করপোরেট টক

জনি রকেটসে চলছে বার্গার ফেস্ট

আমেরিকার বিখ্যাত বার্গার ব্র্যান্ড জনি রকেটসের বাংলাদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি জনি রকেটস বাংলাদেশ। রেস্টুরেন্টটির আতিথেয়তার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের টানে প্রতিদিন অসংখ্য অতিথি এখানে আসেন। আজ এর বিস্তারিত তুলে ধরা হলো। ছবি: শরীফুল ইসলাম

ফাস্টফুডের ইতিহাস রচনা করতে গেলে সবার আগে চলে আসে বার্গারের নাম। আর বার্গার বলতে আমেরিকান বিফ বার্গারকেই বোঝায়। বিশ্বে সবচেয়ে বেশি বার্গার খায় মার্কিন মুল্লুকের জনগণ। সে দেশে পথঘাট, শপিং স্টোর ও ফুডকোর্টে একাধিক বার্গার ব্র্যান্ড রয়েছে। আর এর মধ্যে রয়েছে প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড ‘জনি রকেটস’। বিগ ম্যাক দিয়ে ম্যাকডোনাল্ড’স বিশ্ব জয় করলেও রুচিশীলদের পছন্দ জনি রকেটস। কারণ, জনি রকেটসের বার্গার একেবারে ফ্রেশ অ্যান্ড অরিজিনাল। জনি রকেটসে রয়েছে হরেক রকমের বার্গার। আর এ বার্গারের টানে ভোজনরসিকরা প্রতিনিয়ত ভিড় করেন জনি রকেটসে। মজার বিষয় হলো, মার্কিন ব্র্যান্ড জনি রকেটসের দুটি আউটলেট রয়েছে আমাদের রাজধানীতে। এর একটি বনানীতে; অপরটি ধানমন্ডিতে।
বনানী ও ধানমন্ডির আউটলেট দুটিতে চলছে বার্গার ফেস্ট। এখানে অবিশ্বাস্য কম দামে পাওয়া যাচ্ছে বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড জনি রকেটসের বার্গার।

জনি রকেটসে বার্গারের বৈশিষ্ট্য
জনি রকেটসের বার্গারের প্রধান বৈশিষ্ট্য এটি ফ্রেশ পেটি থেকে ফ্রেশ কুক করে সরবরাহ করা হয়। পেটি কখনও ফ্রোজেন করা হয় না। এছাড়া বার্গারটি কখনও প্রি-কুক করে রাখা হয় না। ফলে এটি স্বাদে অনন্য। বার্গার কিং, ম্যাগডোনাল্ড’সসহ অন্য ব্র্যান্ডের বার্গার সব সময় ফ্রোজেন করে রাখা হয়। তারপর তা ডিফ্রস্ট করে প্রি-কুক করে রাখা হয়। অতঃপর অতিথি অর্ডার দিলে কুক করে তাদের সামনে নিয়ে আসা হয়। ফলে নামে বার্গার হলেও তার স্বাদ হয় ভিন্ন। অরিজিনাল রসালো বার্গারের স্বাদ পাওয়া যায় না ওইসব ব্র্যান্ড থেকে।
ঢাকার ধানমন্ডির ইন্টারন্যাশনাল ফুডকোর্টে জনি রকেটসের বার্গার খেতে এসেছেন ভারতীয় অতিথি প্রবাল। তিনি ঢাকার একটি গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। পাঁচ বন্ধুকে নিয়ে তিনি খেলেন ডাবল স্মোক হাউস। সঙ্গে মাউন্টেন ডিউ। খাওয়ার পর তিনি মন্তব্য বইয়ে লেখেন: ঢাকায় জনি রকেটসের আউটলেট আছে তা জানা ছিল না। আজই এ খবর পেয়ে চলে আসি বন্ধুদের নিয়ে। জনি রকেটসের বার্গার আমি আগেও খেয়েছি; তবে এখানের বার্গারের স্বাদ, পরিবেশন ও আতিথেয়তায় আমি মুগ্ধ। তিনি আরও যোগ করেন: অতুলনীয়…! ধানমন্ডিতে তিনি আবারও আসবেন, বিশ্বখ্যাত এ বার্গারের টানে।
ঢাকার প্রতিষ্ঠিত একটি গ্রুপ অব কোম্পানিজের জিএম সাইফুল ইসলাম। ঢাকার বনানীতে একসঙ্গে দুটি বার্গার খেয়েছেন মাত্র ২৩৮ টাকায়। গতকাল এ বার্গার খেয়ে তিনি বলেছেন, ঢাকার বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে তিনি নিয়মিত বার্গার খেয়ে থাকেন। তবে তার পছন্দের শীর্ষে জনি রকেটস। তিনি বলেন, বর্তমানে এখানে মাত্র ১১৯ টাকায় যে বার্গার পাওয়া যাচ্ছে তা অতুলনীয়। এ কারণে তিনি নিজে খাচ্ছেন, বাসায় নিয়ে যাচ্ছেন এবং আত্মীয়স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের পাঠাচ্ছেন জনি রকেটসে।
বনানী আউটলেটে নিয়মিত খেতে আসেন ফাহমী ও শিলা। তবে তারা মাকে নিয়ে জনি রকেটসে খেতে পছন্দ করেন। ফাহমী ও শিলার পছন্দ রকেটস ডাবল। আর তার মায়ের পছন্দ বেকন শেডার। ফাহমীর মা পছন্দ করেন জনি রকেটসের শেইকস ও ফ্রেন্স ফ্রাইস। তাদের কাছে জনি রকেটস মানে ভালো লাগা, জনি রকেটস মানে একটি সুন্দর ও পরিপূর্ণ ডিনার।

