সম্পাদকীয়

অগ্নিপ্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি

বারবার ঘটছে অগ্নিকাণ্ড। পূর্ব সতর্কতা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে, কিন্তু পরিকল্পনামাফিক স্থায়ী কোনো সমাধান চোখে পড়ছে না। ২০০৮ সালের পর থেকে সারা দেশে আগুনে পুড়ে মারা গেছে প্রায় এক হাজার ৭০০ জন। এ সময়ে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে প্রায় এক লাখ ৬৯ হাজারটি। চিত্রটি নিঃসন্দেহে ভয়াবহ। এমনকি প্রতিবছর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে এবং গত বছর সবচেয়ে বেশি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের শক্ত পদক্ষেপ অনিবার্য। পাশাপাশি বিভিন্ন ভবন মালিক, কারখানা কর্তৃপক্ষ এবং সর্বোপরি জনসাধারণেরও সচেতনতার প্রয়োজন রয়েছে। এ ব্যাপারে সরকারের নির্দেশনা থাকলেও যারা মানছে না তাদের খুঁজে বের করার দায়িত্বও সরকারের ওপর বর্তায়। আগুন নির্বাপণ সক্ষমতা থাকার শর্তে শিল্প-কারখানার অনুমোদন দেওয়া হলেও তার বাস্তবায়ন দেখা যায় না। আবার অনেক কারখানা লাইসেন্স ছাড়াই চলছে। এসব ক্ষেত্রে আগুন প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগ কেন থেমে যায়, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তবে রাজনৈতিক প্রভাব কিংবা প্রশাসনিক তদারকি সুশাসনের অভাব নিয়েও বিভিন্ন স্তরে সন্দেহ রয়েছে। এসব সংকট কাটিয়ে উঠতে সরকার আশু ও জোরালো উদ্যোগ নেবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।

কেরানীগঞ্জে বুধবারের অগ্নিকাণ্ডে ১৩ জনের মৃত্যু হলো। কারখানাটির যে লাইসেন্স ছিল না, তা জানা গেল অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের পর। কিন্তু দেশের প্রতিটি শিল্প-কারখানার লাইসেন্স থাকা কিংবা তার হালনাগাদ অবস্থার নিয়মিত তদারকির দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না। এক জরিপে দেখা গেছে, পুরান ঢাকার বেশিরভাগ রাসায়নিক ব্যবসায়ী, কারখানা কিংবা দোকানির নিবন্ধন নেই। এর কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীদের রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করছে বলে জানা যায়। কেরানীগঞ্জের প্লাস্টিক কারখানা পরিদর্শন, ঝুঁকি নির্ধারণ ও নিরসনের কার্যক্রম এখন চলছে। কিন্তু কার্যক্রমটি কেবল দুর্ঘটনাকবলিত এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকলে তা স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ বলে মনে হয় না। কেননা সারা দেশেই এমন ঝুঁকিপূর্ণ অনুমোদনহীন ও আগুন নিয়ন্ত্রণে অক্ষম ভবন এবং কারখানায় শিগগিরই পরিদর্শনের উদ্যোগ নেওয়ার বিকল্প নেই। কেননা, যে কোনো মুহূর্তেই এসব স্থানে অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে। জনবহুল এই শহরে বহুতল ভবন নির্মাণ হচ্ছে। এসব ভবন নির্মাণে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পরও কেন ভবনগুলোতে অগ্নিনির্বাপণ সক্ষমতা থাকে না, সে প্রশ্ন যৌক্তিক। আবার ভবন বা কারখানায় লাইসেন্স প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা কিছু দিনের জন্য রাখা হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্থায়ী পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয় না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে তার তদারকিও হতে দেখা যায় না। এ বিষয়ে আশু উদ্যোগ নেওয়ার বিকল্প নেই।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..