মার্কেটওয়াচ

আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রত্যেক প্রান্তিকে লভ্যাংশ ঘোষণা করতে হবে

উন্নত বিশ্বের পুঁজিবাজারে ভালো কোম্পানিগুলো প্রান্তিক প্রতিবেদন প্রকাশের পাশাপাশি লভ্যাংশও ঘোষণা করে। বিশেষ করে আমাজন, গুগল, মাইক্রোসফট ও অ্যাপল প্রভৃতি কোম্পানি প্রত্যেক প্রান্তিকে লভ্যাংশ ঘোষণা করে থাকে। এটা একটি ভালো দিক। এতে বোঝা যায় কোম্পানিগুলো প্রত্যেক প্রান্তিকে কী পরিমাণ আয় করছে। আর দেশের পুঁজিবাজারে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় প্রান্তিকে ভালো করছে কিন্তু বার্ষিক প্রতিবেদন নেতিবাচক। এতে বোঝা যাচ্ছে কোম্পানিগুলো এক ধরনের প্রতারণা করছে। এ ধরনের প্রতারণা বন্ধ করার জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে যারা প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় প্রান্তিক প্রকাশ করবে তাদের লভ্যাংশ দিতে হবে। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়।
হাসিব হাসানের গ্রন্থনা ও সঞ্চালনায় এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থনীতি বিশ্লেষক অধ্যাপক মুহাম্মদ মহসীন এবং জাতীয় কর আইনজীবী ফেডারেশনের ড. নুরুল আজহার।
অধ্যাপক মুহাম্মদ মহসীন বলেন, এখন দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা অনেক ভালো। বর্তমানে দেশের অর্থনৈতিক গ্রোথ ইতিহাসের সবচেয়ে উপরে রয়েছে। তারপরও পুঁজিবাজার ক্রমাগত নি¤œগতিতে ধাবিত হচ্ছে। এখানে নিশ্চয়ই কোনো গলদ রয়েছে। পুঁজিবাজারে এখনও কাঠামোগত কিছু সমস্যা রয়েছে। বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী বাজার নিয়ে আস্থাহীনতায় ভুগছেন। কাঠামোগত সমস্যার কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে। দেশে জিডিপির গ্রোথ যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, সে হারে পুঁজিবাজারের সূচকগুলো যাওয়ার কথা থাকলেও তা হচ্ছে না। ২০১০ সালে পুঁজিবাজার ধসের পর জিডিপির গ্রোথ অনেক বেড়েছে। কিন্তু পুঁজিবাজারের তেমন উন্নয়ন হয়নি। অর্থনীতির কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে দেশের মূল অর্থনীতি এগিয়ে গিয়েছে। এখানে আরেকটি সমস্যা হচ্ছে মানি মার্কেট। যখন মানি মার্কেটে কোনো সমস্যা সৃষ্টি হয়, তখন পুঁজিবাজারে প্রভাব পড়ে। ইতোমধ্যে বাজারের জন্য কিছু প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। তবে তা বাজারের জন্য যথেষ্ট নয়। বাজার ভালো করতে যদি প্রণোদনার হার বেশি না হয় এবং সেটি দৃশ্যমান না হয়, সত্যিকার অর্থে সেই প্রণোদনা বাজারের জন্য কোনো সুফল বয়ে আনবে না। পুঁজিবাজারে অন্তর্ভুক্ত কোম্পানিগুলোর বছরে চারবার আর্থিক প্রান্তিক প্রকাশ করার বিধান রয়েছে। কিন্তু উন্নত বিশ্বের পুঁজিবাজারে দেখা যায়, প্রান্তিক প্রকাশের পাশাপাশি লভ্যাংশও দিয়ে থাকে। বিশেষ করে আমাজন, গুগল, মাইক্রোসফট ও অ্যাপল প্রভৃতি কোম্পানি প্রত্যেক প্রান্তিকে লভ্যাংশ ঘোষণা করে থাকে। এটা একটি ভালো দিক। কারণ এতে বোঝা যায় কোম্পানিগুলো প্রত্যেক প্রান্তিকে কী পরিমাণ আয় করছে। আর দেশের পুঁজিবাজারে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় প্রান্তিকে ভালো করছে কিন্তু বার্ষিক প্রতিবেদন নেতিবাচক। এতে বোঝা যাচ্ছে কোম্পানিগুলো এক ধরনের প্রতারণা করছে। এ ধরনের প্রতারণা বন্ধ করার জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে যারা প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় প্রান্তিক প্রকাশ করলে তাদের লভ্যাংশ দিতে হবে। দেশের পুঁজিবাজারকে বিদেশের পুঁজিবাজারের কাঠামোয় পরিবর্তন আনতে হবে। বিশেষ করে যখন বহুজাতিক কোম্পানি দেশের পুঁজিবাজারে অন্তর্ভুক্ত হবে তখন ওইসব কোম্পানির মাধ্যমেই তাদের শেয়ার লেনদেন হবে এবং তারাই কমিশন নেবে। কারণ এখন বাজার ক্রমাগত পড়ছে কিন্তু ব্রোকারেজ হাউজগুলো ঠিকই কমিশন থেকে লাভ করে যাচ্ছে। তাদের কোনো লোকসান নেই।
ড. নুরুল আজহার বলেন, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে সরকার যে কর নির্ধারণ করছে তাতে সাধারণ জনগণ তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধা পায়নি। এ ক্ষেত্রে বেশি ভুক্তভোগী হবে সাধারণ জনগণ। এখন পুঁজিবাজারের ভালো অবস্থানে নেই। বাজার এ রকম হওয়ার কিছু কারণ রয়েছে। এর মধ্যে মূল কারণ, বাজারে বিভিন্নভাবে কারসাজি হচ্ছে। তাই বাজার সম্পর্কে বিনিয়োগকারীরা আস্থাহীনতায় ভুগছে। আবার যখন দেশের অর্থনীতিতে জিডিপির গ্রোথ ছিল ছয় দশমিক পাঁচ শতাংশ তখন পুঁজিবাজারের সূচক ছিল ৯ হাজারের ওপরে। এখন জিডিপি গ্রোথ প্রায় আট দশমিক ১৩ শতাংশ কিন্তু সেভাবে বাজার এগোচ্ছে না।

শ্রুতিলিখন: শিপন আহমেদ

সর্বশেষ..