জনি রকেটস রেস্টুরেন্টের জনপ্রিয় মেন্যু
রুট ৬৬ ৩১০ টাকা
দি অরিজিনাল ২৭০ টাকা
বেকন শেডার ৩১০ টাকা
রকেট সিঙ্গেল ২৭০ টাকা
রকেট ডাবল ৪৩০ টাকা
স্পাইসি হিউস্টোন ২৭০ টাকা
বার্গারের পাশাপাশি জনি রকেটসে রয়েছে বিভিন্ন শেইকস। এর মধ্যে রয়েছে চকোলেট, ভ্যানিলা ও স্ট্রবেরি শেইকস। আর মধুমাস থেকে চলছে তাজা আমের ম্যাংগো শেইক। মাত্র ২৮০ টাকায় উপভোগ করতে পারবেন এ চমৎকার শেইকটি। এছাড়া ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় আপনি পাচ্ছেন আপনার পছন্দের শেইকস।
জনি রকেটস প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডের বার্গার। তবে ব্র্যান্ডটিকে সব শ্রেণির ক্রেতার সামর্থ্যরে মধ্যে নিয়ে আসতে দেওয়া হচ্ছে বিশেষ অফার। এখন চলছে জনি রকেটসের বার্গার ফেস্টিভ্যাল-২০১৯। তাই বিশেষ অফার রয়েছে ভোক্তাসাধারণের জন্য। মাত্র ১০৯ টাকায় আপনি পাবেন স্পাইসি বিফ বার্গার। ৯৯ টাকায় চিকেন স্যান্ডউইচ। আর বিফ-চিকেন মিলে মিটি ডিলাইট পাবেন মাত্র ১১৯ টাকায়। এছাড়া ১৯৯ টাকায় পাবেন বিশেষ মিল বার্গার, ফ্রেঞ্চ ফ্রাইস ও ড্রিংকস। সুতরাং চলে আসুন জনি রকেটসে। প্রিয়জনকে নিয়ে উপভোগ করুন জনি রকেটস বার্গার ফেস্ট-২০১৯।

বৈচিত্র্যে ভরা…
জনি রকেটস বাংলাদেশ অতিথিদের জন্য মডার্ন আমেরিকান ফুডসহ সমসাময়িক খাবার অফার করে। এখানে রয়েছে ৯ ধরনের বার্গার ও চার ধরনের শেইকস, সিগনেচার চিলি বাউলসহ বিভিন্ন ধরনের সাইডস।
সব শ্রেণির ভোক্তার জন্য জনি রকেটস বাংলাদেশ একটি কমপ্লিট প্যাকেজ। এটি বাংলাদেশের একমাত্র প্রিমিয়াম আমেরিকান বার্গার শপ।
জনি রকেটসে অতিথিদের শতভাগ হালাল ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার অফার করা হয়। মজার বিষয়, এখানে রয়েছে লাইভ কিচেন। এখানে অতিথিরা তাদের অর্ডার করা বার্গার কীভাবে প্রস্তুত হয়, তা সরাসরি উপভোগ করতে পারেন।
বিভিন্ন উৎসবে বিশেষ আয়োজনের ব্যবস্থা রয়েছে জনি রকেটস বাংলাদেশে।

