প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

অগ্নি দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা কাম্য

শনিবার চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার শীতলপুরে বিএম কনটেইনার ডিপোর আগুন থেকে বিস্ফোরণে ৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস আগুন লাগার খবর পায় শনিবার রাত ৯টা ২৫ মিনিটে। আগুন নেভাতে নিকটস্থ কুমিরা ও সীতাকুণ্ড ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ওই দুটি দলের ২৬ সদস্যের সবাই হতাহত হয়েছেন। তাদের ৯ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে। তিনজন নিখোঁজ। বাকি ১৪ জন দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, এর আগে কখনও একটি ঘটনায় এত অগ্নিনির্বাপণকর্মীর মৃত্যু হয়নি। ডিপো কর্তৃপক্ষ তাদের ফোন করেনি। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে টেলিফোন পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নেভাতে ছুটে যান। অগ্নিনির্বাপণকর্মীদের ধারণা ছিল, কনটেইনারের ভেতর পোশাকসহ অন্য মালামাল রয়েছে। আগুন নেভানোর কাজ শুরু করার পরও ডিপো কর্তৃপক্ষ জানায়নি যে কনটেইনারে রাসায়নিক (হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড) আছে। ফলে বিস্ফোরণের সময় ডিপোর ভেতরে যারা ছিলেন, তারা আর অক্ষত অবস্থায় ফিরতে পারেননি।

শ্রম আইন, ২০০৬ এবং শ্রম বিধিমালা ২০১৫ অনুযায়ী, বড় ধরনের কোনো স্থাপনা বা কোনো কারখানার অগ্নিনিরাপত্তা পরিকল্পনা থাকতে হয়। তাতে বলা থাকবে, প্রতিষ্ঠানে কী ধরনের দাহ্য পদার্থ আছে, অগ্নিদুর্ঘটনা প্রতিরোধের বিষয়ে বিশদ বর্ণনা। নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়ার পরও দুর্ঘটনা ঘটলে কীভাবে তার ব্যবস্থাপনা হবে, তাও থাকতে হবে পরিকল্পনায়।

সীতাকুণ্ডের যে ডিপোতে অগ্নিদুর্ঘটনা ঘটেছে, সেটি যৌথ উদ্যোগের প্রতিষ্ঠান। মালিকানায় রয়েছেন ইউরোপের একটি দেশের বিনিয়োগকারীরা। তাই মনে হতে পারে, সেখানে একটি অগ্নিনিরাপত্তা পরিকল্পনা আছে। কিন্তু ‘মনে  কিংবা বিশ্বাস হওয়ার’ ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা সমীচীন নয়। অবশ্যই রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষকে  নির্দিষ্ট সময় পরপর পরখ করে দেখতে হবে অগ্নিনিরাপত্তা পরিকল্পনা হালনাগাদ করা আছে কি না এবং তা থাকলে কর্তৃপক্ষ সন্তুষ্ট আছে, এ মর্মে সনদ নিতে হবে। এটি দুঃখজনক অগ্নিদুর্ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পর ব্যাপক ক্ষতি ও প্রাণহানির পর সামনে আসে, প্রকৃতই যথাযথ মান সংরক্ষণ করা হয়নি এবং বছরের পর বছর পরিদর্শন ও মূল্যায়ন হয়নি। এমনকি নিয়ন্ত্রক সংস্থার মাঠকর্মীরা মাঠে না গিয়ে অফিসে বসেই সনদ দিয়েছেন। যেসব প্রতিষ্ঠান আমদানি-রপ্তানি করে, সেখানে ম্যাটেরিয়াল সেফটি ডেটা শিট (এমএসডিএস) থাকে। কী ধরনের দাহ্য পদার্থ কনটেইনারে আছে, তা লেখা থাকবে। এর পাশাপাশি এসব পদার্থের ব্যবহার কেমন করে করতে হবে, তাও উল্লেখ থাকতে হবে। দাহ্য পদার্থ ভেদে অগ্নিনির্বাপণের পদ্ধতিও ভিন্ন হয়। সব আগুন পানিতে নেভে না। বরং বেড়ে যায়। কোনো প্রতিষ্ঠান অগ্নিদুর্ঘটনার ঝুঁকিতে থাকুক বা না থাকুক, ওই প্রতিষ্ঠানের সর্বস্তরের জনবলকে দুর্ঘটনা মোকাবিলায় করণীয় সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে। প্রতিষ্ঠানের দৃশ্যমান স্থানে বিশেষ করে প্রবেশপথে অগ্নিদুর্ঘটনা মোকাবিলায় করণীয় সম্পর্কে নির্দেশনা থাকতে হবে। দুর্ঘটনা দুর্ঘটনাই। কিন্তু আমাদের দায়িত্বহীনতায় যেন কোনো  দুর্ঘটনা সংঘটিত না  হয়, সে লক্ষ্যে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।