চাল নিয়ে চালবাজি ও রাজনীতি হচ্ছে: খাদ্যমন্ত্রী

বন্যা ও রোগবালাইয়ের কারণে ফসলহানির পরেও এক কোটি ৯২ লাখ টন ধান ঘরে উঠেছিল জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেছেন, দেশের ভেতর এত চাল থাকলেও এনিয়ে চালবাজি ও রাজনীতি হচ্ছে।

চালের দাম বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এক তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন তিনি। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, “চাল নিয়ে রাজনীতি চলছে, চাল নিয়ে সমস্ত দেশকে একটা বিভ্রাটের মধ্যে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। উদ্দেশ্যমূলকভাবে চাল নিয়ে চালবাজি হচ্ছে, চাল নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও ভীতি সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে।”

এক শ্রেণির ব্যবসায়ী ও মিল মালিকরা চাল নিয়ে এই চালবাজি করছেন অভিযোগ করে তিনি বলেন, “আমরা চালবাজি ও ষড়যন্ত্রের মধ্যে আছি। কারণ বাংলাদেশেই এক কোটি টন চাল আছে, তারপরেও এই অবস্থা।

“আমি মজুতদার, আড়তদার, মিল মালিকসহ সবার প্রতি আমি আহ্বান জানাব- এখনই ভালো হয়ে যান, সময় আছে। এখনও সময় আছে ভালো হয়ে যান। আপনারা যেভাবে (চালের) দাম বাড়াচ্ছেন, যেভাবে সিন্ডিকেট করে দেশে চালবাজি শুরু করেছেন, চাল নিয়ে রাজনীতি শুরু করেছেন, একটা বিভ্রাট সৃষ্টির চেষ্টা করছেন তা কোনো অবস্থাতেই বরদাস্ত করা হবে না। এখনই শেষ সুযোগ আপনাদের ভালো হয়ে যান।”

হাওরে আগাম বন্যায় ফসলহানির পর দুই দফা বন্যায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ফসল নষ্ট হয়েছে। বেশ কয়েক মাস আগে বেড়ে যাওয়া চালের দাম গত কয়েক দিনে আরও বেড়েছে।

চাল আমদানি শুল্ক ২৬ শতাংশ কমিয়ে দুই শতাংশে নামানোর পরেও চালের বাজারে অস্থিরতা কাটছে না। এরপর থাইল্যান্ড, ক্যাম্বোডিয়া ও মিয়ানমার থেকে চাল আমদানির চুক্তি করেছে সরকার।

ইতোমধ্যে থাইল্যান্ড দুই দফায় আমদানির চাল এলেও বাজারে দাম কমছে না।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তদারকির অভাবে চালের দাম বাড়ছে বলে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অভিযোগ করে আসছেন। চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে বিগত কয়েক মাসে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ কোনো তৎপরতাও চোখে পড়েনি।