাভে থাকলে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিতে পারে না। দুই ধরনের কোম্পানির একটি (সুন্দরবন) ছাড়া বাকি ছয়টিই লাভে রয়েছে। অথচ বিইআরসিকে দিয়ে বাড়িয়ে নিতে পেরেছে। এটি ঠিক, কর্মচারীদের বেতন, কাজের পরিধি সম্প্রসারণ এবং ব্যবস্থাপনা-রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় প্রতি বছরই বাড়ে। কিন্তু সে ক্ষেত্রে মূল্য বাড়ানো ছাড়াও বিকল্প পদ্ধতি রয়েছে। চুরি, সিস্টেম লস, দুর্নীতি ও অবৈধ সংযোগ বন্ধ করা গেলে গ্যাস সঞ্চালন ও বিতরণ কোম্পানিগুলোর আয় আরও বাড়ত। সেটি না করে ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে অতিরিক্ত দাম। তিতাসে প্রতি মাসে সিস্টেম লস বা চুরি হচ্ছে সাড়ে ১২ শতাংশ (মোট সরবরাহ করা গ্যাসের)। এ গ্যাসের মূল্য ৭০০ কোটি টাকা। এভাবে বছরে আট হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এভাবে সব প্রতিষ্ঠানে কমবেশি চুরি হচ্ছে। এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলে গ্যাসের দাম আরও কম বাড়ালেই চলত। এখন চুরির দায় বহন করতে হচ্ছে ভোক্তাদের।
গতকাল আমাদের দেশে গ্যাসের বর্ধিত দাম কার্যকর হওয়ার দিনই রান্নার সিলিন্ডার গ্যাসের দাম কমিয়েছে ভারত। বিশ্ববাজারে গ্যাসের দাম কমায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। গ্যাস সঞ্চালন ও বিতরণ কোম্পানিগুলো সরাসরি গ্যাস সরবরাহ করে ভোক্তাদের মধ্যে। এখানে কোনো মধ্যস্বত্বভোগীও নেই। কিন্তু অভ্যন্তরীণ সীমাবদ্ধতা দূর করা গেলে গ্যাসের দাম না বাড়ালেই চলত বলে আমরা মনে করি।

সর্বশেষ..