প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

অংশীদারিত্ব বিক্রি নয় পুঁজিবাজারেই আসছে আরামকো  

 

শেয়ার বিজ ডেস্ক : চীন বা অন্য দেশের কারও কাছে অংশীদারিত্ব বিক্রির পরিকল্পনা নেই সৌদি আরবের রাষ্ট্রমালিকানাধীন তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর। কোম্পানিটি আগামী বছরের দ্বিতীয়ার্ধেই প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) আসছে। প্রতিষ্ঠানটির অংশীদারিত্ব কিনতে চীনের প্রস্তাব ও ঘোষণা দিয়েও পুঁজিবাজারে না আসার যে গুজব ছড়িয়েছিল তা স্পষ্ট করতে গতকাল আরামকোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আমির নাসের এসব কথা জানান। খবর সৌদি গেজেট।

সম্প্রতি বৃহৎ তেল কোম্পানিটির পাঁচ শতাংশ বা তারও বেশি শেয়ার কিনতে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি পেট্রোচায়না ও সিনোপেক প্রস্তাব দেয়। এর প্রেক্ষিতেই নাসের স্পষ্ট করলেন বিষয়টি।

এছাড়া পুঁজিবাজারে আসার পরিকল্পনার কথা আগেই জানিয়েছিল সৌদি আরামকো। কিন্তু সম্প্রতি ফিন্যান্সিয়াল টাইমস এক খবরে জানায়, সৌদি আরামকো প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) আসার পরিবর্তে প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের উপায় খুঁজছে।

বাজারে আসার পরিকল্পনা থেকে সরে পড়ার এ খবরও প্রত্যাখ্যান করেছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি জানিয়েছে, পুঁজিবাজারে আসার পথেই এগুচ্ছে তারা।

গতকাল সিএনবিসি টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নাসের বলেন, আমরা সব সময় বলে আসছি, ২০১৮ সালেই আইপিও আসবে আমাদের। কিন্তু তারপর নানা গুজব ছড়ায় মানুষ।

তিনি বলেন, এবার আমি সবাইকে নির্দিষ্ট করে বলতে চাইÑ২০১৮ সালের দ্বিতীয়ার্ধেই প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে আসছে আমাদের কোম্পানি। রিয়াদের স্টক এক্সচেঞ্জ ও একটি বিদেশি এক্সচেঞ্জে কোম্পানিটি তালিকাভুক্ত হবে।

নাসের আরও বলেন, পুঁজিবাজারে আসার পাইপলাইনেই আছে আরামকো। আইপিওর সব কাজ করা হচ্ছে। আইপিওর স্থান ও শেয়ার বণ্টন নিয়ে এখন কাজ চলছে।

তিনি বলেন, কোম্পানিটির পাঁচ শতাংশ শেয়ার ছাড়ার পরিকল্পনা আছে সরকারের। যেটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় কোনো আইপিও হতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে সরকার বাজার থেকে অতিরিক্ত ১০০ বিলিয়ন ডলার অর্থ সংগ্রহ করবে, এতে আরামকোর মূল্য দুই লাখ কোটি ডলারে পৌঁছাবে।

পুঁজিবাজারে আসতে ইতোমধ্যে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দিয়েছে কোম্পানিটি। এ জন্য আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান জেপি মরগান চেইজ অ্যান্ড কোম্পানি, মরগান স্ট্যানলি ও এইচএসবিসিকে বেছে নিয়েছে।

গত আড়াই বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের টানা দরপতন সৌদি আরবের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে দেয়। দেশটি এখন তেলে নির্ভরতা কমাতে চাইছে। এ পরিকল্পনার আওতায় ভিশন-২০৩০ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ওই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেও শেয়ার বিক্রির এ পরিকল্পনা।

আরামকো সম্পর্কে ধারণা দিতে গিয়ে সৌদির ডেপুটি যুবরাজ এক সময় জানান, আরামকোর জাস্ট এক শতাংশ শেয়ার যদি বাজারে ছাড়া হয়, তবে তা হবে বিশ্বে সবচেয়ে বড় কোনো আইপিও।

দ্য ইকোনমিস্টের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের মোট রিজার্ভের ১৫ শতাংশেরও বেশি বা প্রায় ২৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আছে এ কোম্পানিতে।