মার্কেটওয়াচ

নড়বড়ে কোম্পানি দিয়ে বাজার ভালো করা যাবে না

বর্তমানে বাজার অবমূল্যায়িত অবস্থায় রয়েছে। তারপরও প্রতিনিয়ত শেয়ারের দর, সূচক ও টার্নওভার কমে যাচ্ছে। গত এক সপ্তাহ ধরে টানা সূচক কমছে। বিনিয়োগকারীরা হতাশ হয়ে বাজার থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন। আমাদের চেয়ে খারাপ অর্থনীতির দেশের পুঁজিবাজারেও এরকম অবস্থা দেখা যায় না। বাজার ভালো করতে হলে বিনিয়োগকারীর চাহিদা বাড়াতে হবে। বিশেষ করে ভালো মানের ইকুইটি আনা জরুরি। নড়বড়ে কোম্পানি দিয়ে বাজার ভালো করা যাবে না। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়।
হাসিব হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন আইসিএবি’র কাউন্সিল মেম্বার মাহমুদ হোসেন, এফসিএ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক সালাউদ্দিন চৌধুরী, এফসিএ।
মাহমুদ হোসেন বলেন, পুঁজিবাজারে সামান্য সমস্যা হলেও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ করতে হয়। আবার জনগণের করের টাকায় লালিত-পালিত কর্মকর্তারা গাড়ি কিনে বিভিন্ন জায়গায় সভা করে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু বাজারের কোনো পরিবর্তন করতে পারছেন না। পুঁজিবাজারে প্রতিনিয়ত বিনিয়োগকারীরা লোকসান গুনছেন। শুধু বিনিয়োগকারীই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন না, দেশের অর্থনীতিও খারাপের দিকে যাচ্ছে। এটি আসলে বাজারের জন্য ভালো নয়। বাজার যে গুজবনির্ভর, তা বাস্তবেই দেখা যাচ্ছে। বাজারে ভালোর চেয়ে খারাপ কোম্পানি আনা হয় বেশি। কথা হচ্ছে, যেসব কোম্পানি বাজারে আনা হবে, সেগুলো যাতে টিকে থাকে; অর্থাৎ বিনিয়োগকারীদের আজ বিনিয়োগ করে কাল মাথায় হাত দিতে যেন না হয়। কোম্পানিগুলোর আর্থিক দৈন্যদশা যেন না হয়। আবার কোনো কারণ ছাড়াই ভালো কোম্পানির শেয়ারের দর কমে যাচ্ছে। এ বিষয়ে কারও কোনো মাথাব্যথা নেই। মুষ্টিমেয় কয়েকজন তাদের ইচ্ছামতো শেয়ারের দর কমাচ্ছেন-বাড়াচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী বাজারের প্রতি আন্তরিক থাকা সত্ত্বেও বাজারের কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। আসলে এটি বাজারের জন্য উদ্বেগের বিষয়।
তিনি আরও বলেন, ভালো কোম্পানিগুলো কেন আসবে? ওইসব কোম্পানির জন্য এক ধরনের বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। সম্প্রতি বাজেটে বোনাস শেয়ার ও রিটেইলড আর্নিংসের ওপর বাড়তি ট্যাক্স ধরা হয়েছে। যদি এটি না করে যে, কোম্পানিগুলো ৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের পরিবর্তে ৩০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দেবে, ওইসব কোম্পানির ১০ শতাংশ ট্যাক্স কর্তন করা উচিত ছিল। তা না করে কোম্পানিগুলোকে এক ধরনের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।
সালাউদ্দিন চৌধুরী বলেন, বর্তমানে বাজার অবমূল্যায়িত অবস্থায় রয়েছে। তারপরও প্রতিনিয়ত শেয়ারের দর, সূচক, টার্নওভার কমে যাচ্ছে। আমরা বলি, বিশ্বের দেশে দেশে অর্থনীতি উন্নয়নের উদাহরণ হতে যাচ্ছে। সে হিসেবে পুঁজিবাজারও বাড়ার কথা; কিন্তু দেখা যাচ্ছে বিপরীত চিত্র। গত এক সপ্তাহ ধরে টানা সূচক কমেই যাচ্ছে। এতে বাজার ভালো আছে বলা যায় না। বিনিয়োগকারীরা হতাশ হয়ে বাজার থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন। এটা আসলে হওয়া উচিত নয়। আমাদের অর্থনীতির চেয়েও খারাপ অর্থনীতির দেশের পুঁজিবাজারে এরকম অবস্থা দেখা যায় না। বাজার ভালো করতে হলে বিনিয়োগকারীর চাহিদা বাড়াতে হবে। বিশেষ করে ভালো মানের ইকুইটি আনা। নড়বড়ে কোম্পানি দিয়ে বাজার ভালো করা যাবে না।
তিনি আরও বলেন, আসলে দেশের পুঁজিবাজার সম্পূর্ণ গুজবনির্ভর। যেখানে কোম্পানিগুলোর আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য আগে থেকেই জেনে যায় অনেকে, সেখানে বিনিয়োগকারীরা কীভাবে আস্থা ফিরে পাবেন। তাদের আস্থা তৈরি করতে না পারলে এ বাজার কখনও ভালো হবে না।

শ্রুতিলিখন: শিপন আহমেদ

সর্বশেষ..



/* ]]> */