ভোক্তারা সন্তুষ্ট
জনি রকেটস বাংলাদেশ শুরু থেকেই ভোক্তাদের মনে স্থান করে নিয়েছে। সব বয়সের, সব শ্রেণির অতিথিরা এখানে আসেন। তাই সকাল-সন্ধ্যা রেস্টুরেন্টটিতে ভিড় লেগে থাকে।
তরুণদের আনাগোনা একটু বেশিই চোখে পড়ে। তাদেরই একজন জুবায়ের খায়রুল। তিনি রাজধানীর বিভিন্ন বার্গার শপের প্রস্তুতপ্রণালি, স্বাদ ও দাম নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন। তার সেই আক্ষেপ দূর করেছে জনি রকেটস বাংলাদেশ। তার মতে, রেস্টুরেন্টটি সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। তিনি বলেন, প্রিমিয়াম বার্গার হিসেবে এর মূল্যমান গ্রহণযোগ্য। তিনি আরও যোগ করেন, এ রেস্টুরেন্টের খাবারের স্বাদ ও স্বাস্থ্যমান বেশ ভালো। বিশেষ করে অতিথিদের সামনে প্রস্তুত করায় গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে জনি রকেটসের।
বন্ধুদের নিয়ে জনি রকেটসে এসেছেন হুমায়রা হান্নান। তিনি বলেন, রেস্টুরেন্টে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে স্টাফদের ব্যবহারেই মনটা ভালো হয়ে গেল। মেনু দেখে অর্ডার করি। অন্য বার্গার শপের চেয়ে অনেক ভালো অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছি এখানে এসে। বার্গার, শেইকস ও অনিয়ন রিং তার খুব ভালো লেগেছে।
ছেলেমেয়েদের সঙ্গে খুব একটা বাইরে বের হওয়ার সুযোগ পান না আমেরিকান নাগরিক স্টুয়ার্ট রবার্টসন। তবে সময় বের করে ভালো মানের কোনো রেস্টুরেন্টে তাদের সঙ্গে একটু সময় কাটানোর চেষ্টার কমতি নেই তার। তিনি ও তার পরিবারের পছন্দের তালিকার শীর্ষে রয়েছে জনি রকেটস বাংলাদেশ। এখানকার স্টাফদের সেবার পাশপাশি খাবার ভালো লাগে তাদের। রেস্টুরেন্টটির ইনটেরিয়র ডিজাইন ও পরিবেশটাও তাদের পছন্দের।
দেশি-বিদেশি এমন অনেক ভোক্তার কাছে বেস্ট বার্গার শপ জনি রকেটস বাংলাদেশ। খাবার তো ভালোই,
একই সঙ্গে জায়গাটা বেশ নিরিবিলিও বটে। সার্ভিস ও বার্গারের স্বাদ সবাই উপভোগ করেন।

ট্র– আমেরিকান ফ্যামিলি ডাইনিং রেস্টুরেন্ট
আমেরিকার বিখ্যাত বার্গার ব্র্যান্ড জনি রকেটস। এ ব্র্যান্ডের বাংলাদেশি ফ্রাঞ্চাইজি জনি রকেটস বাংলাদেশ। ২০১৬ সালের ২৪ নভেম্বর রাজধানীর উত্তরার জসীমউদ্দীন রোডের এনআর কমপ্লেক্সে প্রতিষ্ঠানটি সফট লঞ্চ করে। সেই শুরু। আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। যাত্রার শুরু থেকেই বাংলাদেশের অতিথিদের মধ্যে অভূতপূর্ব সাড়া ফেলে রেস্টুরেন্টটি। তাই মাত্র কয়েক মাস পরে ২০১৭ সালের ১ এপ্রিল বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট ও আমেরিকান দূতাবাসের অন্য কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে জনি রকেটসের গ্র্যান্ড ওপেনিং হয়।
আসুন জেনে নিই জনি রকেটসের ইতিহাস। ১৯৮৬ সালের ৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেসের মেলরোজ অ্যাভিনিউতে রেস্টুরেন্টটির যাত্রা শুরু হয়। আমেরিকান ফ্যাশন ডিজাইনার রন টেইটেলবাম চালু করেন জনি রকেটস। ব্যবসায়ে ভূমিকা রাখায় পুরস্কৃত হন রন। তার দূরদর্শিতা, মেধা ও কর্মদক্ষতার কারণে জনি রকেটস একটি বিখ্যাত ব্র্যান্ডে পরিণত হয়। তিনি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতেন, বিশ্বের সব মানুষের একটি নির্দিষ্ট স্থান থাকা দরকার। এখানে তারা জগতের চলমান জটিলতা থেকে কিছু সময়ের জন্য হাঁফ ছেড়ে বাঁচতে পারবে। উপভোগ করতে পারবে মানসম্পন্ন সহজ সময়। সেই পরিকল্পনার বাস্তব রূপ দেন জনি রকেটসের মাধ্যমে। বর্তমানে ৪৮টিরও বেশি দেশে জনি রকেটসের শাখা রয়েছে।
দেশের বাইরে শ্রীলঙ্কা ও নেপালে ফ্রাঞ্চাইজি রয়েছে জনি রকেটস বাংলাদেশের।
রেস্টুরেন্টটির আতিথেয়তা, ইন্টেরিয়র ডিজাইন ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার অনন্য। এককথায় বলা যায়, জনি রকেটস বাংলাদেশ হচ্ছে ট্র– আমেরিকান ফ্যামিলি ডাইনিং রেস্টুরেন্ট।

সর্বশেষ..



/* ]]> */