বিনিয়োগ না বাড়লে কর্মসংস্থান হবে না

প্রতি রবি থেকে বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজারের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে এনটিভি ‘মার্কেট ওয়াচ’ অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ে শেয়ার বিজের নিয়মিত আয়োজন ‘এনটিভি মার্কেট ওয়াচ’ পাঠকের সামনে তুলে ধরা হলো:

 

দেশে যদি বিনিয়োগ না বাড়ে বিশেষ করে বেসরকারি খাতে তাহলে কর্মসংস্থান হবে না। আর এই বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর মতো তেমন কোনো উৎসাহ বাজেটে নেই। তাই এটি একটি কারণ, যার ফলে মানুষ খুব বেশি উপকৃত হতে পারবে না। ব্যাংক খাতে করপোরেট ট্যাক্সের হার কিছুটা কমানো হয়েছে এবং অর্থমন্ত্রী আশা করছেন এতে লেন্ডিং রেট কিছুটা কমবে, যার ফলে বিনিয়োগ বাড়বে। তবে এটি মোটেও বাস্তবসম্মত নয়, কারণ এতে যেটি হবে তা হচ্ছে, ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের মুনাফা বাড়বে। সম্প্রতি দেখা গেছে, সিআরআর কমিয়ে বা এডি রেশিও বাড়িয়ে দিয়েও ব্যাংকের ঋণের সুদের হার তো কমেইনি, বরং বেড়েছে। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়। হাসিব হাসানের গ্রন্থনা ও সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম এবং বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী।
এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, আমাদের দেশের বাজেটের আকার সাধারণত জিডিপির আনুপাতিক হার হিসেবে ১৪ থেকে ১৫ শতাংশের মতো। এটি দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বনি¤œ এবং পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশের তুলনায় এই আকারটি ছোট। কিন্তু সরকারের ব্যয়ই যদি কম হয় তাহলে সেখান থেকে তো আর বেশি সুফল এমনিতেই আশা করা যায় না এবং এটি একটি সার্বিক পরিস্থিতি। এ কারণেই অর্থমন্ত্রী বিভিন্ন সময় বলেন যে, বাজেটের আকার বাড়িয়েছি এবং তা নিঃসন্দেহে বাড়ানোর দরকার আছে। তবে আমাদের যেহেতু ব্যয়ের সক্ষমতা নেই তাই আমি বলি, প্রতি বছরই উচ্চাভিলাষী বাজেট হয়ে যাচ্ছে। গত পাঁচ বছরের বাজেট বাস্তবায়নের হার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ২০১২ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নের হার ছিল ৯৩ শতাংশ। এটি ২০১৬ অর্থবছরে এসে নেমেছে ৮১ শতাংশে এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সম্ভবত আরও কম হবে। ফলে মোট ব্যয় দাঁড়াচ্ছে জিডিপির ১২-১৩ শতাংশের মতো। এত অল্প ব্যয় দিয়ে এমনিতেই বেশি উপকার করা সম্ভব নয়। তাছাড়া মানুষের উপকার তো আর শুধু সরকারি ব্যয়ের মাধ্যমে আসে না, প্রান্তিক মানুষ যারা তাদের জন্য কর্মসংস্থান একটি বড় ব্যাপার এবং কর্মসংস্থানের জন্য বিনিয়োগ একটি বড় বিষয়। দেশে যদি বিনিয়োগ না হয় বিশেষ করে বেসরকারি খাতে তাহলে কর্মসংস্থান হবে না। আর এই বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ করার মতো তেমন কোনো উৎসাহ আমি বাজেটে দেখতে পাচ্ছি না। তাই এটি একটি কারণ, যার ফলে মানুষ খুব একটা বেশি উপকৃত হতে পারবে না। তিনি বলেন, ব্যাংক খাতে করপোরেট ট্যাক্সের হার কিছুটা কমানো হয়েছে এবং অর্থমন্ত্রী আশা করছেন এতে লেন্ডিং রেট কিছুটা কমবে, যার ফলে বিনিয়োগ বাড়বে। তবে এই আশাটি মোটেই বাস্তবসম্মত নয়। এতে যেটি হবে তা হচ্ছে, ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের মুনাফা বাড়বে। সম্প্রতি আমরা দেখেছি সিআরআর কমিয়ে বা এডি রেশিও বাড়িয়ে দিয়েও ব্যাংকের ঋণের সুদের হার তো কমেইনি বরং বেড়েছে।
ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, এবারের বাজেটে অবকাঠামো খাতে এক লাখ ২৭ হাজার ১৯ কোটি টাকা বরাদ্দ আছে, যা বাজেটের ২৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ। অবকাঠামো খাতের বরাদ্দ বাড়ছে ঠিকই, কিন্তু কাজের মান বজায় রাখা নিয়ে সব সময়ই আমাদের সমস্যা ছিল। সম্প্রতি এফবিসিসিআই সংবাদ সম্মেলন করেছে বাজেট নিয়ে। সেখানে তারা দুটি বিষয় চিহ্নিত করেছেন, তা হচ্ছে ব্যাংক খাত ও কাজের মান নিয়ে। অবকাঠামো খাতের উন্নতি করতে গিয়ে আমার মনে হয় শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এগুলো সঠিকভাবে মনোযোগ পাচ্ছে না বা বরাদ্দ পাচ্ছে না। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে আমাদের আরও বেশি বরাদ্দের প্রয়োজন আছে বলে মনে করি। তিনি বলেন, ব্যাংক খাতের করপোরেট ট্যাক্স কমানো হয়েছে, কিন্তু অন্যান্য করপোরেট খাতের ট্যাক্স কমানো হয়নি। দেখা যাচ্ছে শুধু ব্যাংক খাতের বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। ব্যাংক খাতের দুই দশমিক ৫০ শতাংশ কর কমানো হলো। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা নামমাত্র লাভবান হবেন এবং আমার মনে হয় এর কোনো প্রভাবই বাজারে পড়বে না। কিন্তু ব্যাংকের যারা উদ্যোক্তা বা পরিচালক আছেন এবং যাদের লাখ লাখ শেয়ার আছে তারা বিপুলভাবে লাভবান হবেন।

শ্রুতিলিখন: রাহাতুল ইসলাম