নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রবাসী আয়ের উচ্চ ধারা অব্যাহত রয়েছে। অক্টোবরে মাসজুড়ে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩১ হাজার ২১০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১২১.৭৫ টাকা হিসাবে)। এ রেমিট্যান্স আগে মাসের চেয়ে কিছুটা কম, তবে আগের বছরের অক্টোবর মাসের চেয়ে কিছুটা বেশি। গতকাল রোববার এ তথ্য প্রকাশ করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, অক্টোবরের পুরো সময়ে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৬ কোটি ৮৪ লাখ ডলার বেশি এসেছে। গত বছরের একই সময়ে (অক্টোবর ২০২৪) রেমিট্যান্স এসেছিল ২৩৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের মাসভিত্তিক প্রবাসী আয়ের প্রবাহ ছিল যথাক্রমেÑজুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৯ লাখ ডলার এবং সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের মার্চ মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহ সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ডলারে পৌঁছেছিল, যা ছিল ওই অর্থবছরের সর্বোচ্চ রেকর্ড। পুরো অর্থবছরে প্রবাসী আয় দাঁড়ায় ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার, আগের বছরের তুলনায় ২৬ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছিল ২৩ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার। ওই অর্থবছরের মাসভিত্তিক রেমিট্যান্স ছিলÑজুলাইয়ে ১৯১.৩৭ কোটি, আগস্টে ২২২.১৩ কোটি, সেপ্টেম্বরে ২৪০.৪১ কোটি, অক্টোবরে ২৩৯.৫০ কোটি, নভেম্বরে ২২০ কোটি, ডিসেম্বরে ২৬৪ কোটি, জানুয়ারিতে ২১৯ কোটি, ফেব্রুয়ারিতে ২৫৩ কোটি, মার্চে ৩২৯ কোটি, এপ্রিলে ২৭৫ কোটি, মে মাসে ২৯৭ কোটি এবং জুনে ২৮২ কোটি ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, অক্টোবরে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার। রাষ্ট্র মালিকানাধীন বিশেষায়িত কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ২৪ কোটি ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার।
বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১৮৩ কোটি ৮৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার। বাংলাদেশে ব্যবসারত বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৬৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার।
অক্টোবর মাসে কোনো প্রবাসী আয় আসেনি রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) মাধ্যমে।
বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে আইসিবি ইসলামী ব্যাংক ও পদ্মা ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী আয় আসেনি। বিদেশি মালিকানাধীন হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান ও স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার মাধ্যমে কোনো প্রবাসী আয় আসেনি।
ব্যাংকাররা জানান, দেশের ডলার মার্কেট এখন স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে। পাশাপাশি খোলা বাজারে হুন্ডির প্রভাব কমে যাওয়ায় ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স বাড়ছে। বর্তমানে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে যে রেট পাচ্ছেন, তা খোলা বাজারের ডলারের দামের প্রায় কাছাকাছি। ফলে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলেই রেমিট্যান্স পাঠাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন।
তারা আরও জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দেশে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্সের প্রবাহ বেড়েছে। গত এক বছর ধরেই প্রতি মাসে গড়ে প্রায় আড়াই বিলিয়ন ডলার করে রেমিট্যান্স আসছে ব্যাংকিং চ্যানেলে।
প্রিন্ট করুন





Discussion about this post